শেবাচিমে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো এক শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক শনিবার, আগস্ট ১০, ২০১৯ ৩:০১ অপরাহ্ণ

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার সকালে হাসপাতালে আইসিইউতে রুশা আক্তার (১০) নামের ওই শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ডেঙ্গুতে শেবাচিমে চারজন সহ বরিশাল বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬ জন হয়েছে।

শনিবার মৃত্যু হওয়া রুশা রুশা ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন লালমাটিয়া এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা রুহুল আমিন এর কন্যা ও স্থানীয় ওয়াইডব্লিউসি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ঈদের ছুটিতে গত বৃহস্পতিবার ঝালকাঠির রাজাপুর দাদা ও নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে রুশা।

তথ্য নিশ্চিত করে রুশার মামা রাজাপুরের স্থানীয় সাংবাদিক জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, ঢাকা থাকতেই রুশার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। পরে সেখানে তার চিকিৎসা করা হলে অনেকটা সুস্থ হয়। সে অবস্থায় ওরা ঈদের ছুটিতে রাজাপুরে আসে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাজাপুরে আসার পরে শুক্রবার সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর তাকে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেন। পরে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শিশু ওয়ার্ডে দাড়াবার মত জায়গা ছিলো না।

যে কারনে তাকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কোন চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। এর পর পার্শ্ববর্তী রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে রুশার চিকিৎসা শুরু হলেও কোন উন্নতী হয়নি। বরং শারীরিক অবস্থার অবনতী ঘটে। যে কারনে শুক্রবার রাতে তাকে পুনরায় শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

ওই রাতেই হাসপাতাল পরিচালকের সহযোগিতায় রুশাকে শেবাচিমের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) তে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ৭টায় রুশার মৃত্যু হয় বলে তার মামা নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রুশার বিশ্রামের প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু তা না করে জার্নির কারনে সে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। একদম শেষ পর্যায়ে মুমূর্ষ অবস্থায় রুশাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। এ কারনেই তার মৃত্যু হয়।

পরিচালক বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর কারনে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। একটি মাত্র শিশু ওয়ার্ড। সেখানে এমনেতই সব সময় অতিরিক্ত রোগী থাকে। তার মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দায় এখন জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার মধ্যেই আমরা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে সাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী নির্মানাধিন ভবনটি গণপূর্ত বিভাগ আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে এই সমস্যার সম্মুখিন হতে হতো না।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট সকাল পর্যন্ত শেবাচিমে মোট ৭০২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। যাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬২ জন। এছাড়া ১০ আগস্ট পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে চার জনের। আর বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত রোগীর সংখ্যা ৬ জন।