আ’লীগের স্বশস্ত্র কর্মীদের দেখেই পালালেন বিএনপি নেতা ফরহাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক মঙ্গলবার, আগস্ট ১৩, ২০১৯ ৬:৪৪ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ভয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকার দলীয় ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্টানে যেতে পারলেন না বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবং সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত আ’লীগ নেতা-কর্মীদের ভয়ে পালিয়ে আসেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) ঈদের দ্বিতীয় দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বরিশালের হিজলা উপজেলার কাউরিয়া বাজার সংলগ্ন খালে প্রবেশকালে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। তার অংশগ্রহন না করতে পারার কারনে পুনর্মিলন অনুষ্ঠান পন্ড হয়ে বলেও দাবি ফরহাদের।

তিনি জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন হিজলায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে একটি পারিবারিক ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। এজন্য বেলা সাড়ে ১২টার দিকে স্পীড বোর্ড যোগে হিজলায় যান তিনি।

মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ অভিযোগ করেন, স্পীড বোর্ড নিয়ে হিজলা উপজেলার কাউরিয়া বাজার সংলগ্ন খালে প্রবেশের সময় দেখতে পান সরদার দলীয় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা পূর্ব থেকে লাঠি-সোট ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবস্থান নিয়েছে। যা দেখে আইনী সহায়তা পেতে স্থানীয় হিজলা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) অসীম কুমার সিকদারতে ফোন করেন।

সাবেক এমপি ফরহাদ অভিযোগ করেন, একাধিকবার ফোন করা হলেও ওসি তা রিসিভি করেননি। যে কারনে নিজের নিরাপত্তার কথা ভেলে অনুষ্ঠানে না গিয়ে বরিশালে ফিরে আসেন বিএনপি নেতা ফরহাদ। তাছাড়া সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদকে এগিয়ে আনতে নেতা-কর্মীরা কাউরিয়া বাজারে অবস্থান নেন।

একই সময় সেখানে পাল্টা অবস্থান নেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তারা বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের এক প্রকার ঘিরে ফেলে। এ নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বিঘœ ঘটনার আশঙ্কায় দলীয় নেতাকে গ্রহন করতে না গিয়ে ফিরে আসেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে হিজলা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) অসীম কুমার সিকদার ফোন না ধারার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই থানায় আমি নতুন এসেছি। সাবেক ওই এমপি’র সাথে আমার কখনো কথাও হয়নি।

ওসি বলেন, তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় আসতেই পারেন। সে জন্য কোন নিরাপত্তার ব্যপার থাকলে সেটা তিনি আগেই আমাকে জানাতে পারতেন। প্রয়োজনে আমরা তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু তা না করে ফিরে গিয়ে পুলিশ ফোন ধরে না বলে যে অভিযোগ তুলেছেন তা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।