বিপদ সীমার উপরে মেঘনা ও কীর্তনখোলার পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, আগস্ট ৭, ২০১৯ ৯:২৯ অপরাহ্ণ

প্রবল বাতাস এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মেঘনা ও কীর্তনখোলা সহ দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীগুলোতে প্রচন্ড গতিতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কীর্তনখোলা সহ ৬টি নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে। বাকি নদীগুলো বিপদ সীমার কাছাকাছি রয়েছে। এর ফলে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে নদীর তীরবর্তি নিম্নাঞ্চল।

এদিকে হঠাৎ করে নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করায় ভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে নদীর তীরবর্তী মানুষের মাঝে। নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর আংশকা করছেন তারা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভাঙন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। নিচ্ছেন জরুরী প্রটেকশন ব্যবস্থা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি বিজ্ঞান শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুম জানান, পূর্ণিমার কারনে গত ৩ আগস্ট নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা আবার নেমে যায়। তবে সেটা বিপদ সীমার কাছেও আসেনি। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করতে শুরু করেছে।

এর মধ্যে বুধবার সন্ধ্যার সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী কীর্তনখোলা নদীর পানির স্তর সর্বোচ্চ ২৫৯ সেন্টিমিটার বেড়ে গিয়ে বিপদ সীমার চার সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সন্ধ্যার পরে এর পরিমান আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একইভাবে নয়াভাঙ্গলী নদী’র পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে সর্বোচ্চ ৩৩৮ সেন্টিমিটার। যা বিপদ সীমার থেকে ১০৬ সেন্টিমিটার উপরে। মেঘনা নদী পানি বিপদ সীমা ৩৪১ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে ৩৯৫ সেন্টিমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পায়রা নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে ২৯২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিষখালী নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে ২৩২ সেন্টিমিটারে পৌছেছে। বিপদ সীমার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বিষখালী নদীর পানি। বিপদ সীমা ২৬৮ ছুয়েছে বলেস্বর নদীর পানি।

উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুম বলেন, ঝড়ের পূর্ভাবাসের পাশাপাশি লঘুচাপের কারনে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে গেছে। এ কারনে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীগুলোতে পানির চাপ বেড়ে গিয়ে বিপদ সীমা অতিক্রম করছে। তবে যে ঘুর্ণিঝড়টি রয়েছে তা ভারতের দিকে অগ্রসর হওয়ায় দূর্বল হয়ে পড়ছে। তাই খ্রব দ্রুতই নদীর পানি কমে যাওয়ার ধারনা করছেন তিনি।

অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাইদ বলেন, উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি নেমে যাচ্ছে। তাই দক্ষিণাঞ্চলে নদীগুলোতে পানির চাপ বাড়ছে। এর পাশাপাশি লঘুচাপের কারনও রয়েছে।

তিনি বলেন, এমনেতে বর্ষাকাল হওয়ায় বিভিন্ন নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখন যেভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাবার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে পানি নেমে ওয়ার সময় এই আশংকাটা বেশি থেকে যায়। তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া রয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নদী ভাঙন হচ্ছে তা আমরা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।