বিসিসি’র ২৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সপদে ফেরালো কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক সোমবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯

দীর্ঘ বছর ধরে উর্ধ্বতন পদে চলতি দায়িত্বে থাকা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন শাখার ২৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সপদে বহাল করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক নির্বাহী প্রকৌশলীর বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তার মূল পদে বহাল করা হয়েছে।

সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে অফিস শেষ আওয়ারে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে ওই কর্মকর্তাদের চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে।

জারিকৃত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যারা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন পদে চলতি দায়িত্ব, অতিরিক্ত দায়িত্ব, ভারপ্রাপ্ত এবং অন্তবর্তিকালিন সহ অন্যান্য দায়িত্বে নিয়জিত আছেন, বিসিসি’র প্রশাসনিক কাজের স্বার্থে এ সংক্রান্ত পূর্বের সকাল আদেশ বাতিল করা সহ পুনঃআদেশ না দেয়া পর্যন্ত তাদের সপদে বহাল করা হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

চলতি দায়িত্ব বাতিল করে সপদে বহাল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- বিসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী খান মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘ বছর ধরে ওই পদে চলতি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাকে তার মুল পদ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে বহাল করা হয়েছে।

এছাড়াও বর্তমান মেয়র এর সময়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্বে থাকা মো. আনিচুজ্জামানকে তার মুল পদ নির্বাহী প্রকৌশলী পদে বহাল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দুর্নীতির দায়ে প্রথমে ওএসডি এবং পরবর্তীতে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মোতালেব হাওলাদারকে তার মুল পদ নির্বাহী প্রকৌশলী পদে র্বহাল করা হয়েছে।

একইভাবে প্রকৌশল শাখায় সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মকসুমুল হাকিম রেজা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে পানি শাখায় চলতি দায়িত্বে সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা আরিফুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে পানি শাখায় সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা মামুন অর রশিদ, কার্যসহকারী থেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) এর দায়িত্বে থাকা আহসান হাবিব ও হানিফ হোসেন, অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদ থেকে চলতি দায়িত্বে উচ্চমান সহকারী জলিল মিয়াকে সপদে বহাল করা হয়েছে।

এছাড়া হিসাব শাখার সিহাব সহকারী থেকে উচ্চমান সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন, হিসাব সহকারী থেকে সহকারী হিসাব রক্ষক একেএম জামাল উদ্দিন, প্রকৌশল শাখার উচ্চমান সহকারী থেকে প্রধান সহকারী (হেড ক্লার্ক) লকিতউল্লাহ সিকদার, কর আদায় শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর থেকে উচ্চমান সহকারী জাকিয়া আক্তার, পানি সরবরাহ শাখার সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ওমর ফারুক, পানি শাখার সুপারভাইজার পদ থেকে একই শাখার সহকারী তত্ত্বাবধায়ক সোহরাব হোসেন,

পরিচ্ছন্নতা শাখার ওয়ার্ড সুপারভাইজার থেকে পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক আবুল কালাম রানা, কর আদায় শাখার উপ-কর কর্মকর্তা থেকে রুটিন দায়িত্বে কর কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বাবলু, ভান্ডার রক্ষক থেকে উপ-কর কর্মকর্তা মুহসিন তুহিন, বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ওএসডি হওয়া কাজী মনিরুল ইসলাম স্বপন, কর আদায় শাখার বিল ক্লার্ক থেকে উচ্চমান সহকারী রাজিউর রহমান, যানবাহন লাইসেন্স শাখার অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর থেকে লাইসেন্স পরিদর্শক।

পরিবহন শাখায় সহকারী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থেকে দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপ-সহকারী প্রকৌশলী কমাল কৃষ্ণ দাস, মেয়র এর ব্যক্তিগত সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদ থেকে কর শাখার এ্যাসোসর কবির হোসেন, পাম্প অপারেটর থেকে পাইপ লাইন সুপারভাইজার আনিছুর রহমান, ভাল্ব অপারেটর থেকে পাইপ লাইন সুপারভাইজার হুমায়ুন কবির, কর আদায় শাখার উপ-কর কর্মকর্তা থেকে কর কর্মকর্তা আবুয়াল মাসুদ মামুন ও পানি শাখার নৈশ প্রহরী থেকে পাম্প অপারেটর ইদ্রিস আলীকে সপদে বহাল করা হয়েছে।

তথ্য নিশ্চিত করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত হাসান বাবলু বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজের স্বার্থে নগর কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে যারা ওএসডি অবস্থায় আছেন তাদের সপদে ফিরিয়ে আনা হলেও ওএসডি’র আদেশ প্রত্যাহার হয়নি।

তিনি বলেন, ‘নির্বাহী প্রকৌশলী পদে বহাল হওয়া আব্দুল মোতালেব এর অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধিন রয়েছে। তাই কাজের স্বার্থে তাকেও তার মুল পদে বহাল করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত প্রমানিত হলে নগর কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।