অরক্ষীত বরিশাল প্রধান ডাকঘরে চুরি-ছিনতাই চলছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক শুক্রবার, আগস্ট ৯, ২০১৯ ৬:১৫ অপরাহ্ণ

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত বরিশাল বিভাগীয় ডাকঘর। বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) ঘরির কাটায় তখন প্রায় বেলা ১২টা। হঠাৎ করেই এক যুবক ডাকাঘরের ভেতর থেকে দৌর দিলো। তার পেছনেই চোর চোর বলে ছুটতে শুরু করলো এক তরুনী। উৎসুক জনতাও ছুটতে লাগলো তার পেছনে।

এক পর্যায় তরুনীর সঙ্গে উৎসুক জনতার দেখা মিললেও ততক্ষনে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে যুবকটি। পরে জানাগেলো গ্রাহক সেজে প্রধান ডাকঘরে ঘুরে বেড়ানো যুবকটি তরুনীর মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়েছে।

এই একটি ঘটনাই নয়, প্রায় প্রতিনিয়তই বরিশাল বিভাগীয় প্রধান ডাকঘরের সামনে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে হরহামেশাই। কিন্তু গ্রাহকদের নিরাপত্তায় ডাক বিভাগ কর্তৃক নেয়া হচ্ছে উপযুক্ত কোন পদক্ষেপ। এমনকি প্রশাসনের নজরদারীও বৃদ্ধি পাচ্ছে না ডাকঘর প্রশ্নে।

অবশ্য অভিযোগ উঠেছে, ডাক বিভাগের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের উদাসিনতার কারনেই একের পর এক ঘটছে গ্রাহকদের নগদ অর্থ, মোবাইল সহ প্রয়োজনীয় মালামাল ছিনতাই’র ঘটনা। তাই ছিনতাই বা চোর চক্রের সাথে ডাকঘরের কতিপয় কর্মচারীর যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকরা।

প্রত্যক্ষদর্শী জুয়েল রহমান জানান, তরুনী প্রধান ডাকঘরে সেবা গ্রহন করতে এসে লাইনে দাড়িয়ে ছিলো। হঠাৎ করেই চোর চোর বলে চিৎকার শুনতে পেয়ে তরুনীর সাথে আমিও চোরকে তাড়া করি। কিন্তু ধরতে পারিনি। লঞ্চ ঘাট এলাকায় অটোরিক্সা, অটো টেম্পু’র ফাঁক ফাকর দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় সে।

জুয়েল বলেন, আমি প্রায়ই ডাকঘরে চিঠি পোষ্ট করতে আসি। আমার দেখা মতে এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। বরিশাল প্রধান ডাকঘরে প্রায়ই মোবাইল, টাকা ছিনতাই সহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটে। কিন্তু ডাকঘর প্রশাসন এ ব্যাপরে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অন্তত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এমনটা হতো না।

ভুক্তভোগি বরিশাল সরকারী মহিলা কলেজ’র ইন্টার ২য় বর্ষের ছাত্রী জুথিকা জানায়, মায়ের সাথে কিছু কাজে ডাকঘরে এসেছি। হঠাৎ করেই একটি ছেলে আমার হাতে থাকা স্মার্ট মোবাইলটি ছিনিয়ে নিয়ে দৌর দেয়। আমিও চোর চোর বলে দৌর দেই কিন্তু তাকে ধরতে পারিনি। আমার সাথে অনেকে তাকে ধরার চেষ্টা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আজ যদি ডাকঘরে নিরাপত্তা কর্মী থাকতো তাহলে হয়তো আমার মোবাইলটা ছিনতাই’র সুযোগ পেতনা ছিনতাইকারী।

এ ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল ইসলাম জানান, বরিশাল প্রধান ডাকঘর এর সামনেই বরিশাল পুলিশ সুপারের কার্যালয়। তার পাশে বরিশাল সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়। এছাড়া বরিশাল প্রধান ডাকঘর এর পিছনে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। এমন একটি এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা আসলেই দুঃখ জনক।

এ ব্যাপরে জানতে চাইলে বরিশাল প্রধান ডাকঘর’র সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, দেখেন পোস্ট অফিসে কোন নিরাপত্তা কর্মী নেই। আর দেশে এতো পুলিশও নেই যে এখানে এসে নিরাপত্তা দিবে।

আনসার নিয়োগের প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, দেখেন এতো কিছু বুঝি না। যার যার জিনিস সে সে সংরক্ষন করবে। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই। প্রতিষ্ঠানটি সিসি ক্যামেরার আওতায় আছে। কে কি চুরি করেছে চাইলে দেখতে পারেন। তাও সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকতে হবে।

অনেক মানুষ ডাকঘর থেকে টাকা নেয় সে টাকা যদি ডাকঘরে বসে চুরি হয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যার যার টাকার নিরাপত্তা তার নিজের। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই।

বরিশাল বিভাগের ডেপুটি পোষ্টমাস্টার জেনারেল মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রথমত বরিশাল প্রধান ডাকঘর আমাদের আওতাভুক্ত নয়। প্রধান ডাকঘর’র সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল মোহাম্মদ নুরুল হক’র আওতায়। তবে বরিশাল বিভাগের সকল জেলার ডাকঘরে আমাদের নাইট গার্ড নিয়োগ করা আছে। তারা রাতে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখে।

কিন্তু আমাদের ডাকঘর’র কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে কোন নিরাপত্তা কর্মী নেই। তবে আমাদের বরাবর যদি কোন ডাকঘর আবেদন করে তবে আমরা সেটা বিবেচনা করে দেখি।

বরিশাল কোতয়ালী থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এর আগে অনেকবার ডাকঘর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তবুও কেউ সতর্থ হয়নি। ডাকঘরে অন্তত নিরাপত্তা প্রহরী থাকা প্রয়োজন। কেননা সেখানে অনেক টাকা লেনদেন হয়ে থাকে। তাছাড়া মোবাইল ছিনতাই’র বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পেলে চোর ধরতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয় (দক্ষিণাঞ্চল) এর নিরাপত্তা শাখায় যোগাযোগ করতে সরকারে ফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও কেউ তা রিসিভ করেনি।