যাত্রী ছাউনিতে ভবঘুরে মায়ের কোল জুড়ে জন্মনিল ফুটফুটে শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

বরিশালঃ নগরীর চরকাউয়া খেয়াঘাটের যাত্রী ছাউনিতে একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান প্রসব করলেন মানসিক ভারসম্যহীন মাফুজা (২০) নামের এক ভবঘুরে্ নারী। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে এই ঘটনার পরে স্থানীয় যুবকরা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

এমনকি খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি নবজাতক ও তার মায়ের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। পাশাপাশি নবজাতক শিশুর দেখভালের জন্য একজন নারী আয়া এবং দু’জন নারী পুলিশ কনস্টেবল নিযুক্ত করেছেন তিনি।

কিন্তু নবজাতকের পৃ্ত্তিপরিচয় কি তা জানে না কেউ। এমনকি কে নিবে সদ্য ভূমিষ্ট এই নবজাতকের দায়িত্ব তাও জানা নেই কারোর। তবে কি সে মায়ের সাথে ভবঘুরে না খেয়ে অনাহারে বেড়ে উঠবে ? এমন ভাবনা এখন শিশুর আশপাশের মানুষগুলোর মধ্যে।

যদিও সদ্য ভূমিষ্ঠ এই নবজাতকদে দত্ত্বক নিতে এরই মধ্যে ভির জমেছে হাসপাতালের প্রসুতী ওয়ার্ডে। বুধবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা  পর্যন্ত সন্তান জন্মদিতে অক্ষম ৫/৬ জন দম্পতি হাত পেতেছেন পুলিশের কাছেও। কিন্তু বিধি মোতাবেক সন্তানের পৃত্তি পরিচয় না পেলে তাঁকে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের ছোট মনি নিবাসে প্রেরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মানসিক ভারসম্যহীন ওই নারী লঞ্চঘাট সংলগ্ন চারকাউয়া খেয়াঘাটের যাত্রী ছাউনিতে সন্তান প্রসব করে। পরে স্থানীয় কিছু তরুন-তরুনী তাঁকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

ওসি বলেন, নবজাতক ও তার মানসিক প্রতিবন্ধি মাকে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের তত্তাবধানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাঁদের চিকিৎসার বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা দু’জনের চিকিৎসা ব্যবস্থা করবেন। মা ও সন্তান সুস্থ হলে তার পরেও নবাজতকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সংবাদ কর্মী আল আমিন গাজী জানান, নবজাতক জন্মাবার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে একজন ধাত্রী খবর দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহিন ভবঘুরে নারীর নাভী কাটার ব্যবস্থা করা হয়। তাছাড়া খেয়াঘাটে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নবাজতক ও তার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা ব্যবস্থা করেছি। পরে থানার ওসি এসে তাদের খোঁজ খবর নেয়।