হাসি-আনন্দে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক শুক্রবার, জুন ৭, ২০১৯ ৭:২৬ অপরাহ্ণ

হাসি আনন্দ আর ধর্মীয় ভাবগম্ভির্যের মধ্যে দিয়ে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ উল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। দিনটিকে ঘিরে ঈদের নামাজ আদায়, আত্মিয় স্বজনদের খোঁজ-খবর নেয়া, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডাবাজি সহ আনন্দে মেতে ওঠে মুসলমান ধর্মাবলম্বিরা।

তাছাড়া ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও বরিশালের বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে মানুষের ঢল নেমে আসে। ঈদের দিন দুপুর গড়িয়ে বিকাল আসতেই আবহাওয়ার বৈরিভাব উপেক্ষা করে প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রই বিনোদন প্রেমিদের ভির বাড়তে থাকে। ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পরিবার পরিজন ও পছন্দের মানুষদের নিয়ে গল্প গুজব ও আড্ডা বিনোদনের মধ্যে দিয়ে দিন পার করে তারা।

এর আগে গত ৫ই জুন ঈদের দিন সকালে বরিশাল নগরীর সহ¯্রাধিক মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। এর মধ্যে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় নগরীর বান্দ রোডস্থ হেমায়েত উদ্দিন আহমেদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত প্রধান জামাতে নামাজ আদায় করেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ জাকারিয়া, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস প্রমুখ।

তাছাড়া প্রতিমন্ত্রী ও এমপি হওয়ার পরে প্রথম ঈদ বরিশালেই আত্মিয় স্বজন, প্রতিবেশী, শুভানুদায়ী এবং দলীয় নেতা-কর্মী নিয়ে নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সদর আসনের এমপি কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। পাশাপাশি নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া আল মদিনা জামে মসজিদে পবিত্র ঈদ উল ফিতরের নামাজ আদায় করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ্ব এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার।

প্রতিটি ঈদের জামাতেই দেশ ও জাতীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। তার আগে ঈদের জামাতের খুদবায় বিশেষ বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের জামাত শেষে পূর্বের সকল দুঃখ-কষ্ট ও ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে কোলাকুলি করেন মুসলমানরা।

এদিকে ঈদের জামাত শেষ হওয়ার পর পরই নতুন পোশাক আর ঈদের সাঁজে স্বজনদের সাথে কুশল বিনিময় করতে বেরিয়ে পেরেন সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। একে অপরকে অথিতি আপ্যায়ন, করমর্দন ও কোলাকুরি করে ঈদ আনন্দ প্রকাশ করেন।

তাছাড়া দুপুর ২টার পর থেকেই নগরীর বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে মানুষের ভির বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে বিকাল ৪টার পর পরই প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রেই মানুষের ঢল নেমে আসে। সকাল থেকেই আবহাওয়ার গুমট ভাব এবং কখনো কখনো বৃষ্টি, তার মধ্যেই মানুষগুলো ভির জমাচ্ছেন নগরীর দর্শনিয় ও বিনোদন কেন্দ্র বঙ্গবন্ধু উদ্যান (বেল্স পার্ক), কীর্তনখোলা নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, ত্রিশ গোডাউন বদ্ধভূমি এলাকা, বিজয় বিহঙ্গ সংলগ্ন স্বাধীনতা পার্ক, প্লানেট পার্ক (শিশু পার্ক), শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু সহ নগরীর অভ্যন্তরিন পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র গুলো মানুষের পদচারনায় পরিপূর্ন হয়ে যায়। যা ঈদের দিন থেকে শুরু করে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো।

তাছাড়া নগরীর অদুরের বিনোদন কেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী দূর্গা সাগর পার, লাহার হাট ফেরি ঘাট, কীর্তনখোলা নদীর অপর প্রান্তে এডাম্স পার্ক, রহমতপুরের নারিকেল বাগান এবং কিছু ভ্রমন পিয়াসু মানুষ ছুটছেন নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লিলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটায়। ঈদ উপলক্ষে টানা ছুটির কারনে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত দর্শনার্থীদের ভিরে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

এদিকে ঈদ উল ফিতরকে কেন্দ্র করে চিত্তবিনোদনে বের হওয়া মানুষের নিরাপত্তার কমতি ছিলো না নগরীর বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে। প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে নারী ও পুরুষ পোশাকধারী পুলিশ, গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং সিটিএসবি সহ সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্য সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অসংখ্য সদস্য মোতায়েন ছিলো।

এর পাশাপাশি টহল ব্যবস্থাও জোরদার রয়েছে পুলিশ। তাছাড়া র‌্যাব-৮ এর পক্ষ থেকে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি নির্বিঘেœ ঈদ উদযাপনে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে।

নগর পুলিশ মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন হচ্ছে। পুলিশ সহ আইশ শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে নিরাপত্তার পাশাপাশি টহল ব্যবস্থা জোরদার রেখেছে। ফলে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।