বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০

কীর্তনখোলায় সংঘর্ষে লাইটারবাহী জাহাজ ডুবি, লঞ্চের তলায় ফাটল (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

বরিশালে কীর্তনখোলা নদীতে যাত্রীবাহি লঞ্চ ও লাইটারবাহী জাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এমভি হাজি মো. দুদু মিয়া নামের ওই লাইটারবাহী জাহাজটি নদীতে নিমজ্জিত হয়েছে।

এসময় বরগুনা-ঢাকা রুটের এমভি শাহরুখ-২ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চটি’র সামনের অংশের তলা ফেলে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় পার্শ্ববর্তী চরকাউয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন নদীর তীরে নোঙ্গর করে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে দেয়া হয়।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল নদী বন্দর সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কোন যাত্রী বা নৌযান শ্রমিক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার পরে লাইটারবাহী জাহাজটির মাস্টারকে নৌ পুলিশের হেফাজতে নেয়া হলেও যাত্রীবাহী লঞ্চের মাস্টারসহ সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে গেছে।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক এবং বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা সরকার মিঠু জানান, ‘শাহরুখ-২ নামের লঞ্চটি যাত্রী পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিয়ে বরগুনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।

লঞ্চটি দ্রুত গতিতে বরিশাল নদী বন্দর এলাকা অতিক্রমকালে বিপরিত দিকে থেকে আসা এমভি হাজি মো. দুদু মিয়া নামক সিমেন্ট বোঝাই লাইটারবাহী জাহাজের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে মুহুর্তের মধ্যে লাইটারবাহী জাহাজটি নদীতে নিমজ্জিত হয়ে যায় এবং লঞ্চটির সামনের অংশের তলা ফেটে পানি উঠতে শুরু করে। এসময় তাৎক্ষনিকভাবে লঞ্চটি বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া প্রান্তে নোঙ্গর করে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বরিশাল বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং নদী বন্দর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

নদী বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ‘দুর্ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে দুর্ঘটনার কারনে লঞ্চটির যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। রাত ১২টার দিকে এমভি পূবালী-১ নামক অপর একটি লঞ্চে দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চের কিছু যাত্রীদের উঠে দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়। বাকি যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘লঞ্চ এবং লাইটারবাহী জাহাজের মাস্টার এবং চালকদের কারনেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। কেননা যে স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে তার নিকটেই নদীর বাক থাকা সত্যেও দুটি নৌযানই দ্রুত গতিতে চালাচ্ছিলো। এজন্য লাইটারবাহী জাহাজের মাস্টারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তবে লঞ্চের মাস্টার এবং চালক পালিয়েছে।

বন্দর কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘নদীতে নিমজ্জিত জাহাজটি রাতেই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী নৌযান নির্ভিক ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চলছিলো।

অপরদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারনে যেসব যাত্রী এখনো নদীর তীরে আটকে রয়েছে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তাদের রাতের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন