বেকার সমস্যা রোধ করতে হবে

বিএসএল নিউজ সোমবার, অক্টোবর ৭, ২০১৯

বাবা-মার বিরামহীন পরিশ্রম, আর শেষ সম্বল টুকুও শেষ করে চোখে মুখে এক আকাশ স্বপ্ন নিয়ে তার ছেলে বা মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষত করে। কিন্তু সব হাড়িয়ে বা শেষ করে শেষ বয়সে এসে যে বাবা মা দেখন তাদের ছেলে বা মেয়ে বেকার, তাদের কষ্ট বোঝার মত ক্ষমতা আমাদের নেই। বহুকাল থেকে শুরু আজও অবাহত আছে আমাদের দেশের বেকার সমস্যা। যা ধিরে ধিরে মহামারি ব্যুরোর (বিবিএস) গত প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে বেকার ছিল ২৬ লাখ ৭৭ হাজার; যা আগের বছরের চেয়ে ৮৭ হাজার বেশি। ওই সময় কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে সাড়ে ৪০ হাজার তরুণ-তরুণী বেকার ছিলেন। এ ছাড়া উচ্চমাধ্যমিক পাস করে বেকার ছিলেন ৬ লাখ ৩৮ হাজার। আর দেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি ৩৫ লাখ।
উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি
আইএলওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে দেড় যুগ আগে ২০০০ সালে সার্বিক বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১০ সালে তা ৩ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০১৩, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের হিসাবে এই হার একই থাকে (৪ দশমিক ৪ শতাংশ)। বাংলাদেশে পুরুষের ক্ষেত্রে বেকারত্ব ৩ দশমিক ৩ শতাংশ ও নারীর ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ।
বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন পর্যায়ে বেকারত্বের হার কত, তাও তুলে ধরা হয়েছিলো প্রতিবেদনে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর পার হয়নিÑএমন মানুষের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম (১ দশমিক ৮ শতাংশ)। প্রাথমিক পর্যায় শেষ করা মানুষের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। যাঁরা মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষিত, তাঁদের মধ্যে বেকার সাড়ে ৮ শতাংশ। উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকার ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। পরিসংখ্যান জরিপ যাইহোক আমাদের দেশের বেকার সমস্যা নিয়ে সরকারকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অতি জরুরি ভিত্তিতে যে সকল সরকারি মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তরের শূন্য পদ রইছে তা পুরণ করতে হবে। এসব নিয়োগে দূর্নীতি যাতে বাসা বাঁধতে না পারে সেই দিকে কঠোর নজর রাখতে হবে। দেশের বেকারত্বের রাস টেনে ধরতে সরকারকে অবশ্যই এ দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বিদেশি নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের নিয়োগ দিচ্ছে, তাদেরও দেশের বেকারত্বের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। বেকারদের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে হবে। দেশের টাকা দেশে রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে, রাখবে বলে আমরা মনে করি।