বরিশালে শেষ মুহুর্তে জমেছে পশুর হাট, কমেছে দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, আগস্ট ১১, ২০১৯ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানীর মধ্যে ১২ আগস্ট উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদ উল আয্হা। তাই শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে বরিশাল নগরীর পশুর হাটগুলো। সাদ ও সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পশুটি কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

এদিকে কোরবানীর দু’দিন আগেই শনিবার বরিশালের হাটগুলোতে মূল্য কিছুটা কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রামের হাটে শহরের থেকে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা কমে গরু পাওয়া যাচ্ছে। তবে ছাগলের মূল্য বেশি হওয়ায় এর বেচা বিক্রি অনেকাংশে কম। শনিবার (১০ আগস্ট) বিকালে বরিশাল নগরী ও আশাপাশের স্থায়ী এবং অস্থায়ী হাটগুলো পরিদর্শকালে এমন তথ্যই জানিয়েছেন ক্রেতা, বিক্রেতা এবং হাটের ইজারাদাররা।

জানাগেছে, এবার বরিশাল জেলা ও মহানগরীতে স্থানী এবং অস্থায়ী মিলিয়ে ৬৬টি হাটের অনুমোদন দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে বরিশাল সিটি এলাকায় ২টি স্থায়ী সহ ৬টি হাট মিলেছে। শেষ সময়ে প্রতিটি হাট জমে ওঠেছে।

শনিবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও থেমে ছিলো না হাট গুলোতে বেচা-বিক্রি। ক্রেতারা হাটু সমান কাদা পেরিয়ে পছন্দের পশুটি কিনতে এক হাট থেকে অন্য হাটে ছুটে বেড়ান। বিশেষ করে যে হাটে খাজনার ঝামেলা নেই সেইসব হাটের দিকেই বেশি নগর ক্রেতাদের। সে হিসেবে নগরীর ক্রেতাদের দৃষ্টি সদর উপজেলার চরমোনাই ও সুগন্ধিয়া হাটে। তাছাড়া হাট দুটোতে পশুর মূল্যও অনেকটা কম বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

নগরীর হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকাধিন সিএন্ডবি রোডের অস্থায়ী হাটে বড় সাইজের একটি গরুর মূল্য আড়াই লাখ টাকা হাকাতে দেখাগেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ওই গরুটি বিক্রি হয় এক লাখ ৪০ হাজার টাকায়। সাথে খাজনা দিতে হয়েছে নির্ধারিত মূল্যে। একই সাইজের গরু নূন্যতম ৪০ হাজার টাকা কমে বিক্রি হয়েছে সুগন্ধিয়া হাটে। তাছাড়া নেয়া হয়নি খাজনাও।

সুগন্ধিয়া হাট থেকে কোরবানীর গরু কেনা নগরীর দক্ষিণ আলেকান্দার বাসিন্দা সিকান্দার ফকির বলেন, এবার সাত ভাগে কোরবানী দিচ্ছি। গত তিন চার দিন ধরে নগরীর প্রায় প্রতিটি হাটেই পছন্দের গরু খুঁজেছি। যা পেয়েছে তার মূল্য ছিলো আকাশ চুম্বি। তবে শনিবার গরুর মূল্য অনেকটা কম মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, মানুষের মুখে শুনতে পেয়ে সুগন্ধিয়া হাটে এসেছি। শহরের হাটে যে গরুর মূল্য দেড় লাখ টাকা চেয়েছে তা এক লাখ ৬ হাজার টাকা কিনেছি। তাছাড়া খাজনাও দিতে হয়নি। স্থানীয় একটি মসজিদ রয়েছে সেখানে খাজনার পরিবর্তে খুশি মনে এক হাজার টাকা দিয়েছি। সব মিলিয়ে কম দামে গরু কিনতে পেরে অনেকটা খুশি সিকদার ফকির ও তার সাথের লোকেরা।

অপরদিকে নগরীর দপদপিয়া শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু’র ঢালে অস্থায়ী হাটে দেখা যায় গরু ও ছাগলের বিশাল সমাহার। বেচা বিক্রিও হচ্ছে তুলনামুলক বেশি। তবে বিক্রেতারা লাভের আশায় মূল্য ধরে রেখেছেন। যশোর থেকে ১২টি গরু নিয়ে আসা সাইনী এগ্রো ফার্মের মালিক আমজাদ শরীফ বলেন, বৃহস্পতিবার ট্রাকে গুরু নিয়ে এসেছেন। শনিবার পর্যন্ত ৬টি বিক্রি করেছি। এখনো ৬টি গরুর রয়েছে। যার মধ্যে একটি গরুর মূল্য হাকানো হয়েছে সাড়ে লাখ টাকা। তবে সোয়া ৩ লাখ টাকা পেলেই বিক্রি করে দিবেন গরুটি। এরই মধ্যে একজন ক্রেতা গরুটির মূল্য ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা বলেছেন বলে দাবী ওই ব্যবসায়ীর।

নগরীর কাউনিয়া টেক্সটাইল মিল সংলগ্ন অস্থায়ী গরুর হাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা শামীম বলেন, গত কয়েকদিনের থেকে শনিবার গরুর মূল্য যেমন কম ছিলো, বেচা বিক্রিও ভালো হয়েছে। কিছু ক্রেতা রয়েছে যারা এখনো মূল্য কমার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে মূল্য কমার সম্ভাবনা নেই দাবী করে নগরীর কশাইখানা’র স্থায়ী গুরুর হাটের ইজারাদাররা বলেন, এখনো ইন্ডিয়ান গরু বাংলাদেশে ঢুকতে পারেনি। যে কারনে দেশি গরুর চাহিদা বেশি।

এদিকে কোরবানীকে ঘুরে শুধু পশুর হাট নয়, বরং জমেছে কোরবানীর আনুসাঙ্গিক মালামাল বিক্রিও। গরুর মাংস বানানোর খাটিয়া, হোগলার কদর বেড়েছে। নগরীর চাঁদমারী, সাগরদী, চৌমাথা বাজার, পোর্ট রোড সহ আশপাশের এলাকাগুলোতে রাস্তার পাশে স্তুপ করে বিক্রি করা হচ্ছে এসব সামগ্রী। দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না কামাড়রা। টুং টাং শব্দে দিন রাত পার করে দিচ্ছেন তারা।

অপরদিকে পশুর হাটগুলোকে ঘিরে পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। জাল নোট সনাক্তকরনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধায়নে রাখা হয়েছে মেশিনের ব্যবস্থা। প্রতারক ও সচেনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলছে মাইকিং। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক হাট থেকে অন্য হাটে। হাটগুলোতে নজিরবিহিন নিরাপত্তার কারনে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।