বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০

এক শিক্ষিকাকে স্কুলের বরান্দায় ফেলে মারলো আরেক শিক্ষিকা (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

বরিশালের মুলাদীতে পরীক্ষার কেন্দ্রে এক বয়জেষ্ঠ নারী শিক্ষককে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সামনে প্রকাশ্যে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করেছে অপর নারী শিক্ষক। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে সকল মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৭ ডিসেম্বর শনিবার বিকেল ৩টার দিকে মুলাদীর কাজিরচর ইউনিয়নের ৯৩ নং পশ্চিম কমিশনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই তদন্তে নামে উপজেলা শিক্ষা অফিস। এমনকি তদন্ত করতে গিয়ে তারা পেয়েছেন ঘটনার সতত্যাও।

যে কারনে জুনিয়র ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম। এর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ মজুমদার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ‘ গত শনিবার বিকেল ৩টার দিকে পরীক্ষা চলাকালীন সময় সহকারী শিক্ষিকা খুরশিদা আক্তার (৪৯) এর সাথে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় সহকারী শিক্ষিকা মিনারা আক্তার লিপি (৩৪) এর। এসময় শ্রেণী কক্ষের দরজা বন্দ করে হঠাৎ করেই সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা খুরশিদা আক্তারকে মারধর করে জুনিয়র সহকারী শিক্ষিকা লিপি।

এসময় খুরশিদা আক্তারের ডাক চিৎকার শুনে বিদ্যালয়ে অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ আশপাশের লোকজন ছুটে এসে। তখন জুনিয়র ওই সহকারী শিক্ষিকা বয়জেষ্ঠ শিক্ষিকা খুরশিদা আক্তারকে টেনে হিচড়ে স্কুলের বারানায় নিয়ে এসে দ্বিতীয় দফায় মারধর করে। যা মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ভিডিও ধারন করে সেখানে উপস্থিত কোন ব্যক্তি। পরবর্তীতে তিনি ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

‘ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, জুনিয়র শিক্ষিকা লিপি জ্যেষ্ঠ শিক্ষিকাকে বসিয়ে উপুর করে দু’পায়ের মধ্যে আটকে ধরে আছে এবঙ এক হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে অন্য হাত দিয়ে একের পর এক থাপ্পর দিয়ে যাচ্ছে। এসময় অন্য এক নারী এসে তাদের ছাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে এবং শিশু শিক্ষার্থীরা দাড়িয়ে থেকে দুই শিক্ষিকার মারধরের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মারধরের ঘটনার পরে স্থানীয়রা খুরশিদা আক্তারকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমিও সেখানে ছুটে যাই। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেছি।

তিনি বলেন, ‘সহকারী শিক্ষিকা মিনারা আক্তার লিপি চলতি বছরের মার্চে এই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তার বাড়ি মুলাদীতে হলেও থাকেন বরিশালে। যে কারনে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসতে পারেন না। আবার আসলেও বিলম্ব করে আসেন। এ নিয়ে ডাক নেয়া হলে তিনি সবার সঙ্গে খারাপ আচরন করে। এক কথায় নিজের ইচ্ছা মতো চলেন তিনি। যা নিয়ে ইতিপূর্বে শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করা হলেও সেখান থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আগেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে আজ এই ঘটনা ঘটতো না।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ওই দিনই একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে তদন্ত করা হয়। অভিযোগের সত্যতা পেলে পরদিন তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাছাড়া বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল লতিফ বলেন, ‘এই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসের তদন্ত অনুযায়ী মিনারা আক্তার লিপিই অপরাধী। তার পরেও দুটি অভিযোগই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি লিপির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন