ঘুর্ণিঝড় বুলবুল ভাসিয়ে নিল প্রায় ২৬ কোটি টাকার মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯ ৪:০৯ অপরাহ্ণ

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে ভেসে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের ২৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকার মৎস্য সম্পদ। যা বিভিন্ন ঘের, পুকুর দিঘী থেকে জোয়ার এবং বন্যার পানির সাঙ্গে ভেসে গেছে। ঘুর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ পরবর্তী বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয়ের প্রাথমিক জরিপে ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান বেরিয়ে আসে।

বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোডস্থ মৎস্য ভবনে বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ‘দক্ষিণাঞ্চল তথা বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলায় ঘুর্ণিঝড় বুলবুল এর কারনে মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যা সর্বশেষ সিডরের পরে আর হয়নি। এক দিকে বন্যার পানি, অন্য দিকে জোয়ারের পানিতে পুকুর, ঘের, দিঘী ও জলাশয়ের পানি উপচে পড়ায় ভেসে গেছে কোটি কোটি কাটার চাষের মাছ।

মৎস্য ভবন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঘুর্ণিঝড়ের কারনে বরিশাল বিভাগে মোট ২৫ কোটি ৭৯ দশমিক ১৪ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। যার মধ্যে রয়েছে বড় মাছ, চিংড়ি ও বিভিন্ন পোনা মাছ।

মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল জেলার ৫৭টি ইউনিয়নের ২ হাজার ২২০টি পুকুর ও দিঘীর ৩৫৯.১২ মেট্রিকটন বড় মাছ ও ১২৩.৫৭ লক্ষ পোনা ভেসে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ১১ কোটি ৮৫ দশমিক ৮৫ লাখ।

ঝালকাঠি জেলার ৩৪টি ইউনিয়নের ৯৪২টি পুকুর ও দিঘীর ১৩৩ দশমিক ৯৮ মেট্রিকটন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩৬ দশমিক ৮০ লাখ টাকা।

পিরোজপুর জেলার ৪৭টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৬৫টি পুকুর ও দিঘী এবং ৪৪৬টি মাছের ঘের থেকে ৪১৭ দশমিক ০৮ মেট্রিকটন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ১২৫ মেট্রিকটন চিংড়ি ও ৪ দশমিক ২০ লাখ পোনা ভেসে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬২ দশমিক ৫৫ লাখ টাকা।

পটুয়াখালীর ১৯টি ইউনিয়নের ২৮০টি পুকুর ও দিঘী এবং ১৫০টি মাছের ঘের থেকে ৩০ মেট্রিকটন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও ১৫ মেট্রিকটন চিংড়ি বেড়িয়ে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৬২ লাখ টাকা।

ভোলা জেলার ৪৮টি ইউনিয়নের ১ হাজার ১৪৯টি পুকুর ও দিঘী এবং ১২টি ঘের থেকে ৭৬৪ মেট্রিকটন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, চার মেট্রিকটন চিংড়ি ও ৭৪ লাখ পোনা ভেসে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

বরগুনা জেলার ২০টি ইউনিয়নের ৬০টি পুকুর ও দিঘী এবং ৩৪টি মাছের ঘের থেকে ৩২ দশমিক ২২ মেট্রিকটন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, শূণ্য দশমিক ২৫ মেট্রিকটন চিংড়ি ভেসে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৬৪ দশমিক ৯৪ লাখ টাকা।

মৎস্য বিভাগ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ‘ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে বরিশাল বিভাগে মোট ১০ জেলে নিহত এবং ১৮ আহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১২০টি মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার। যার আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ১৫ দশমিক ৬০ লাখ টাকা।

এছাড়া ৮৮ লাখ টাকার মাঝ ধরা জাল এবং ১ কোটি ৪২ দশমিক ২০ লাখ টাকার পুকুর, ঘের ও স্লুইচ গেইট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মৎস্য বিভাগের হিসেব অনুযায়ী মৎস্যসহ অন্যান্য সকল বিষয়ে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমান ৩০ কোটি ২৫ দশমিক ১৪ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করে তা মৎস্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থদের কোন প্রকার সহায়তা প্রদান করা হবে কিনা সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন দিক নির্দেশনা আসেনি। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।