হল সুপারের বিরুদ্ধে বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীদের ২১ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) বিএম কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের সহকারী সুপার ও কলেজ শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিক্ষোভ করেছে ছাত্রীরা।

সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে নগরীর নতুন বাজার সংলগ্ন বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাস চত্ত্বরে ওই শিক্ষকের অপসারণ সহ দৃষ্টান্তমুলক বিচার দাবীতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতেই কলেজ অধ্যক্ষ এবং শিক্ষক পরিষদ নেতারা সমঝোতায় বসেন। কিন্তু সেখানেও অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুর রহিম ছাত্রীদের দেখে নেয়ার হুমকি দিলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ছাত্রীরা বলেন, সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিম মেয়েদের দিকে কু-দৃষ্টিতে তাকায়, সে রাত ১১টার পরে হুট করেই কিছু না বলে মেয়েদের রুমে ঢুকে পড়ে, রাতে টয়লেটে বসে মেয়েদের ডাকা, ছাত্রীদের সাথে আপত্তিকর কথা বলা, সার্চ করার নামে মেয়েদের লজ্জাস্থানে হাত দেয়া সহ বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানী করে আসছে।

তারা বলেন, উল্লেখিত বিষয় সহ ২১টি অভিযোগ তুলে শিক্ষক নেতা আব্দুর রহিম এর বিচার চেয়ে কলেজ অধ্যক্ষ’র বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এর আগে হল সুপার আবু সাদেক মো. শাহ আলমকেও বিষয় গুলো একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কেউ ছাত্রীদের অভিযোগের গুরুত্ব দিয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।

তবে সর্বশেষ শিক্ষার্থীদের দাবীর মুখে সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর)ে রাতে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান সিকদার, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরোয়ার ও হল সুপার সহ অন্যান্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসে। সেখানে শিক্ষার্থীরা অভিযোগগুলো উত্থাপন করা মাত্রই ছাত্রীদের প্রতি চড়াও হন সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিম।

এক প্রকার উত্তেজিত হয়ে প্রকাশ্যেই তিনি শিক্ষার্থীদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন তিনি। এতে ছাত্রীরাও ক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষনিক হল চত্ত্বরে সহকারী হল সুপার ও কলেজ শিক্ষকের বিচার দাবীতে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে কলেজ অধ্যক্ষ’র হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের কয়েকজন ছাত্রী জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিম এক ছাত্রীর রুমে প্রবেশ করে ওই ছাত্রীর শ্লিলতাহানির চেষ্টা করে। যে ঘটনাটি প্রকাশ পেলে শিক্ষক এবং হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়। যার ফলে ওই ঘটনাটি ধামা চাপা দিতেই সোমবার রাতে ছাত্রী নিবাসে বৈঠকে বসে কলেজ প্রশাসন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক ও সহকারী হল সুপার আব্দুর রহিম বলেন, ছাত্রীরা রুমে রুমে অবৈধভাবে হিটার ব্যবহার করতো। যা আমি বন্ধ করতে বাধ্য করেছি। এ কারনে যেসব ছাত্রীদের হিটারে রান্না বন্ধ হয়ে গেছে সেইসব ছাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচার শুরু করেছে।

অভিযোগ উঠেছে, বিএম কলেজের এক ছাত্রলীগ নেতার ভাইয়ের সাথে সু সম্পর্ক শিক্ষক আব্দুর রহিম এর। সেই দাপটেরই তিনি শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। আর এই সূত্র ধরেই প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রীনিবাসের সহকারী হল সুপারের দায়িত্বও পান তিনি। এরপর থেকেই তিনি ছাত্রীদের নানা ভাবে উত্যক্ত করে আসছিলো। সেই ক্ষমতার প্রভাবেই ছাত্রীদের উত্যক্তের ঘটনাটিও আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে সোমবার রাতে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক শফিকুর রহমান সিকদারের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা যায়নি।