রাত জেগে ঘরমুখো যাত্রীদের খোঁজ নিচ্ছেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, আগস্ট ১১, ২০১৯ ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ

ঈদ বা কুরবানী। দুটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থান হতে দক্ষিণাঞ্চলে আসছেন লাখ লাখ মানুষ। গভির রাতে বাস বা লঞ্চ থেকে নেমেই দুর্ভোগ ছিলো তাদের স্বাভাবিক ব্যপার। বিশেষ করে গণপরিবহনে জিম্মি দশা যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে। তবে এবারের কুরবানীর ঈদে যাত্রীদের সেই দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হয়েছে।

এখন আর গভির রাতে লঞ্চ বা বাস থেকে নেমে পড়তে হচ্ছে না বিড়ম্বনায়। জিম্মি হতে হচ্ছে না গণপরিবহন শ্রমিকদের কাছে। কেননা গভির রাতে বরিশালে পৌছানো ঘরমুখো যাত্রীদের পাশে দাড়িয়েছেন খোদ বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সাথে নিয়ে রাতভর কখনো লঞ্চ ঘাট আবার কখনো বাস টার্মিনালে ছুটে যাচ্ছেন যাত্রীদের খোঁজে।

তাদের জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ফ্রি বাস সার্ভিসের। গভির রাতে বরিশাল নদী বন্দরে আসা যাত্রীদের যাত্রীদের বিনা টাকায় রূপাতলী বাস টার্মিনাল ও নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পৌছে দিচ্ছেন। শেষ লঞ্চটি ঘাটে না আসা পর্যন্ত লঞ্চ ঘাটে ট্রাফিক ব্যবস্থা, আইন শৃঙ্খলা সহ সার্বিক বিষয়ে তদারকি করছেন মেয়র নিজেই।

জানাগেছে, আগামী ১২ আগস্ট পবিত্র ঈদ উল আযহাকে কেন্দ্র করে গত ৮ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে বিশেষ সার্ভিস। ৮ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে প্রথম ঈদ যাত্রী নিয়ে বরিশালে বেশ কয়েকটি লঞ্চ। তাছাড়া শনিবার (১০ আগস্ট) প্রথম দিনের থেকে দ্বিগুন যাত্রী এসেছে বরিশালে।

এর মধ্যে গভির রাত ১টায় যাত্রী নিয়ে প্রথম নদী বন্দরে পৌছায় এমভি মানামী লঞ্চ। এর পরে পর্যায়ক্রমে এমভি এ্যাডভেঞ্চার-১ ও এ্যাডভেঞ্চার-১১, পারাবত-৯, সুন্দরবন-১০, সুরভী-৮, এমভি কামাল-১ ও ফারহান-৮ যাত্রী নিয়ে ভোর রাতের মধ্যে বরিশাল নদী বন্দরে পৌছে। তার আগেই ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ভায়া হয়ে চলাচলকারী এমভি সপ্তবর্ণা-৯, সুন্দরবন-২, বোগদাদীয়া-১২, রেডসান-৫, সম্পাসহ ৫ টি লঞ্চ বরিশাল নদী বন্দরে যাত্রী নামিয়ে পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আর সরাসরি রুটের লঞ্চগুলো বরিশাল নদী বন্দরে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে পূনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

এদিকে বরিশাল লঞ্চ ঘাটে নামতেই যাত্রীদের চোখে পড়ছে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র মুখ। তিনি নদী বন্দরে দাড়িয়ে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন যাত্রীদের। পাশাপাশি মেয়র এর নেতৃত্বাধিন বিশাল ভলানটিয়ার বাহিনী যাত্রীদের পদ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বিসিসি’র উদ্যোগে চালু করা ফ্রি বাস সার্ভিসের দিকে। বৃদ্ধ বা অসুস্থ যাত্রীদের কখনো কোলে তুলে আবার কখনো হুইল চেয়ারে করে পৌছে দিচ্ছেন বাস পর্যন্ত।

তাছাড়া মেয়র এর কঠোর নির্দেশনার কারনে ঘুম হারা নগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও। ওসি থেকে শুরু করে উপ-পুলিশ কমিশনাররাও এসে দাড়িয়ে থাকছেন নৌ বন্দর এবং বাস টার্মিনাল এলাকায়। বিশেষ করে মেয়র এর সাথে রাতভর জেগে থেকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা এবং লঞ্চ মালিকরা খোঁজ নিচ্ছেন যাত্রীদের।

সিটি মেয়র এর এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করছেন যাত্রীরা। এর জন্য ভূয়সী প্রশংসাও কুড়াচ্ছেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। মেয়র বলেন, গত রোজার ঈদেও আমি চেষ্টা করেছি যাত্রীদের খোঁজ খবর নেয়ার। তখন আমি একাই রাতভর জেগে থেকে যাত্রীদের খোঁজ নিয়েছি। এবার কাউন্সিলররাও আমার সাথে রয়েছেন।

মেয়র বলেন, নৌ বন্দর, পুলিশ, লঞ্চ ও বাস মালিক সহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনী সহ আমরা যে যাই করি সবার লক্ষ্য কিন্তু একটাই। তা হলো নিরাপদ ঈদ যাত্রা। আনন্দের এই যাত্রা যাতে কান্যা এবং দুঃখের কারন না হয় সে জন্যই রাত জেগে যাত্রীদের খোঁজ খবর নেয়া। এতে যাত্রীরা স্বস্তি এবং নিরাপত্তা পেলে সেটাই হবে আমার এবং সরকারের সব থেকে বড় অর্জন। তাই এ বিষয়ে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতাও চেয়েছেন মেয়র।