রাত পোহালেই পবিত্র ঈদ উল আযহা

নিজস্ব প্রতিবেদক সোমবার, আগস্ট ১২, ২০১৯ ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা আর যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় সোমবার (১২ আগস্ট) দেশজুড়ে উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান উৎসব ঈদুল আজহা। মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশায় ঈদের জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করবেন।

প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ পুত্র হযরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু, পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হযরত ইসমাইলের (আ.) পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। সেই থেকে হযরত ইব্রাহিমের (আ.) ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী মুসলমান সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখ আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকে।

আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। এজন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোরবানি করাই এ দিনের সর্বোত্তম ইবাদত। সে ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারাদেশের মুসলমানরা সোমবার (১২ আগস্ট) দিনের শুরুতেই ঈদগাহ বা মসজিদে সমবেত হবেন ও ঈদুল আজহার দু’রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। নামাজের খুতবায় খতিব তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য।

ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের পর কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। নামাজ শেষে মুসল্লিদের অনেকেই যাবেন কবরস্থানে। চিরবিদায় নেওয়া স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সজল চোখে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে আকুতি জানাবেন। এরপর বাড়ি ফিরে আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানির মধ্যদিয়ে ঈদের প্রধান কর্তব্য সম্পন্ন করবেন।

এদিকে, বরিশাল নগরীর বান্দ রোডস্থ হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে সোমবার (১২ আগস্ট) সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে বরিশালের মেয়র ও বিভাগীয় কমিশনার সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জামাতের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করবেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো গুরুত্ব সহকারে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। ঈদ উপলক্ষে দেশের সব সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোরবানির পশুর বর্জ্যে যেন দুর্ভোগ না হয়, সে বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে। আট ঘন্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারনের ঘোষনা দিয়েছেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।