গোয়েন্দা রিপোর্টে বরিশালে ওসি এবং এসআই’র শাস্তিমুলক বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক শুক্রবার, আগস্ট ৯, ২০১৯ ১০:২৮ অপরাহ্ণ

বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)সহ ২ পুলিশ কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। কলেজছাত্র মিলি ইসলামের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের প্রেক্ষিতে তাদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধন্ত নেয় পুলিশ হেডকোয়াটার।

ওসি মাহাবুব উল ইসলামকে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরকে ট্যুরিস্ট পুলিশের সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলে হয়েছে।

জানা গেছে, ৩ মে নগরীর ফিসারি রোড এলাকার একটি বাসা থেকে বিএম কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী মিলি ইসলামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় কলেজ ছাত্রীর স্বজনদের না পাওয়ায় বাড়ি মালিকের ছেলে বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন।

পরবর্তীতে কলেজছাত্রীর স্বজনেরা এসে মৃত্যুর ঘটনাটিকে হত্যা দাবি করে প্রেমিক স্কুল শিক্ষক পুলিন চন্দ্রকে অভিযুক্ত করে। এই ঘটনায় শিক্ষককে আসামি করে কলেজছাত্রীর পরিবার একটি হত্যা মামলা করতেও উদ্যোগী হয়। কিন্তু একটি ঘটনায় দুটি মামলা নথিভুক্তের সুযোগ না থাকায় পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।

তবে এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে তাদেরকে আত্মহত্যা প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলার পরামর্শ দেওয়া হলেও তাতে অস্বকৃতি জানায় মিলির স্বজনেরা। পরবর্তীতে তারা বরিশাল আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। সেই মামলাটি আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) তদন্তধীন রয়েছে। এরই মধ্যে বরিশাল নগরীর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিত বিষয়ের শিক্ষক পুলিনকে তার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দর পুলিশ।

পরবর্তীতে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হলে দুই মাস কারাবাসের পরে তিনি মুক্তি পান। এদিকে কলেজ ছাত্রীর এক স্বজন গোয়েন্দা সংস্থায় (ডিজিএফআই) পুরো বিষয়টি অভিযোগ আকারে তুলে ধরে। সেই অভিযোগটি তদন্ত করে সাম্প্রতিকালে পুলিশ হেডকোটার্সে প্রতিবেদন প্রেরণ করে সংস্থাটি।

ওই প্রতিবেদনে বাহিনীটি মামলাটির তদন্ত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শাস্তি দাবিও করেছে। সেক্ষেত্রে ধারনা করা হচ্ছে, ওই তদন্ত প্রতিবেদনের পরেই ২ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ হেডকোয়াটার।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারি কমিশনার (এসি) নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেছেন, ‘বিএম কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি গোয়েন্দা সংস্থা রিপোর্ট দেয়। সেই রিপোর্ট এর আলোকে ওসি ও একজন এসআইকে থানা থেকে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়াটার্স।