খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চাখার শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর

রাহাদ সুমন, বানারীপাড়া বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৭, ২০১৯ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বরিশালের বানারীপাড়ায় চাখার শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর । ১৯৮২ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের অধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে চাখারের প্রানকেন্দ্রে ২৭ শতক জমির ওপর শের-ই বাংলা স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ সহ আনুষাঙ্গিক কাজ শুরু করা হয়। আয়তকার ভূমি পরিকল্পনায় ৪৩ মিটার দীর্ঘ ও ১৪.৬০ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট এ জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়।

জাদুঘরের এ জমিটি শের-ই বাংলার নিজস্ব বসত ভিটার অংশ। জাদুঘর লাগোয়া দক্ষিন পশ্চিম পাশে শের-ই বাংলার বিশ্রাামাগার ও ফজলুল হক ইনস্টিটিউশন,পূর্ব পাশে মসজিদ,পারিবারিক কবরস্থান,পিছনে উত্তর প্রান্তে বসতভিটাএবং এর অদূরে ১৯৪০ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সরকারী ফজলুল হক কলেজ রয়েছে।

১৯৮৩ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এ জাদুঘরটি চালু সহ জনবল নিয়োগ করা হয়।এখানে বর্তমানে ৭জন ষ্টাফ কর্মরত রয়েছেন। জাদুঘরের ভিতরে মোট ৫টি কক্ষ রয়েছে। পশ্চিম প্রান্তের কক্ষটি সহকারী কাস্টোডিয়ানের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাঝের বড় দু’টি কক্ষে শের-ই বাংলার বিরল আলোকচিত্র,ব্যবহৃত আসবাবাপত্র, চিঠিপত্র ও দ্রব্যাদি সহ একটি কুমিরের খোলস রয়েছে।

ছোট একটি কক্ষ বিশ্রামাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা শের-ই বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবন সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে ও ধারণা দিতে এ জাদুঘরটি ভূমিকা রাখছে। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা মহান এ নেতার স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শণে আসেন।

এখানে বিভিন্ন সময় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব, জাতীয় সংসদদের চিফ হুইপ হুইপ, এমপি, বরেণ্য রাজনীতিক, বিভিন্ন দেশের কুটনীতিক, সাংবাদিক, গবেষক পরিদর্শনে এসেছেন। কিন্তু বহুতল ভবন নির্মাণসহ জাদুঘরটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।পরিদর্শনের সময় অনেকেই নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পরে প্রতিশ্রুতির মধ্যেই থেকে যায়। এমনকি শের-ই বাংলার একমাত্র পুত্র প্রয়াত একে ফায়জুল হক বিভিন্ন সময় সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও পিতার স্মৃতিঘেরা এ জাদুঘরটিকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি।

জাদুঘরের একতলা ভবনটি ভেঙ্গে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ, শের-ই বাংলার শৈশব,কৈশোর, ছাত্র জীবন, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবন সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে তার ওপর গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, পর্যটকদের সঙ্গে আসা শিশুদের জন্য পার্ক নির্মাণ, পর্যটকদের থাকার জন্য আবাসস্থল, শের-ই-বাংলার বিষয়ে আরও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও দক্ষ জনবল বাড়ানো সহ জাদুঘরটিকে আরও সমৃদ্ধ করা হলে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চাখার ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার ব্যক্তি বিশেষের দখলে থাকা শের-ই-বাংলার বিশ্রামাগারটিকে শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘরের অধীনে নিয়ে মহান এ নেতার স্মৃতিঘেরা এ প্রতিষ্ঠান দু’টিকে সংস্কার করার দাবী জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহে আলম বলেন অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী বিশ্ববরেণ্য নেতা শের-ই-বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মৃতিকে ধরে রাখতে ও তার আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে আলাপ করে তাঁর স্মৃতি জাদুঘরটিকে আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও আকর্ষনীয় করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।