কামারখালী কেএসসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও দপ্তরী নিয়োগে দুর্নীতি !

নিজস্ব প্রতিবেদক শনিবার, আগস্ট ৩, ২০১৯ ৯:১৬ অপরাহ্ণ

বরিশালের বাকেরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কামারখালী কেএসসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও দপ্তরী নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল গোপন রেখে উৎকোচের বিনিময়ে নিজের পছন্দের লোকের নিয়োগ দিচ্ছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নিয়োগ প্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, সম্প্রতি কামারখালী কেএসসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ৭ জন ও দপ্তরী পদে ৫ জন আবেদন করেন। গত ৯ জুলাই বরিশাল জিলা স্কুলে আবেদনকারীদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিধি মোতাবেক নিয়োগ পরীক্ষার পরে উত্তীর্ণদের ফলাফল প্রকাশ করতে হবে এবং যিনি মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হবেন তিনিই নিয়োগ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন। কিন্তু ঘটছে তার উল্টোটা। নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল গোপন করে অনুত্তির্ণ ব্যক্তিকে উৎকোচের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ম্যানেজিং কমিটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় খলিলুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে দপ্তরী পদে নিয়োগ দেয়ার জোর পায়তারা চালাচ্ছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। এজন্য ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহন করা হয়েছে। বাকি আরো এক লাখ টাকা চাকুরী হওয়ার পরে পরিশোধের চুক্তি হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ব্যক্তিগত সহচর মহিউদ্দিন উৎকোচের ওই টাকা গ্রহন করেছেন।

সূত্রটি জানায়, ম্যানেজিং কমিটির সভায় খলিলুর রহমানকে নিয়োগ দেয়ার জন্য সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক জোর চেষ্টা চালান। তারা রেজুলেশন করে তার নিয়োগ চূড়ান্ত করতে সদস্যদের সাক্ষর গ্রহনের চেষ্টা করেন। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের প্রতিবাদের মুখে তাতে ব্যর্থ হন সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। শুধু তাই নয়, নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সহকারী প্রধান শিক্ষককে এমপিও’র শর্তে অযোগ্য দাবী করে নিয়োগ বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কেএসসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জলিলুর রহমান খান বলেন, নিয়োগ কার্যক্রমে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। পাঁচ সদস্যের নিয়োগ বোর্ড যাদের চূড়ান্ত করে সুপারিশ করেছে তাদেরকেই নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। নিয়োগ বের্ডের শর্তমোতাবেক খুব শিঘ্রই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিধি মোতাবেক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র সহকারী প্রধান শিক্ষকের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটু ঝামেলা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এমপিওভুক্তির পর থেকে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্নদের ওই পদে নিয়োগ দেয়া হবে। কিন্তু যিনি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তার সেই অভিজ্ঞতা নেই। এছাড়া দপ্তরী নিয়োগে বানিজ্যের অভিযোগের প্রশ্নতোলা মাত্রই ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।