কলাপাড়ায় গ্রামীন জনপদে তৈরী হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন এক উপশহর

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৭, ২০১৯ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গ্রামীন জনপদে করা তৈরী হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন এক উপশহর। উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে বিরামহীন ভাবে চলছে এ প্রকল্পের কাজ। ইতিমধ্যে সত্তোর ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ’পটুয়াখালী ১৩২০ মেঘাওয়াট’ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমি অধিগ্রহনে ক্ষতিগ্রস্থ ২৮১টি পরিবার এ উপশহরের পাচ্ছে মাথা গোজার ঠাই। ২০২০ সালের জুনে ক্ষতিগ্রস্থদের অধুনিক এ উপশহরে পূর্নবাসন নিশ্চিত করেই শুরু হবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান কাজ, এমনটাই জানিয়েছেন র্নিমান প্রতিষ্ঠান আরপিসিএল।

জানা গেছে, দক্ষিনাঞ্চলের জেলা পটুয়াখালী ও বরগুনাকে ঘিরে ৩০হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অঞ্চল নির্মানের ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মিত হচ্ছে আরও একটি ১৩২০ মেঘাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। দেশীয় আরপিসিএল ও চায়নার নরিনকো কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে র্নিমিত এ বিদ্যুৎ প্লান্টের জন্য উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে অধিগ্রহন করা হয়েছে ৯১৫ একর জমি। এতে সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ে ২৮১টি পরিবার। বসতভিটা হারানো এসব পরিবারের পূর্নবাসনে ১’শ ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৯ একর জমির উপড় আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করে সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরপিসিএল (রুরাল পাওয়ার কম্পানি লিমিটেড)।

প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে এ পুর্নবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এ টাইপ ও বি টাইপের ২৮১টি ঘরের প্রতিটিতে থাকছে বেড রুম, ডাইনিং, রান্নাঘর ও বাথরুম। এরমধ্যে ২৬১টি গৃহ হচ্ছে ১ হাজার স্কয়ার ফিটের এবং ২০টি ১২’শ স্কয়ার ফিট আয়তনের। প্রতি ১০টি পরিবারের জন্য থাকছে একটি আঙিনা। রয়েছে বড় আকারের পুকুর। এ পুকুরেই থাকবে দু’টি ওয়াটার বাইক। নিরাপদ পানির ব্যবস্থাসহ ১১হাজার স্কয়ার ফিটের মসজিদ, কমিউনিটি ক্লিনিক কাম সাইক্লোন সেন্টার, কারিগরি প্রশিক্ষন বিদ্যালয়, কাঁচা বাজার, মিনি স্টেডিয়াম, কবরস্থান, শপিং সেন্টার, নির্দিষ্ট কবরস্থান, সৌন্দর্য বর্ধনকারী ফোয়ারা এবং সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধাসহ পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা। থাকছে গাড়ী পার্কিংসহ সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার নিশ্চিয়তায় ৪টি ওয়াচ টাওয়ার।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মূল বিদ্যুৎ প্লান্টের কাজ শুরু হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্থ এসব পরিবারের পুনর্বাসনে সকল নাগরিক সুবিধা সম্বলিত দৃষ্টিনন্দন আবাসন নিশ্চিত করায় খুশি জমি অধিগ্রহনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য দুলাল গাজী বলেন, এখন গ্রামের মধ্যেই হচ্ছে শহর। একই এলাকার গৃহিনী রিনা বেগম জানান, ভ‚মি অধিগ্রহনে স্বামী, শশুরের বসত ভিটা হারিয়ে কষ্ট, হতাশায় ভ‚গছিলাম। টিনের ঘর ছেড়ে এখন পাকা ঘর পাচ্ছি।

আরপিসিএল’র সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, র্নিমানাধীন এ পূর্নবাস প্রকল্পটির এখন পর্যন্ত নামকরন করা হয়নি। ইতিমধ্যে প্রকল্পের সত্তুর ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২০ সালের জুনে শতভাগ কাজ সমাপ্ত হলে ক্ষতিগ্রস্থদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দিবেন প্রধানমন্ত্রী।