স্বাক্ষর জালিয়াতি : জেলা পরিষদের দুই সদস্য’র বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৭, ২০১৯ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

বরিশাল জেলা পরিষদের দুই সদস্যর বিরুদ্ধে হয়রানি ও মানহানির অভিযোগে সাধারন ডায়েরী (জিডি) করেছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মইদুল ইসলাম। জিডি নং- ৭৯। গত ২ নভেম্বর কোতয়ালী মডেল থানায় করা ডায়েরীতে পরিষদের দুই সদস্যর বিরুদ্ধে চার সদস্যর স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলো- জেলা পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য মুনাওয়ারুল ইসলাম অলি ও ৯ নং ওয়ার্ডের মো. জিল্লুর রহমান মিয়া। এদের মধ্যে মুনাওয়ারুল ইসলাম অলি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি’র ভাই।

জিডিতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মইদুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, ‘গত ২৮ অক্টোবর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তার বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয় মুনাওয়ারুল ইসলাম অলি ও মো. জিল্লুর রহমান মিয়া। ওই অনস্থা পত্রে জেলা পরিষদের ১৬ জন সদস্যর স্বাক্ষর ছিল।

কিন্তু পরে চার সদস্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হাজির হয়ে অনাস্থা প্রস্তাবে দেয়া স্বাক্ষর তাদের নয় বলে জানিয়ে প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছেন। অপর ১২ জনের স্বাক্ষর স্ক্যান ও ফটোকপি করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতারনার মাধ্যমে দাবী আদায়ের কথা বলে আট সদস্যর স্বাক্ষর নেয়া হয়। পরে সেই স্বাক্ষর স্ক্যান করে অনাস্থা প্রস্তাবে দেয়া হয়েছে।

হয়রানি ও মানহানি করার জন্য জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাক্ষর নেয়ার বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করেছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মইদুল ইসলাম। জিডির সাথে দেয়া হয়েছে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেয়া জেলা পরিষদের সংরক্ষিত ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য পিয়ারা বেগম, সংরক্ষিত ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের উর্মিলা বাড়ৈ ও সাধারন ১০ নং ওয়ার্ডের মো. দলিলুর রহমান সিকদারের দেয়া প্রত্যয়ন পত্র।

পিয়ারা বেগমের দেয়া প্রত্যয়ন পত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যে অনাস্থা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সেই বিষয়ের আমি অবগত নই। ওই অনাস্থা প্রস্তাবে তিনি স্বাক্ষর করেননি উল্লেখ করে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।

উর্মিলা বাড়ৈ নিজ হাতে লেখা প্রত্যয়ন পত্রে উল্লেখ করেছেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করি নাই। জেলা পরিষদ সদস্যদের ১৯ দফা দাবি সম্বলিত পত্রে স্বাক্ষর করেছি। বিষয়টি অবহিত ও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দিয়েছেন উর্মিলা বাড়ৈ। একইভাবে অনাস্থা প্রস্তাব সম্পর্কে অবগত নন উল্লেখ করে মো. দলিলুর রহমান সিকদার লিখেছেন যে তিনি স্বাক্ষর করেননি।