স্বরূপকাঠি-কৌরিখাড়া খেয়াঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৮, ২০১৯ ৯:০৭ অপরাহ্ণ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠি- কৌরিখাড়া (ইন্দুরহাট) খেয়াঘাটে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ বেড়েই চলছে। অতিরিক্ত টোল আদায়, ছোট খাট হাত ব্যাগের ভাড়াসহ যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ কারনে অঘোষিতভাবে সাব লীজ নিয়ে টোল আদায়ের সুযোগ পেয়ে লাখ লাখ টাকা লুটে নিচ্ছেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট।

এ নিয়ে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর কয়েকবার মৌখিক নালিশ করলে সাময়িক প্রতিকার পেলেও হচ্ছেনা স্থায়ী প্রতিকার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঘাট নিয়ন্ত্রতক জেলা পরিষদের সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা সেলিম হাওলাদার।

জানাযায়,গত চার বছর যাবত ওই খেয়াঘাটে চার টাকা করে টোল দিয়ে আসছিলেন যাত্রীরা। বর্তমানে ওই ঘাট থেকে খেয়া পার হতে ঘাটে পাঁচ টাকা টোল দিয়ে পরে ছোট ট্রলারে আরো অতিরিক্ত ৩-৫ সহ মোট ৮-১০ টাকা দিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে সবাইকে। এত বেশি বিপাকে পড়েছে কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারন আয়ের মানুষের।

জানাগেছে, তিনবার দরপত্র আহবান করেও ১৪২৬ বাংলা সনের (চলতি বছর) জন্য খেয়া ঘাটটি ইজারা দিতে পারেনি। সে কারনে ১লা বৈশাখ থেকে খাস কালেকশন করানো হচ্ছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী জেলা পরিষদের কর্মচারী দিয়ে খাস কালেকশন করার কথা রয়েছে। অথচ সেখানে সেলিম হাওলাদার এর নেতৃত্বে বহিরাগত কর্মচারীরা পারাপারের টাকা আদায় করছে। এ ঘাটে দৈনিক গড়ে প্রায় ৫ হাজার যাত্রীর জন্য ঘাট চালকদের পক্ষ থেকে মাত্র দুইখানা খেয়া ট্রলার রাখা আছে এবং সেগুলো কথনো আধা ঘন্টারও বেশী সময় পরে চলাচল করে।

সরেজমিন জানাগেছে এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ন স্বরূপকাঠি- কৌরিখাড়া (ইন্দুরহাট) খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। ১৪২৫ বাংলা সনে ৫১ লাখ টাকায় এ ঘাটটি ইজারা দেয়া হয়। ১৪২৬ সনের জন্য ইজারা প্রদান করা সম্ভব হয়নি। আর সে সুযোগে জেলা পরিষদকে ম্যানেজ করে খাস কালেকশনের দায়িত্ব নেন ওই জেলা পরিষদ সদস্য।

অতিরিক্ত টোল আদায়সহ নানা অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে সেলিম হাওলাদার বলেন খাস কালেকশন করাচ্ছে জেলা পরিষদ, আমি শুধু সহযোগিতা করছি। অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয় সেলিম বলেন বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর থেকে সরকারিভাবে এ খেয়াঘাটের টোল ধার্য হয়েছে ৬ টাকা করে। কিন্তু স্থানীয় মানুষের কথা বিবেচনা করে আদায় করা হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা করে।

অতিরিক্ত টোল আদায়সহ ঘাটের নানা অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রেবেকা খান বলেন বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর থেকে বিভিন্ন শ্রেনীর খেয়া ঘাটের নতুন রেট নির্ধারন করা হয়েছে। সে কারনেই ওই ঘাটের জনপ্রতি টোল রেটও বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন বারবার দরপত্র আহবান করেও ১৪২৬ বাংলা সনের জন্য ওই খেয়াঘাট ইজারা প্রদান করা সম্ভব হয়নি বলে জেলা পরিষদের তত্বাবধানে খাস কালেকশন করানো হচ্ছে। নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন জেলা পরিষদের পর্যাপ্ত কর্মচারী না থাকায় জেলা পরিষদ সদস্য সেলিম হাওলাদারকে খাস কালেকশনের জন্য সাহায্য করতে বলা হয়েছে।

নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, আমরা সাধারণ মানুষের পারাপারের টোল চার টাকার মধ্যে রাখা এবং চারখানা খেয়া ট্রলার চালানোর জন্য সেলিমকে বলেছি। উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন শীঘ্রই আমরা গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলব এবং প্রয়োজনে পরবর্তি করনীয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিব।