ভোলার জেলেদের মুখে হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

ভোলা: ইলিশের বাড়ি বলা হয় দ্বীপ জেলা ভোলাকে। কেননা জেলার চারপাশ জুড়ে মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে ইলিশের অভয়াশ্রমে ভরপুর। ভোলার সেই অভয়াশ্রমে ধরা পরতে শুরু করেছে কাংখিত ইলিশ। ফলে দেরিতে হলেও জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে সাগড়ে ইলিশ বেশি পড়ায় মিঠা পানির সুস্বাধু ইলিশের দাম পাচ্ছে না স্থানীয় জেলেরা।

তবু শেষ সময়ে লাভের আশায় নদীতে নৌকা নিয়ে ছুটছে, আর মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ভোলা জেলার জেলেরা। শুধু তাই নয়, জেলেদের জালে একের পর এক ধরা পড়ছে কাংখিত ইলিশ। মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে ইলিশ একটু কম হলেও সাগড়ে প্রচুর ইলিশ ধরা পরছে। ঐ মাছের সাথে বিক্রি হওয়ার ফলে দাম কম পাচ্ছে ভোলার স্থানীয় জেলেরা।

এই নদীর ইলিশ সুস্বাধু হওয়ায় এর কদরও বেশি থাকে। তবে দাম কমের কারনে পুশিয়ে নিতে পারছে না জেলে ও আড়ৎদাররা। তার পরেও জেলে ও আড়ৎদারদের আশা এভাবে মাছ পাওয়া গেলে তাদের পিছনের ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

ভোলার দৌলতখান মাছঘাটের ব্যবসায়ী মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, সাগড়ে প্রচুর ইলিশ ধরা পরছে, সেই তুলনায় মেঘনা ও তেতুলিয়ায় একটু কম। তবে স্বাদের দিগ থেকে এই নদীর ইলিশ বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু ঢাকার বাজারে সঠিক দর না পাওয়ায় আমরা বঞ্ছিত হচ্ছি।

অপরদিকে জেলে মোঃ সবুজ জানান, ভরাা মৌসুমে ইলিশ মাছ ধরা না পরলেও এখন ভালো মাছ পাচ্ছি। তাই পূর্বের দেনা পরিশোধ করতে পারবো বলে আশা করছি। ইলিশ পাওয়ায় ভালোই লাগছে। তাই তারা ছুটছেন উত্তাল মেঘনায় ইলিশ শিকারে।  ইলিশ ধরা পরতে শুরু করায় দিন-রাত বেচাকেনা হচ্ছে ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর পাড়ের মাছ ঘাট গুলোতে। হাক-ডাক দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, বিগত সময়ে ইলিশের পরিমান অত্যন্ত কম থাকা সত্তেও বর্তমানে ইলিশের পরিমান অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৃস্টিপাতের কারনে দেরিতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে যে পরিমানে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে এবং সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে পাওয়া গেলে এবছরের ১লাখ ৬০হাজার মেট্রিকটন মাছের যে উৎপাদন লক্ষমাত্রা রয়েছে তা অর্জিত হবে বলে আশাব্যক্ত করেন তিনি।