স্বরূপকাঠীতে পেয়ারার জেলি কারখানা স্থাপনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, জুলাই ১৪, ২০১৯ ৯:৩২ অপরাহ্ণ

বাংলার আপেলখ্যাত পেয়ারা চাষে বানারীপাড়ার কৃষকসহ নানা শ্রেণীর মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠছে। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে পেয়ারা চাষ ও বাগানের সংখ্যা। বানারীপাড়ার প্রতিটি বসত বাড়িতে পেয়ারা চাষ ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকহারে। এমন কোন বাড়ি নেই যে বাড়িতে দু’একটি পেয়ারা গাছ শোভা পাচ্ছেনা। এবছর উপজেলার সৈয়দকাঠী, বিশারকান্দি, সলিয়াবাকপুর ও সদর ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় কয়েকশত একর জমিতে পেয়ারা চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়ালিউল আলম জানান পেয়ারা চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় এ এলাকার মানুষ দিন দিন পেয়ারা চাষে উৎসাহী হয়ে উঠছেন।

এদিকে পেয়ারা চাষের প্রসিদ্ধ এলাকা পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা, জিন্দাকাঠী,আদমকাঠী,ধলুহার বাস্তুকাঠী ও মাহামুদকাঠী এবং ঝালকাঠীর গাভা,রামচন্দ্রপুর,শতদশকাঠী ভীমরুলি,ডুমুরিয়া,জগদিশপুর ও কাচাঁবালিয়া প্রভৃতি এলাকার প্রায় ২৫ হাজার একর জমিতে এবছর পেয়ারা চাষ করা হয়েছে।এদিকে পেয়ারা বিক্রির বৃহত্তম স্বরূপকাঠীর আটঘর-কুড়িয়ানা হাটের পরের অবস্থান বানারীপাড়ার রায়েরহাট বাজার।

এ দু’হাটে প্রতিদিন প্রায় ১০/১২হাজার মন পেয়ারা বিকিকিনি হয়। যার পাইকারী বজার মুল্য প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। উৎপাদিত পেয়ারা স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানী করা হচ্ছে। বিপুল খাদ্য গুনে সমৃদ্ধ এ অঞ্চলের সুস্বাদু পেয়ারা লঞ্চ, ট্রলার ও ট্রাক যোগে প্রতিদিন হাজার হাজার মন ঢাকা,সিলেট, যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, সিলেট, কুমিল্লা,খুলনা,নোয়াখালী ও বগুড়া সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

এদিকে এ এলাকায় পেয়ারা সংরক্ষনের জন্য কোন কোল্ড ষ্টোরেজ না থাকায় অনেক পেয়ারা পেকে নষ্ট হয়ে যায়।একারনে কমমূল্যে পেয়ারা বিক্রি করতে চাষীরা বাধ্য হয়।লাভজনক এ অর্থকরী ফলের চাষাবাদকে টিকিয়ে রাখতে ও চাষীদের আগ্রহী করে রাখার জন্য সরকারী অথবা বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় জেলি, জ্যাম ও আচার তৈরীর কারখানা এবং হিমাগার নির্মানের দাবি এ অঞ্চলের আপামর মানুষের দীর্ঘদিনের। বর্ষাকালের মৌসুমী ফল হিসেবে পেয়ারা ফলটি প্রক্রিয়াজাত করে সারাবছরই ভোগ করা সম্ভব।প্রক্রিয়া জাতকরণ শিল্প স্থাপন করে পেয়ারার অর্থনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন উদ্যোক্তা ও পুজির।

১৯৮৮ সালে বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠি আসনের জাতীয়পার্টি সরকারের তৎকালীণ সংসদ সদস্য ও সংস্থাপন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম মনি স্বরূপকাঠিতে পেয়ারা জেলির কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। ওই সময় পেয়ারা গাছে অ্যানথ্রাকনোজ রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়লে সংসদ সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম মনি তখন বিটিভির কৃষি ভিত্তিক অনুষ্ঠান মাটি ও মানুষের প্রযোজক আলিমুজ্জামান ও শাইখ সিরাজ সহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে স্বরূপকাঠি পেয়ারা বাগান এলাকায় ৪ দিন অবস্থান করে এর ওপর সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরী করে টিভিতে প্রচার করেন।

সরকারী উদ্যোগে তখন পেয়ারা বাগান রক্ষায় ফ্রি ঔষধ বিতরণ করা হয় । এরপর ৯৬-২০০১ সালে আওয়ামীলীগ সরকার আমলে শের-ই বাংলার একমাত্র তনয় বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠি আসনের তৎকালীণ সাংসদ ও পাট প্রতিমন্ত্রী একে ফায়জুল হক স্বপ্নের পেয়ারা জেলির কারখানা তৈরীর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তন হয়ে যাওয়্ায় তার সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এদিকে এলাকাবাসী সরকারের কাছে পেয়ারা সংরক্ষনে কোল্ড স্টোরেজ ও স্বপ্নের পেয়ারা জেলির কারখানা নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।