বাউফলে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে মুখোমুখি দুই গ্রুপ: পুলিশ মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক শনিবার, আগস্ট ১০, ২০১৯ ৭:৫৩ অপরাহ্ণ

পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা ছাত্রলীগের বিতর্কিত কমিটিকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অবৈধ ঘোষনার পর গত শুক্রবার রাতে ১০ আগষ্টের স্বাক্ষরিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুক হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী অবৈধ ঘোষনা করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,‘পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সাইদুর রহমান হাসান সভাপতি ও মাহামুদ রাহাত জামেশেদ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের কমিটি ব্যতীত অন্য কোনো কমিটি নেই।

এদিকে বৈধ ও অবৈধ বিতর্কে গতকাল শনিবার দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়িতে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন।সহিংসতা এড়াতে উপজেলা সদরে বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিতর্কিত কমিটি নিজেদেরকে বৈধ বলে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে গত শুক্রবার বিকেলে ৪০-৫০ টি মোটরসাইকেলের শোডাউন বের করলে বৈধ কমিটির নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে তা পন্ড হয়ে যায়। শনিবার (১০ আগস্ট) ১১ টার দিকে ওই বিতর্কিত কমিটির উদ্যোগে শোক র‌্যালি বের করার ঘোষনা দেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিতর্কিত কমিটির নেতা-কর্মীরা বাউফল থানা মসজিদের সামনে অবস্থান নেয়।আর জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত কমিটির নেতা-কর্মীরা বাউফল প্রেসক্লাবের পাশে তাঁদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়।

একপর্যায়ে একপক্ষ অপরপক্ষের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে ছাত্রলীগকর্মী আশিক (২০) ও জিসানসহ (২১) কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হাতে প্রকাশ্যে দেশি অস্ত্র নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।দুপুর একটা পর্যন্ত পুলিশ কোনো পক্ষকেই র‌্যালী করতে দেয়নি।সহিংসতা এড়াতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।সহিংসতা এড়াতে উপজেলা সদরে বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে,গত ১৯ জুলাই বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ উপলেক্ষে উপজেলা ছাত্রলীগ প্রস্তুতি নিয়েছিল। অনিবার্য কারণ বশত ওই সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়। পরে ৩১ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের সভপতি মো. হাসান সিকদার তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি পোষ্ট দেন। যেখানে ছাত্রলীগের প্যাডে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,বাউফল উপজেলা শাখা কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ন হওয়ায় বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হল এবং আগামী এক বছরের জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বাউফল উপজেলা শাখার কমিটি অনুমোদন দেওয়া হল। কমিটিতে মো. আল-আমিন ত্বোহা (আসল নাম) সভাপতি এবং মো. তানজিল হোসেন অভিকে (আসল নাম) সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কত দিনের মধ্যে এই কমিটি পূর্নাঙ্গ কমিটি করবে বা পূর্বের কমিটির সভাপতি সম্পাদক কে ছিলো সেই সব বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। আর যে দুজনকে সভাপতি ও সম্পাদক ঘোষনা করা হয়েছে তাঁরা চলমান কমিটির কোনো পদে নেই। ওই প্যাডে সভাপতি হাসান সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক ভূইয়ার ২৮ জুলাই তারিখের স্বাক্ষর দেখা যায়।

পরে ১ আগষ্ট সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ভূইয়া ওই কমিটি ভুয়া বলে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তার ফেইসবুকে প্রকাশ করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, ২৮ জুলাই বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগের যে কমিটি ফেইসবুকে প্রকাশ করা হয়েছে তা সম্পূর্ন ভুয়া, এটিতে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই কমিটি নিয়ে কেউ যাতে বিভ্রান্ত না হয় সে জন্যও তিনি আহ্বানও জানিয়েছেন। এ বিষয়টি তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্বাহী সংসদকে অবহিত করেছেন বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান হাসান বলেন, ‘জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশ মোতাবেক তাঁদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। একটি মহল ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করার জন্য সংগঠন পরিপন্থী কার্যক্রম চালাচ্ছেন, গায়ে পড়ে বিবাদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন,কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ঘোষনা পেলেই সম্মেলনের মাধ্যমে যাঁরা যোগ্য তাঁদের হাতেই নেতৃত্ব তুলে দিয়ে সম্মানের সহিত সরে যেতে যাই।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে যাতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিক লক্ষ্য করেই পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।