শেবাচিমে চিকিৎসা অবহেলায় ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু !

নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ফারহাদ হোসেন জিহাদ (১৪) নামের ৭ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জিহাদ বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরলক্ষীপুর গ্রামের বাবুল আহমেদ এর ছেলে এবং চরলক্ষীপুর আর্দশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত স্কুল ছাত্র’র মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ জিহাদের স্বজনদের।

জিহাদের মামা মিলন বলেন,‘মঙ্গলবার বিকালে জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়ে জিহাদ। এজন্য তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেয়া হয় তাকে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এজন্য চিকিৎসকদের পরামর্শে মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে জিহাদকে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

জিহাদের মামা অভিযোগ করেন, ‘মঙ্গলবার রাতে ভর্তি করার পরে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক এসে কিছু চিকিৎসা এবং স্যালাইন দিয়ে চলে যান। এর পর আর কোন চিকিৎসকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ইন্টার্ন চিকিৎসকের দেয়া চিকিৎসায় রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিদর্শন দুরের কথা অরো অবনতী ঘটে।

তিনি বলেন, ‘বুধবার বেলা ১১টার পরে চিকিৎসকরা আসেন রোগীর কাছে। অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বলেন। ওই পরীক্ষাগুলো করতে নিলে জিহাদ আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। এজন্য বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসক দ্রুত তার শরীরে রক্ত দেয়ার পরামর্শ দেন। রক্ত সংগ্রহ করে তা হিজাদের শরীরে দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। দুপুর দেড়টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ডেঙ্গু আক্রান্ত জিহাদ।

মামা মিলনের অভিযোগ, তার ভাগ্নে সঠিক সময়, সঠিক চিকিৎসা পায়নি। চিকিৎসকদের অবহেলার কারনেই জিহাদের মৃত্যু হয়েছে।

তবে হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, স্বজনরা এমন কোন অভিযোগ আমাদের জানায়নি। তাছাড়া ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে আমরা সব সময় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তাদের সার্বক্ষনিক মনিটরিং করেন আমাদের চিকিৎসকরা।

তিনি বলেন, ‘জিহাদ নামের যে রোগীর মৃত্যু হয়েছে তার শারীরিক অবস্থা খুব ভালো ছিলো না। একদম শেষ পর্যায়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ কারনেই স্কুল ছাত্রকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, বর্তমানে শেবাচিমে ১১৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যার মধ্যে শিশুর সংখ্যা ২৫ জন এবং নারী রোগী ৫৫ জন।

গত ২৪ ঘন্টায় এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৪১ জন। যার মধ্যে পুরুষ ২২ জন, নারী ১৪ ও শিশু ৫ জন। এছাড়া ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৯ জন। যার মধ্যে ১৪ পুরুষ, ৪ জন নারী ও ১ জন শিশু।

গত ১৬ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করেছে মোট ২ হাজার ১৫১ জন। যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ৩৮ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের।