শুধু দেহ ব্যবসা নয়, ভিডিও ধারণ করে জিম্মিও করা হয় খদ্দেরদের

নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৮, ২০১৯ ৯:৫২ অপরাহ্ণ

বরিশাল নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোতে দেহ ব্যবসায়ীদের উপর নির্যাতন করারও অভিযোগ উঠেছে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় হোটেলগুলোর আসা নারীদের ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল করারও অভিযোগ উঠেছে। শুধু যে দেহপসারিনী তাই নয় গ্রাম থেকে আসা অনেক সজল সরল নারীদের জিম্মি করে কিছু নারীর দালাল ব্যবসা করছেন। পুলিশের সাথে সখ্যতা থাকার কারণে নারীর দালালরা রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর যে ১০টি হোটেলে স্থায়ীভাবে দেহ ব্যবসা হয় সেই সব হোটেলে ম্যানেজাররা অনেক সময় কক্ষের মধ্যে গোপন ক্যামেরা লাগিয়ে রাখেন অবৈধ মেলামেশার ভিডিও ধারণ করে। এর পর হোটেলে আসা খদ্দেরদের ভিডিও দেখিয়ে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হয়। অনেক খদ্দের ইজ্জদের ভয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষর চাহিদা পূরণ করে আসতে বাধ্য হন। এই ধরণের জিম্মি দশায় ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ী মনির দালালের বিরুদ্ধে। হোটেলে আসা বোর্ডারদের জিম্মি করে তিনি আজ কোটিপতি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি হোটেলে যে সব মেয়েরা দেহ ব্যবসা করে তারা নামমাত্র টাকা পায়। বাকী টাকা নেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। খদ্দেরররা হোটেলে গেলে প্রথমেই কাউন্টারে ৩‘শ থেকে ৫‘শ টাকা জমা দিতে হয়। ওই টাকা থেকে মেয়েরা পায় মাত্র ৫০ টাকা। বাকী টাকা নেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয় মেয়েরা যে খদ্দেরের কাছ থেকে বকশিস পায় সেখান থেকে প্রতি কাজে এক‘শ টাকা দিতে হয় হোটেল মালিকককে।

বকশিস না পেলেও মালিককে এক‘শ টাকা দিতে হবে। মেয়েরা কোন ধরণের প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মারধরসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালানো হয়। বেশ কয়েকটি হোটেলে ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়। আবার কোন কোন হোটেলে মেয়েদের মাধ্যমে আসে ইয়াবার চালান। অনেক মেয়েরা ঢাকা থেকে আসে।

ঢাকার হোটেলগুলোতে যখন বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা হয় তখন তারা বরিশালে আসে। এ সময় অনেক মেয়ে সাথে করে ইয়াবার চালান নিয়ে আসে। ওই ইয়াবা বিক্রীর টাকার অর্ধেক নেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। একই সাথে দেহ ও মাদক ব্যবসা করলেও লাভের অংকটা হোটেল কর্তৃপক্ষেরই বেশি।

অপর একটি সূত্র জানায় গ্রাম থেকে অনেক নারী শহরে আসেন চিকিৎসা করাতে। তাদের মধ্যে অনেকেই জানেনা এসব হোটেলে কি হচ্ছে। সহজ সরল মনে তারা হোটেলে ওঠেন। গ্রাম থেকে আসা নারীদের সাথেও রাতে খারাপ ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে অনেকেই লোক লজ্জায় মুখ খোলেন না।

সূত্র বলছে, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর অধিকাংশ হোটেলে দেহ ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। সব সময়ই পত্রিকায় রিপোর্ট হলে কিছুদিন অবৈধ ব্যবসা বন্ধ রাখা হয় ঠিকই কিন্তু কয়েক দিন পর আবারও নতুন রুপে জমজমাটভাবে চালু হয়। বরিশাল নগরবাসীর দাবী পুলিশ কমিশনার একটু কঠোর হলেই সব হোটেলে এ ধরণের অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ হবে।