ঈদ-উল-আযহায় থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা…. বিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক সোমবার, আগস্ট ৫, ২০১৯ ৫:৫০ অপরাহ্ণ

আসন্ন ঈদ উল আযহায় বরিশাল মহানগরী এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। ঈদের পূর্বে ১ আগস্ট থেকে ঈদ পরবর্তী ২০ আগস্ট পর্যন্ত তিনটি ধাপে নিরাপত্তা দিবেন তারা। সেই সাথে কোরবানীর পশুর ট্রাকে চাঁদাবাজী সহ অন্যান্য অপরাধ দমনে ৩০ কিলোমিটার মহাসড়কের ৬টি পয়েন্টে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরধার থাকবে।

আজ রোববার (০৫ আগস্ট) পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে নগরীর বান্দ রোডস্থ পুলিশ অফিসার্স মেস এর সভা কক্ষে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান-পিপিএম এই তথ্য জানিয়েছেন।

বিএমপি পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান এর সভাপতিত্বে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, লঞ্চ ও বাস মালিক-শ্রমিক, পশুর হাটের ইজারাদার, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

এসময় নগর পুলিশের পক্ষ থেকে ঈদের আগে এবং পরে নগরবাসির নিরাপত্তায় নেয়া বিভিন্ন প্রস্তুতির তথ্য তুলে ধরেন বিএমপি’র নগর বিশেষ শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) আবু রায়হান মো. সালেহ। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার কার্যক্রম ১ আগস্ট থেকে শুরু হবে। ওই দিন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত জনগণের জান-মালের নিরাপত্তায় পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে ৭৫৮ জন সদস্য দায়িত্ব পারন করেন।

এছাড়া দ্বিতীয় ধাপে ৬ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ৯২০ জন এবং ১৩ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশের সহ¯্রাধিক সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে লঞ্চ ঘাট, বাস টার্মিনাল, মহাসড়ক সহ প্রতিটি থানা পর্যায়ে দায়িত্বপালণ করবেন। ঈদের পরে বরিশাল থেকে কর্মস্থলমুখি যাত্রীদের ভির বেড়ে যাবার বিষয়টি মাথায় রেখে ঈদ পরবর্তী আইন শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এবার কোরবানী উপলক্ষ্যে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় সম্ভাব্য ১৯টি পশুর হাট বসবে। যার মধ্যে কোতয়ালী মডেল থানা এলাকায় ৫টি, কাউনিয়া থানা এলাকায় ৩টি, এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় সর্বোচ্চ ৭টি ও বন্দর থানা এলাকায় হাট বসবে ৪টি। প্রতিটি হাটে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় থাকবে জালটাকা শনাক্তকরণের ২৬টি মেশিন। প্রয়োজনে এর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা হবে।

এছাড়া ঈদের পূর্বে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে কোরবানীর হাটের উদ্দেশ্যে পশু বহনকারী ট্রাক আসবে। এসব ট্রাকে যাতে চাঁদাবাজী, ছিনতাই বা হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। নিরাপত্তার সার্থে মহানগরীর অধিনস্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৬টি বিশেষ পেক পোষ্ট থাকবে। প্রতি ৫ কিলোমিটার পর পর চেক পোষ্টগুলো বসবে।

উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, ঈদ উল আযহার দিন সকালে মেট্রোপলিটন এলাকায় ছোট-বড় মোট ১৩২টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে প্রধান ঈদ জামাত হবে নগরীর বান্দ রোডস্থ হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে। এছাড়াও বরিশাল পুলিশ লাইন্স ও চরমোনাই পীরের দরবার সহ বেশ কয়েকটি স্থানে ঈদের বড় এবং দুটি করে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এসব ঈদ জামাতকে ঘিরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখবে। পোশাকধারী পুলিশের সতর্ক অবস্থানের পাশাপাশি থাকবে টহল টিম ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্য। তাছাড়া ঈদের আগে পরে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভিডিও চিত্র ধারণ করা হবে। যার দায়িত্বে থাকবে সিটিএসবি’র টিম।

এছাড়া প্রতিটি লঞ্চ ঘাট ও বাস টার্মিনালে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। নদী বন্দরে নৌ পুলিশকে সহায়তা প্রদানে মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করবে। এছাড়া থাকবে দুটি মোবাইল কোর্টও। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, লঞ্চ ও বাসের টিকেট কালোবাজারী প্রতিরোধ এবং তাদের ধরে মোবাইল কোর্টের আওতায় এনে সাজা প্রদান করা হবে।

মতবিনিময় সভার সভাপতি ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান-পিপিএম বলেন, সন্ত্রাস, মাদক, ইভটিজিং ও চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ সহ আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ যা কিছুই করে তা জনগণকে সাথে নিয়ে করে। তাই আসন্ন ঈদ উল আযহা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পালনের ক্ষেত্রেও জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। যে যার অবস্থান থেকে পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি চলমান ডেঙ্গু জ¦রের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে রাজধানীর লাখ লাখ মানুষ বাস ও লঞ্চ যোগে বরিশালে আসবে। সেই সাথে এডিস মশার আগমন ঘটতে পারে একই মাধ্যমে। তাই লঞ্চ ও বাস ছাড়ার পূর্বে অবশ্যই মশা নিধনের জন্য বাস ও লঞ্চে স্প্রে করে নেয়ার আহ্বান জানান নগর পুলিশের এই কর্মকর্তা। একই সাথে পশুর হাট গুলোতে কৃত্তিম উপায়ে পশু মোটাতাজা না করা, সার্বক্ষনিক প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ ও প্রতারক হতে সাবধান থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ শোকের মাস হওয়ায় নগরীতে আলোকসজ্জা না করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোরবানীর ঈদ ত্যাগ ও আনন্দের। সকলে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যাতে ঈদ উদযাপন করতে পারে সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

পাশাপাশি ঈদ উল আযহায় সিটি কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী দেয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র আরো বলেন, কোরবানীর দিন থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পশুর বর্জ্য অপসারনে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করবে। তাছাড়া লঞ্চে বয়জেষ্ঠ ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করবেন তারা। পাশাপাশি ঈদের আগে পরে কয়েক দিনের জন্য লঞ্চ ঘাট থেকে রূপাতলী পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালুর কথাও ভাবছেন তারা।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) হাবিবুর রহমান খান, উপ-পুলিশ কমিশনার মোখতার হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মল্লিক, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) খায়রুল আলম, শেবাচিম হাসপাতালে সহকারী পরিচালক ডা. মো. ইউনুস মিয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান ও চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু সহ লঞ্চ ও বাস মালিক, মুক্তিযোদ্ধা, ডিজিএফআই, এনএসআই’র প্রতিনিধি এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহন ও উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন।