রাজনীতির ‘তালিকা’ বনাম তালিকার ‘রাজনীতি’

এম. কে. দোলন বিশ্বাস শনিবার, নভেম্বর ২৩, ২০১৯ ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

স্বাধীনতার ইতিহাস, বিদ্যমান সরকার ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং মানুষের রাজনীতিমনস্কতা কেন্দ্র করে আবর্তিত বাংলাদেশের রাজনীতি। ১৯৭১ সালের অস্থায়ী সরকার গঠন এবং অস্থায়ী সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা অন্ততপক্ষে পাঁচবার পরিবর্তিত হয়েছ। বর্তমান সরকার ব্যবস্থা সংসদীয় পদ্ধতির। এই পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে সরকারের প্রধান ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। বহুদলীয় গণতন্ত্র পদ্ধতিতে এখানে জনগণের সরাসরি ভোটে জাতীয় সংসদের সদস্যরা নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও বারংবার প্রশ্ন বিদ্ধ হচ্ছে নির্বাচন পদ্ধতি।

যে কারণে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ক্ষমতাসীন দলের ভিতর হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ কিংবা ফুলেফেপে অর্থবিত্তের মালিক বনে যাওয়ার নজির বিদ্যমান। ফলে স্বদলীয় লীডারদের চাপ ক্রমেই বৃদ্ধি পায়। দলে বেড়ে যায় রাজনৈতিক আগাছা। সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক সংকট। দেখা দেয়, খোদ ক্ষমতাসীন দলে চরম বিশৃঙ্খলা। বেসামাল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের লীডারদের স্বদলীয় সাঙ্গপাঙ্গদের লাগাম টেনে ধরতে গ্রহণ করতে হয় নানাবিধ পদক্ষেপ।

এমন একটি পদক্ষেপের নাম ‘তালিকা’। এটি মূলত ‘রাজনীতির তালিকা।’ এ তালিকা শুরুর চমক থাকলেও সমাপ্ত হয় প্রশ্নবিদ্ধের মধ্য দিয়ে। সেকারণে এটাকে বলা হয় ‘তালিকার রাজনীতি’। এ দু’য়ে মিলেমিশে যখন একিভূত হয়, ঠিক তখনই অপ্রত্যাশিত ভাবে ‘রাজনীতির তালিকা বনাম তালিকার রাজনীতি’ নাটক মঞ্চায়ন হতে দেখা যায়।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অতীতে যখনই ক্ষমতাসীন দলের তরফ থেকে তালিকা অভিযান শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই তালিকা অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। রাজনীতির বিভিন্ন পালাবদলে সব সময় তালিকা হয়েছে। কিন্তু তালিকা সব সময় সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি। অতীত ইতিহাসে যতবারই তালিকা হয়েছে, সেই তালিকার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার নজির পরিলক্ষিত হয়নি।

ক্যাসিনো তালিকার চমক হলো, এই প্রথম ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে তালিকা হলো। কিন্তু তাতেও কতগুলো অসঙ্গতি আছে। যেমন যুবলীগ হঠাৎ আলোচনায় এলো। এরপর কাউন্সিলররা এলেন। এরপর আর তালিকায় কেউ পড়লেন না। তবে কয়েকজন কাউন্সিলর ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। আরো এক ডজনের বেশি গ্রেপ্তার এড়াতে নজরের আড়ালে চলে গেছেন।

গত পুরো একটা দশক গেলো এক এগারোতে দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলা নিয়ে। এক এগারোতে টাস্ক ফোর্স হয়েছিল। ওই অভিযানও গোড়ায় বাহবা কুড়িয়েছিল। বড় বড় শিরোনাম তৈরি হয়েছিল গণমাধ্যমে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, ওই অভিযান সবার জন্য সমান ছিল না। অল্প কিছুদিনের মধ্যে তা মুখ থুবড়ে পড়ে। জন্ম দেয় নানা বিতর্কের।

ইতিহাসের প্রতিটি তালিকারই একটা চমক পরিলক্ষিত হয়। তৈরি হয় নানাবিধ বাহারি-রকমারি শিরোনাম। বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা সব সময় রমরমা খবরের খাদ্যে পরিণত হয়। সীমান্তে রেড এলাটও জারির নজির আছে। কিন্তু এরপরে একটা সময়ে সেটা থেমে যায়। এবার চলমান ক্যাসিনো তালিকা থেমে যাবে কি-না, সেটা দেখবার বিষয়। দুদকের কর্মকর্তারা বলেছেন, এবারে ৪৩ জনের একটা তালিকা করা হয়েছিল। গত ২৩ অক্টোবর তার মধ্যে থেকে ২২ জনের নাম বিমানবন্দরে গেছে। ওই ২২ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে থেমে থেমে অভিযান চলার কথাও দুদক বলেছে।

