বাকেরগঞ্জে দুর্নীতি ঢাকতে আইনি নোটিশ উপেক্ষা করে গভর্নিং বডির নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯ ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

পঁয়ত্রিশ লাক্ষাধিক টাকা আত্মসাত সহ দুর্নীতির স্তুপ চাপা দিতে আদালতের নোটিশ উপেক্ষা করে গভর্নিং বডির নির্বাচন সম্পনের অভিযোগ উঠেছে বাকেরগঞ্জের সৈয়দ আফছার আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। তিনি আদালতের নোটিশ পেয়েও গ্রহন না করে গত ২২ জুলাই নির্বাচন সম্পন্ন করেন। এমনকি নোটিশের গুরুত্ব না দিয়ে নির্বাচন করে আদালত অবমাননার কথা অকপটেই স্বীকার করেন কলেজ অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, বাকেরগঞ্জের সৈয়দ আফছার আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কলেজ তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। তিনি ঘাটতি পূরণের নামে ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উপবৃত্তির সরকারি অংশ গভার্নিং বডির সভাপতির মৃত্যুর পর তার স্বাক্ষর জাল জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন করে তা আত্মসাত করেন। এছাড়াও অপরিকল্পিত ব্যয় নামে আরো দেড় লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব গভর্নিং বডি’র সভায় উত্থাপন না করায় কলেজ সভাপতি আলহাজ¦ সৈয়দ মুজিবুর রহমান তাকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। কিন্তু তিনি নোটিশের জবাব দেননি। বরং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি ক্ষমা করার জন্য ভূয়া সভায় একটি রেজুলেশন লিপিবদ্ধ করে তা অনুমোদনের চেষ্টা করেন। যার সভা নম্বর দেখানো হয় ২৪০। কিন্তু গভার্নিং বডির সভাপতি, শিক্ষক প্রতিনিধি ও অভিভাবক সদস্যদের বাঁধার কারণে অধ্যক্ষের সেই প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।

এদিকে গর্ভনিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পাশাপাশি কমিটির সভাপতি ঢাকা ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধিন রয়েছে। সেই সুযোগে সুচতুর অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত এমনকি সভাপতিকে অবহিত না করেই একক ক্ষমতায় শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের তফসলি ঘোষনা করেন। যা নিয়ে নতুন করে বির্তকের মধ্যে পড়েন অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান।

পরবর্তীতে অধ্যক্ষের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্চ করে গভর্নিং বডির বর্তমান প্রতিনিধিগণ বরিশাল সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। যার নম্বর ১৩৬/২০১৯। মামলার শুনানী শেষে সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য বিচারক অপেক্ষমান রাখেন। তবে নির্বাচনের তারিখ কাছে আশায় মামলার কৌশলী মো. আজাদ রহমান ২১ জুলাই ই-মেইলে অধ্যক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ নির্বাচন স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। তাছাড়া ২২ জুলাই দু’জন শিক্ষক প্রতিনিধি নোটিশের কপি নিয়ে গেলে অধ্যক্ষ তা গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি একই দিন তিনি নির্বাচন সম্পন্ন করেছেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান। এমনকি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার কাছে আদালতের কোন কাগজ আসেনি। তাই নির্বাচন সম্পন্ন করেছি। তবে আমার দু’জন শিক্ষক একটি কাগজ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তারা কিনা কি কাগজ নিয়ে এসেছে তাই তা খুলে দেখিনি। তাছাড়া ই-মেইল সব সময় খোলা হয় না। তাই হয়তো ই-মেইলে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশ দেখতে পাইনি। পরে ই-মেইল চেক করে দেখার কথা বলেন তিনি।