তানিশার স্বপ্নগুলো কি আর বাচঁবে না ?

বরিশাল নিউজ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯

বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকার একজন ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম শামীম। মোবাইল ফোনের দোকান তার। প্রতিযোগিতামূলক এ ব্যবসার সামান্য আয়ে স্ত্রী সৈয়দা শাম্মী আক্তার আর দুই মেয়ে ঈশারা আর তানিশার মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা করেন তিনি।

একদিকে সামান্য আয়ের সংসার, অন্যদিকে দুই মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে গিয়ে অসহায় হয়ে দিন কাটাচ্ছিল সামান্য মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম শামীম। কিন্তু পরিবারের উপার্জনের একমাত্র মানুষটির শরীরটা তেমন ভাল যাচ্ছিল না, হয়তো অজানা কোন রোগ বাসা বেধেছিল।

আশংকাই যে সত্যি হয়েছিল, কঠিন রোগ, নীরবে বাসা বেধেছে মরনব্যাধী হার্টের সমস্যা। কষ্টের নির্মম নিষ্ঠুর কষাঘাতে পিষ্ট এই পরিবারে যেন আকাশ ভেঙ্গে মাথায় পড়ছিলো, হঠাৎই হার্টের অসুস্থতায় গত বছরের নভেম্বরে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে না ফেরার দেশে পারিজমান ফখরুল ইসলাম শামীম।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অবলম্বন ফখরুল ইসলাম শামীমের মৃতুতে স্ত্রী সৈয়দা শাম্মী আক্তারের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। হারিয়ে ফেলতে ছিলেন কলিজার টুকরো দুই মেয়ে ঈশারা আর তানিশাকে নিয়ে বেচে থাকার স্বপ্ন। স্বপ্ন ভাঙ্গার কষ্ট নিয়ে স্বামী হারানো সৈয়দা শাম্মী আক্তার কোনভাবে খুজে পেলেন সামান্য আয়ের পথ, অনিয়মিত আয়ের হেপাটাইটিস টিকা প্রদানের কাজ।

মোটামুটিভাবে চলছিল স্বামী হারানো সৈয়দা শাম্মী আক্তারের সংসার। কিন্তু আবারো সেই সংসারে নেমে আসে কালো মেঘের ঘনঘাটা। ‘এ যেন মরার উপর খড়ার ঘা’ ছোটমেয়ে ৮ বছরের শিশু তানিশাও বাবার মত হার্টে সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে। কার্ডিওলজিষ্টরা বলেছেন, হার্টের সমস্যা নিয়েই তানিশা জন্মগ্রহন করেছিলো। তার হার্টে ছিদ্র রয়েছে। তিন বছর আগেই বলেছিলাম ওর অপারেশন লাগবে। বুতাম পড়ালে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে।

তানিশার বাবা মারা যাওয়ার পর মাকে শান্তনা দিয়ে কথা দিয়েছিলো, “মা তুমি কোন চিন্তা করো না। আমি অনেক বড় হব, তোমার কোন কষ্ট হবে না।” তানিশার সেই বড় হওয়ার স্বপ্ন যেন হঠাৎ করেই থমকে যেতে বসেছে দুরারোগ্য ব্যাধির মরন কামড়ে’। সে যে এখন মরনব্যাধির সঙ্গে লড়ছে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে।

কিন্তু এর মধ্যেও তানিশা তার মাকে চিন্তা করতে মানা করেছে। তার বিশ্বাস, সে তো ভালো হয়ে যাবে, আবার লেখাপড়া করবে। ও তো সবেমাত্র ৮ বছরের শিশু। সমাজের আর দশটা দুরন্ত শিশুর মতো যখন সকালে ইউনিফর্ম পরে, ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, দুরন্তপনায় মেতে ওঠার কথা ছিল, ঠোটের কোনে লেগে থাকার কথা ছিল এক চিলতে হাসি।

কিন্তু তাকে দেখে কে বলবে তার মরনব্যাধি সমস্যা? এতেই হারাতে বসেছে দুরন্ত শিশুর হাসি, স্বপ্নভরা চোখে দেখা সোনালী স্বপ্ন, মাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি, বড় হওয়ার বিশ্বাস। তানিশার এই বিশ্বাস কি মিথ্যে হবে? তার স্বপ্নগুলো কি বাঁচবে না?

কার্ডিওলজিষ্ট ডাঃ আশীষ কুমার সাহা এবং ডাঃ হুমায়ুন কবির জানান, তানিশার চিকিৎসা বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেই। তাকে ঢাকা হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে অতি দ্রুত অপারেশন করে হার্টে বুতাম পড়িয়ে দিলে সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে। এতে চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হতে পারে। পিতৃহীন তানিশার মায়ের এই চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব না।

মেয়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন তিনি। এখন সন্তানকে বাঁচাতে এ দেশের বিত্তবান, পরোপকারী, সচ্ছল মানুষের কাছে সাহায্য কামনা করেছেন, দিনরাত ছুটছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে, কেউ যদি একটু সাহায্য করেন। টাকা জোগাড় করতে না পারলে তো বন্ধ হয়ে যাবে চিকিৎসা। নিভে যাবে তানিশার জীবন প্রদীপ।

তাই একজন মা লড়ে যাচ্ছেন তাঁর সবটুকু দিয়ে, সন্তানকে বাঁচানোর জন্য। কারো কাছ থেকে কোন সহযোগীতা না পেয়ে মেয়েকে বুকে চেপে ধরে অঝরে কাঁদছেন। তবে তার বিশ্বাস, ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে এমন মানুষ তো অনেক আছেন, যাঁরা হয়তো একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেই তানিশা সুস্থ হয়ে আবার তাঁর কোলে ফিরে আসবে, বেঁচে যাবে তানিশা আর তার স্বপ্নগুলো। তানিশার স্বপ্নগুলো বাঁচাতে যাঁরা সহযোগিতা করতে চান, তাঁরা যোগাযোগ করতে পারেন, সৈয়দা শাম্মী আক্তার, মোবাইল নম্বর-০১৭১৮০৪৩৮৩১, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড, রূপাতলী, বরিশাল।