১/১১-তে ট্রুথ কমিশনে অনেকেই তাদের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বিবরণী দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তারা বিপদে পড়েছেন। কারণ আদালত ওই আইনের বৈধতা দেয়নি। পার্লামেন্ট আইন করতে যায়নি। লক্ষণীয় যে, যখন আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেয়া হয় না, তখন তালিকা হয়। তালিকা একটা দেশের সাধারণ নিয়মের মধ্যে পড়ে না। বরং বিশেষ অবস্থা নির্দেশক। দুর্নীতি দমনকে সব সময়ই একটা বিশেষ বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে উপমহাদেশীয় রাজনীতিতে। দুর্নীতি দমনের কথাগুলো বারংবার রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু দেখা গিয়েছে যে চূড়ান্তভাবে সেটা অসার হয়েছে।

ক্যাসিনো ব্যবসা চালিয়ে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়াদের নিয়ে অনুসন্ধান চলাচ্ছে দুদক। অভিযুক্তদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাদের নামও বেরিয়ে আসছে।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুদক অনুসন্ধান দলের হাতে ইতোমধ্যে অন্তত একশ’ জনের নাম এসেছে। এর মধ্যে ৭৫ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে চলছে পর্যালোচনা। এদের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। দুদক সূত্র মতে, যে ৭৫ জনের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে তাদের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরেরই ১১ কর্মকর্তা রয়েছেন। যারা নানা অনিয়মের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

শুধু তাই নয়, তালিকায় নাম থাকা গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাইকে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে দুদক। এছাড়াও গত ২৩ অক্টোবর অভিযুক্তদের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আরো ২০ জনের তালিকা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) বিশেষ পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। পর দিনই দেশে মানি লন্ডারিংসহ বিদেশে অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলা সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

দুদকের তথ্য মতে, এই এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভোগ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দেশের অবৈধ অর্থ দিয়ে বিদেশেও গড়েছেন বাড়ি-গাড়ি। অর্থও পাচার করেছেন মোটা অংকের। এসব অভিযোগ এখন দুদকের অনুসন্ধান টেবিলে রয়েছে। এরই মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন রতন পালানোর চেষ্টা করেছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে তাকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র বলছে, ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে দুদকরে তালিকায় নাম চলে আসে ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের। অভিযোগ রয়েছে, ভোলাতে একাধিক টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত তিনি। এমনকি এসব টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন শাওন। এছাড়াও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দেয়া খালেদ ও সম্রাটের তথ্যে জানা যায়, ক্যাসিনোতে শাওনের নাম না থাকলেও ঢাকার একাধিক ক্লাব নিয়ন্ত্রণ হতো তার মাধ্যমে। ক্লাবে ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন জুয়া থেকে আয় করা অর্থের একটি বড় অংশ যেত শাওনের কাছে।

এসব অর্থের বেশিরভাগই বিদেশে পাচার করেন তিনি। এছাড়াও দেশে বিদেশে অনেক সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে দুদকের কাছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের এমপি সরকার দলীয় হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধেও দুদকের অনুসন্ধান চলমান। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে, চট্টগ্রামের এই প্রভাবশালী এমপি ক্যাসিনোর মাধ্যমে অঢেল অর্থের মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংসহ বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধান টিমের হাতে রয়েছে। এই দুই এমপিকেও বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এদিকে ক্যাসিনো ব্যবসায় পরিচালনার মাধ্যমে দেশে মানি লন্ডারিং, বিদেশে অর্থ পাচার করে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক একাধিক রাজনৈতিক ব্যাক্তির নামও উঠে এসেছে ওই তালিকায়।

দুদকের হাতে প্রতিদিনই তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অভিযুক্তদের বিষয়ে অনিয়ম দুর্নীতির নানা চমকপ্রদ তথ্য। দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ অর্জনের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে উঠছে, তাদের প্রত্যেককেই অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ দিন গ্রেপ্তার হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। ওইদিন থেকেই ক্যাসিনো নিয়ে সর্বত্র আলোচনা। ৩০ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সংস্থাটির গোয়েন্দা ইউনিট রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বেশ কজনের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো পরিচালনা করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ৪৩ জনের তালিকা তৈরি করে সংস্থাটি। তবে এ সংখ্যা বেড়ে এখন একশ’ জনে ঠেকেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের সবারই অবৈধ সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।

অনুসন্ধান দলের কাছে আসা তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করার অভিযোগে এরই মধ্যে চারটি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় জি কে শামীম, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূইয়াকে আসামি করা হয়। (তথ্যসূত্র : মানবজমিন-২৭.১০.২০১৯)

আমরা বলতে চাই, প্রতিটি তালিকাকরণই এক একটি উপাখ্যান। এটা কিছুদিন চলে। যেমন হঠাৎ করে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে তালিকাবাজরা দুর্নীতিবাজ হননি। তারা হয়তো বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতি করেছেন। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিনিয়োগও করছেন। আর ওই বিনিয়োগ সব সময় ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যকে টিকিয়ে রাখতেও হয়েছে। এমনকি তালিকাভুক্তদের কেউ কেউ হয়তো নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নানাভাবে ভূমিকা রেখে এসেছেন। সুতরাং নানাভাবে বা অনিবার্যভাবেই এটা একটা অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন বয়ে আনবে। তবে দুর্নীতিগ্রস্তরা যেভাবেই অর্থোপার্জন করুক না কেনো, সেটা যদি কখনো জবাবদিহির সম্মুখীন হয়, আর তা যদি ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারকরা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার পরিণতি তাদেরকে ভোগ করতেই হবে।

আইনের শাসনের মূল কথা হচ্ছে, সবার প্রতি সমতা এবং আইন সমাজ ব্যবস্থা সবাইকে একই চোখে দেখবে। কিন্তু কতিপয় দুর্নীতিবাজ এড়িয়ে থাকবেন। কিছু দুর্নীতিবাজ এর বিচার হবে, কখনো তারা জামিন পাবেন। আবার কখনো জামিন পাবেন না। এটা আইন মাফিক না হয়ে যদি রাজনৈতিক আবহাওয়া অনুযায়ী নির্ধারণ হয়, তবে এটা সবপক্ষের জন্যই অমঙ্গল বয়ে আনবে। আইনের শাসনের এই অবস্থাটি বাংলাদেশকে বারবার পিছিয়ে দিয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে ‘অপ্রত্যাশিত রাজনীতি’ বাধা তৈরি করেছে। যদি আইনের শাসন না থাকে এ ক্ষেত্রে ‘পিক অ্যান্ড চুজ পলিসি’ পরিহাসে পরিণত হবে। ২২ জনের পরে আরো ডজন ডজন লোকের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি এটাই প্রমাণ করে যে ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারকদের ব্যর্থতা কতখানি জমা হয়েছিল। যেখানে কারো কারো নাম বিমানবন্দরে পাঠাতে হয়। এই পলিটিক্সের ধূ¤্রজালে বাংলাদেশের রাজনীতি কবে কীভাবে বেরিয়ে আসবে, তা অন্তত পক্ষে আমাদের জানা নেই।

নিষেধাজ্ঞার পরিস্থিতি মাঝে মাঝে একটুখানি নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা তৈরি করে। আবার অনেকেই সন্দিহান, এসব আইনের শাসনের শর্তপূরণ, এটা সুশাসনের শর্তপূরণ, এটা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতিফলন কি-না। কারণ আইনের শাসন তালিকাকরণ সমর্থন করে না। তবে তালিকা কিসের ভিত্তিতে তৈরি হয়, এ প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। কখনো সন্দেহভাজন অপরাধীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিশেষ কারণে তালিকা করার যে রাজনীতি, সেটা আবার রাজনীতিবিদরাই ভালো বলতে পারেন। যখন দেখা যায়, সংখ্যায় বেশি হয়ে গিয়েছে, তখন তালিকাভুক্ত হয়, অঙ্কটা এমন সোজা নয়। বরং অঙ্কটা বেশ জটিলই বটে। সুতরাং সাবধান ‘সাধু’।

[এম. কে. দোলন বিশ্বাস, দৈনিক সংবাদের সাবেক সহ-সম্পাদক]