হিজলায় যুবককে নির্যাতনের পর মলমুত্র খাওয়ালো প্রভাবশালীরা (ভিডিও সহ)

সেলিম আহমেদ, হিজলা সোমবার, অক্টোবর ৭, ২০১৯

বরিশালের হিজলায় এক তেল ব্যবসায়ী যুবককে মধ্য যুগিয় কায়দায় নির্যাতনের পরে মুখে মল-মুত্র ঢেলে দেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

১মিনিট ১৪ সেকেন্ড এর ওই ভিডিওটিতে দেখা যায় যুবকটির পেছন থেকে হাত-পা বেঁধে বুকের ওপর পাড়া দিয়ে জোর করে মল-মুত্র খাওয়ানো হচ্ছে। যুবকটি অনেক চেষ্টা করেও তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।

হিজলার হরিনাথপুর তালতলা জামে মসজিদ রোড নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানাগেছে। যা নিয়ে গত কদিন ধরেই পুরো হিজলা উপজেলা জুড়ে তোলপাড় চলছে। তবে এ ধরনের কোন ঘটনা ইতিপূর্বে জানা ছিলো না বলে দাবি করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে জানাগেছে, তিনি হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের হরিনাথপুর বাজার সংলগ্ন টমুচরের বাসিন্দা মহিউদ্দিন বেপারীর ছেলে আজম বেপারী (২৫)। সে হরিনাথপুর লঞ্চ ঘাটের জ্বালানী তেল ব্যবসায়ী।

এছাড়া তাকে যারা নির্যাতন করেছে তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি হলেন- একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক সিকদারের ছেলে ও হরিনাথপুর লঞ্চ ঘাটের সুপারভাইজার মাহবুব সিকদার। সে নিজেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বলে পরিচয় দিতো। তার নেতৃত্বেই যুবককে নির্যাতন ও মল-মুত্র খাওয়ানোর ঘটনা ঘটে বলে জানাগেছে।

তাছাড়া ঘটনার পর থেকেই আজম বেপারী নামের ওই যুবকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও তার পরিবারের দাবি আজম ঘটনার পরে তাবলিক জামায়াতে গেছে। তবে এ বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি তার পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখাগেছে, ‘আজম বেপারীকে হাত-পা বেধে হেরিংবনের রস্তার ওপর সুয়িয়ে রাখা হয়েছে। তার চার দিক ঘিরে দাড়িয়ে আছে ৭-৮ জন লোক। এর মধ্যে একজন আজমের বুকের ওপর পা দিয়ে দাড়িয়ে আছে। এছাড়া অপর একজন লোক আজমের পা এবং একজন লোক তার মাথা মাটির সাথে চেপে ধরে আছে।

একটু পরেই বুকের ওপর পা দিয়ে দাড়িয়ে থাকা ব্যক্তি বিশেষ পাত্রে মল-মুত্র নিয়ে তা জোর করে আজমের মুখে ঢালার চেষ্টা করছে। তখন আজম অনেক অনুনয় বিনয় এবং ধস্তা ধস্তি করেও তাদের থেকে রক্ষা পায়নি। এসময় পাশে দাড়িয়ে কিছু লোক ওই ঘটনা উপভোগ করলেও কেউ প্রতিরোধে এগিয়ে আসেনি। আর পুরো ঘটনাটি পাশ থেকে দাড়িয়ে কেউ একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও করে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘ঝাক-ফুকের কাজ করে বলে অপবাদ দিয়ে আজম নামের ওই তেল ব্যবসায়ী যুবকে এমন মধ্য যুগিয় কায়দায় নির্যাতন করে মাহবুব ও তার লোকজন। এমনকি ঘটনার পরে ওই যুবক লোক লজ্জায় মোবাইল ফোন বন্ধ করে তাবলিগ জামায়াতে চলে যায়। তবে সে কোথায় আছে সে সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারছে না।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে খবর পেয়ে হিজলার হরিনাথপুর শাওড়া সৈয়দখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইন-চার্জ পরিদর্শক তারেক আহসান রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারনে তিনি ঘটনাটি এড়িয়ে যান।

তবে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে ফাঁড়ি ইনচার্জ পরিদর্শক তারেক আহসান রাসেল এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটেছে বলে জানেন না বলে দাবি করেন তিনি। পরে অবশ্য বলেন, ‘আমি রাতেই (সোমবার) ঘটনাটি শুনেছি। তবে ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি আমার জানা নেই। সেটি এখনো আমার হাতে এসে পৌছায়নি। মঙ্গলবার এই বিষয়ে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনা আমি শুনেছি। রাতেই স্থানীয়দের মাধ্যমে এ বিষয়ে আমার কাছে খবর আসে। তবে এখন পর্যন্ত ভিডিওটি দেখিনি। থানা পুলিশকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।