বানারীপাড়ায় কিশোরী যাত্রীকে পথে পথে রাতভর গণধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, আগস্ট ৭, ২০১৯ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

বরিশালের বানারীপাড়ায় দুই লেগুনা চালক সহ তিন লম্পট কর্তৃক এক রাতভর গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী যাত্রী। এই ঘটনায় বুধবার (০৭ আগস্ট) সকালে রাজ্জাক (৩৫) নামের ধর্ষক লেগুনা চালককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

আটককৃত রাজ্জাক বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের মলুহার গ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে বলে জানিয়েছেন বানারীপাড়া থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) খলিলুর রহমান।

ওসি জানান, বানারীপাড়ার সীমান্তবর্তী পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার গাঁওখালী গ্রামের নৌকায় ভাসমান সব্জি বিক্রেতা এক প্রতিবন্ধি’র ১৫ বছর বয়সি কিশোরী পয়সারহাটে খালাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলো। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি গাঁওয়াখালী গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পয়সার হাট থেকে ট্রলার যোগে বিশারকান্দি আসে।

ওসি বলেন, কিশোরীর কাছে কোন টাকা ছিলো না। তাই সে বিশারকান্দি লেগুনা স্ট্যান্ডে চালক রাজ্জাককে মামা বলে সম্ভধন করে বৈঠাঘাটা তালুকদার উলা খেয়াঘাটে পৌছে দেয়ার দাবী জানায়। চালক তাকে গাড়িতে তুলে গন্তব্যে পৌছে না দিয়ে বানারীপাড়া ইলুহার ইউনিয়নের জনতা বাজার সংলগ্ন তার চাচাতো ভাই রশিদের বাড়ির একটি পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে ভয়-ভিতি প্রদর্শণের পরে ধর্ষণ করে।

এদিকে রাত ১০টার দিকে জনতা বাজার থেকে অপর একটি লেগুনায় তুলে দেয়া হয় ধর্ষিতা কিশোরীকে। ওই লেগুনার চালক বিশারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মাসুমও কিশোরীকে গন্তব্যে পৌছে না দিয়ে বিশারকান্দি লেগুনা স্ট্যান্ডের একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে মাসুম ও তার অপর এক সহযোগী রাতভর ধর্ষণ করে কিশোরীকে। পরে ভোররাতে মাসুম ধর্ষিতা কিশোরীকে বৈঠাঘাট তালুকদার উলা খেয়াঘাটে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।

তখন খেয়াঘাটে ধর্ষিতা কিশোরী অসুস্থ হয়ে কান্না করতে থাকলে স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি কৌতুহল সৃষ্টি হয়। পরে কিশোরীর কাছ থেকে রাতভর পথে পথে গণধর্ষণের বর্ননা শুনে বানারীপাড়া থানা পুলিশকে অবহিত করে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছাবার আগেই বুধবার ভোরে কিশোরীর প্রথম ধর্ষক রাজ্জাক বৈঠাঘাট তালুকদার উলা খেয়াঘাটে যাত্রী নিতে আসলে স্থানীয়রা তাকে ধরে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশ আসলে ধর্ষককে তাদের কাছে হস্তান্তর করে।

বানারীপাড়া থানার ওসি বলেন, ধর্ষক লেগুনা চালক রাজ্জাক ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করেছে। অপর লেগুনা চালক মাসুম ও তার সহযোগিকেও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া কিশোরীর পরিবারের লোকজন থানায় এসেছে। এই ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন ওসি।