সবজির বাজারে আগুন: পাইকারীর থেকে খুচরা বাজারে দাম দ্বিগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, আগস্ট ৪, ২০১৯ ২:০২ পূর্বাহ্ণ

সবজির দামের ক্ষেত্রে পাইকারি-খুচরা বাজারের আকাশ-পাতাল তফাত ভোগাচ্ছে ক্রেতাদের। সাধারণ ভোক্তাদের পাইকারি বাজারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে খুচরা বাজার থেকে সবজি কিনতে হয় আবার রাস্তার পাশে ভ্যানে যে সকল সবজি বিক্রয় করা হয় তা কখন ও কখন ও খুচরা বাজারের চেয়েও বেশি দামে ক্রয় করতে হয় ক্রেতাদের। এসব সবজি কিনতে গিয়ে নাভি:শ্বাস উঠছে ক্রেতাদের।

গতকাল শনিবার বরিশালের বিভিন্ন পাইকারি এবং খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কম থাকলেও খুচরা বাজারে এসে সে দামই হয়ে যাচ্ছে আকাশচুম্বী। ক্রেতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সবজির খুচরা ও ভ্যানে বিক্রেতারা অধিক মুনাফা করছেন। ফলে বাজার করতে আসা ক্রেতারা অসহায় হয়ে পড়ছেন খুচরা ও ভ্যানে বিক্রিত সবজি বিক্রেতাদের কাছে।

বরিশাল শহরের স্টিমারঘাট সংলগ্ন একমাত্র পাইকারি সবজির বাজার সিটি মার্কেট। যেখানে প্রতিদিন ভোর ৫টায় বসে মূল বাজার। খুচরা বাজার ও ভ্যানে সবজি ব্যবসায়ীরা এখান থেকেই প্রতিদিন কাঁচামাল কিনে নিয়ে যান ক্রেতাদের জন্য। এই বাজারের পাইকারী আরৎদার দুলাল বানিজ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম দুলাল মিয়া জানান, ব্যাপারিরা মেহেরপুর, চিতলমারি, ভোলা, চরফ্যাশন, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন স্থান দিয়ে সবজি সংগ্রহ করে পাইকারি সবজির বাজার সিটি মার্কেটে আসে। এখান থেকেই বিভিন্ন খুচরা বাজারে যায় সবজি।

শনিবার সকালে পাইকারী বাজারে বিভিন্ন সবজির কেজি প্রতি দর গেছে, পোটল এর কেজি গেছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা, করল্লা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা,গাডি ২০ থেকে ২২ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা,রেখা ১৮ থেকে ২০ টাকা,বেগুন ২৫ থেকে ৩০ টাকা,কুমড়া ১২ থেকে ১৫ টাকা,শশা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং লেবু প্রতি হালি ১০ থেকে ১২ টাকা এই টাকা দরে সবজি ক্রয় করেছেন খুচরা বিক্রেতা ও ভ্যানে করে সবজি বিক্রেতারা ।

এদিকে পাইকারি এই বাজার থেকে তিন কিলোমিটার পথের দূরত্বে বরিশাল নগরে চৌমাথা বাজার। খুচরা এই বাজারে কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো.আ. কালাম খান এক কেজি মরিচ বিক্রি করছেন ৮০ টাকায়, যেখানে পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম দুলাল মিয়া কেজি প্রতি মরিচ বিক্রি করছেন ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। শুধু মরিচ নয় বাজার দুটি ঘুরে এভাবে প্রায় সব পণ্যের দামে আকাশ-পাতাল পার্থক্যের তিক্ততার চিত্র সামনে ফুটে উঠেছে।

পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি ১৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পটল খুচরা বাজার থেকে ক্রেতারা কিনছেন ৩০ টাকায়। এভাবে ৪০ টাকা কেজির করল্লা ৫০ টাকা, ২০ টাকা কেজির গাডি ৪০ টাকা, ১৮ টাকার রেখা ৩০ টাকা, ২৫ টাকার বেগুন ৪০ টাকা, ১২ টাকার কুমড়া ২৫ টাকা, ১০ টাকা হালির লেবু ১৫ টাকা এবং ৪০ টাকার শশা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চৌমাথা বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো. আ. শাহিন বলেন, মূলত বৃষ্টির কারণে পণ্যের আমদানি কম। আবার পাইকার বাজারে কেজি নয় পাল্লা (পাঁচ কেজি) হিসেবে সবকিছু বিক্রি হয়। কিন্তু সেই পরিমাণে বিক্রি হয় না খুচরা বাজারে। বেশিরভাগ সময়ে বিক্রি করতে না পারায় পচে যাওয়া কাঁচামাল ফেলে দিতে হয়। এছাড়া আমাদের বাজারের বিভিন্ন খরচা আছে। তাই একটু দাম বেশি রাখা হয় খুচরা বাজারের থেকে। এছাড়া ভ্যানে সব সময় আমাদের চাইতে বেশি দামে পন্য বিক্রয় করা হয় । এ সকল ভ্যানের তো অন্য কোন খরচা নেই । তবুও তারা দাম বেশি রাখছে। এই সব ভ্যানে করে সবজি বিক্রেতাদের জন্য আমরা খুচরা ব্যবসায়ীরা মাঝে মধ্যেই বিরম্বনায় পড়ি।

দামের এ পার্থক্য বিষয়ে চৌমাথা বাজারের ক্রেতা ইকবাল মাসুদ শুনতেই বললেন, বাজারে মনিটরিং ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তাহলে এমন হবে না। তিনি বলেন, শুধু কাঁচাবাজার নয় ভ্যানে বিক্রীত সবজির সবচাইতে বড় তারতম্য রয়েছে।

নগরীর গোরস্থান রোড এলাকায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রয় করে আসলাম। তার কাছে কাঁচা মরিচের কেজি প্রতি দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন ১৬০ টাকা । যেখানে পাইকারী বাজারে মরিচের কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৮০ টাকা। এছাড়া পটল কেজি প্রতি ৩০ টাকা, করল্লা ৬০ টাকা, গাডি ৪০ টাকা, রেখা ৫০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, কুমড়া ৩০ টাকা লেবুর হালি প্রতি ২০ টাকা এবং শশা ৬০ টাকা কেজি দরে ভ্যানে করে বিক্রয় করছেন আসলাম।

তিনি কেন পাইকারী ও খুচরা বাজারের চাইতে ২ গুন দামে সবজি বিক্রয় করছেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে আসলাম বলেন, সারাদিন রোদ এ পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে আমরা সবজি বিক্রয় করি । তরকারী তরকারী বলে রাস্তায় হাটি। আমরা সারাদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবজি পৌছে দেই। আমাদের মতো রাস্তায় থেকে কষ্ট করলেই বোঝা যাবে কেন এতো দাম।