শেবাচিমের শয্যায় ঈদ কাটল ৩৩০ ডেঙ্গু রোগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক মঙ্গলবার, আগস্ট ১৩, ২০১৯ ৫:২৭ অপরাহ্ণ

দেশজুড়ে ডেঙ্গু জ্বর এখন আলোচিত একটি ঘটনা। এডিস মশার কামড়ে হওয়া ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুও হয়েছে অনেকের। প্রতিদিন ঢাকা বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে হাজার হাজার মনুষ। গেলো ঈদ উল আযহাতেও থেমেছিলো না রোগী ভর্তি কার্যক্রম।

সারাদেশের ন্যায় বরিশালেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীতে ভরপুর রয়েছে হাসপাতালগুলো। বিশেষ করে শেবাচিম হাসপাতালের শয্যায় ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ঈদ কাটিয়েছেন ৩৩০ জন। তাদের সহ অন্যান্য সকল রোগীদের মাঝে পরিবেশ করা হয়েছে সেমাই, মাংস ও পোলাউ। হাসপাতালে তাদের খোঁজ খবর নিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম-এমপি ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

তবে ঈদের দিনেই শেবাচিম হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা গ্রহন শেষে বাড়ি ফিরেছে ৪০ জন রোগী। যার মধ্যে ২৮ জন পুরুষ, ৭ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ। আর নতুন ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ২৬ জন পুরুষ, ১৩ জন নারী ও ২ জন শিশু। তাছাড়া বর্তমানে চিকিৎসাধিন রোগীর মধ্যে ১৮৯ জন পুরুষ, ৭৮ জন নারী ও ৬৩ শিশু।

এদিকে গড় হিসেবে গত দু-তিন দিনে শেবাচিমে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা কমে গেছে। তবে গড় হিসেবে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা পূর্বের থেকে বেশি একটা বৃদ্ধি না পেলেও সমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ডা. বাকির হোসেন।

অপরদিকে ঈদের ছুটিতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঈদের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত হাসপাতালের প্যাথালজী বিভাগ বন্ধ থাকায় পরীক্ষা নিরীক্ষার ক্ষেত্রে ঝামেলায় পড়তে হয়েছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারই ছিলো শেষ ভরসা।

তাছাড়া হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা নিয়মিত সরকারি ওষুধ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৫% ডি/এ স্যালাইন সহ বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে নিকে আনতে হচ্ছে। তবে হাসপাতাল পরিচালকের দাবি ডেঙ্গু রোগীদের সকল ওষুধ হাসপাতাল থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য গত ১৬ জুলাই থে‌কে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত ব‌রিশাল মে‌ডিকেলে মোট ৯১৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভ‌র্তি হয়েছেন। যারমধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসায় সুস্থতা লাভ করে বিদায় নিয়েছেন ৫৮৩ জন। তাছাড়া মৃত্যু হয়েছে চার জনের। শেবাচিমে চারজন সহ বিভাগে ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুর সংখ্যা ৬ জন।