বরিশাল নদী বন্দরে প্রবেশ মূল্য বাড়লেও বাড়েনি সুযোগ-সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, অক্টোবর ৬, ২০১৯

বরিশাল নদী বন্দরে যাত্রীদের প্রবেশ মূল্য বেড়েছে দ্বিগুন। এক সময়ের পাঁচ টাকার টিকেট এখন সংগ্রহ করতে গুনতে হচ্ছে ১০ টাকা। অথচ বাড়েনি যাত্রীদের সুযোগ সুবিধা। সুযোগ সুবিধার মধ্যে একমাত্র পন্টুনে যাত্রী ছাউনিতে বসার জন্য বেঞ্চের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু তাও দখল করে আছে ভ্রাম্যমান হকাররা। তারা দিনের পর দিন যাত্রী ছাউনি দখল করে আছে। তাই গভির রাতে লঞ্চ থেকে নামা বা লঞ্চের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা পাচ্ছে না একটু বসার জায়গা।

অথচ এ বিষয়টি দৃষ্টি নেই নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ কিংবা নৌ পুলিশের। তবে অভিযোগ রয়েছে পন্টুনের যাত্রী ছাউনি দখল করে ব্যবসা পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন নৌ বন্দর ও নৌ পুলিশের কতিপয় অসাধু সদস্য। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নদী বন্দর সূত্রে জানাগেছে, ‘বরিশাল নৌ বন্দরে ১২০ ফুট করে মোট ৬টি পন্টুন রয়েছে। যার মধ্যে তিনটি পন্টুন দূরপাল্লার রুটের এবং বাকি তিনটি এক তলা লঞ্চের জন্য বরাদ্দ। ছয়টি পন্টুনের যাত্রী ছাউনিতেই রয়েছে যাত্রীদের বসার জন্য বেঞ্জের ব্যবস্থা। এসব পন্টুন ও যাত্রী ছাউনি রক্ষনাবেক্ষনে বার্ষরিক ব্যয় রয়েছে। যা যাত্রীদের কাছ থেকেই প্রবেশ ফি হিসেবে আদায় করা হচ্ছে। বছর শেষে এই আদায়ের হার কোন কোন সময় কোটি টাকায় পৌছায়। এখন প্রবেশ ফি ১০ টাকায় উন্নিত হওয়ায় আদায়ের পরিমানও দ্বিগুন হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

তবে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে না। বৃদ্ধি করা হচ্ছে না আধুনিক নৌ-বন্দর খ্যাত এই টার্মিনালের সুযোগ সুবিধা। গণ সৌচাগার আর নামমাত্র যাত্রী ছাউনি ছাড়া আর কোন সুযোগ সুবিধাই জোটছে না যাত্রীদের ভাগ্যে। কেননা পন্টুনে যে যাত্রী ছাউনি রয়েছে তার বেঞ্চগুলো দখল করে আছে লঞ্চ কোম্পানি ও ভ্রাম্যমান হকাররা।

সরেজমিনে দেখাগেছে, ‘যাত্রী ছাউনির চার দিক দখল করে আলাদা আলাদাভাবে রুটি-কলা, বিস্কুট, পানিসহ বিভিন্ন জিনিপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছে ভ্রাম্যমান হকাররা। হঠাৎ দেখলে মনে হবে ছোট-খাট হাট বসেছে। দ্বিতল লঞ্চঘাটের ১নম্বর গ্যাংওয়ের প্রবেশ দ্বার সংলগ্ন পন্টুনের বিশাল অংশ জুড়ে বসেছে লঞ্চের টিকেট কাউন্টার।

যেখানে চেয়ার-টেবিল বিছয়ে দুপুর থেকেই এমভি টিপু, এমপি পূবালী, এমভি ফারহান এবং এমভি কুয়াকাটা লঞ্চের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। এ কারনে যাত্রীরা বসার জায়না না পেয়ে পন্টুনের এপাশ ওপাশ পায়চারি করে সময় কাটান। আবার বিকেল থেকে লঞ্চ ছাড়ার পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত ভিরের কারনে পন্টুনে দাড়াবার জায়গাও থাকছে না।

শনিবার ভোর রাতে লঞ্চ যোগে বরিশাল বন্দরে পৌছানো ভোলা সদরের বাসিন্দা শাসমুল আলম বলেন, ‘ ভোরে লঞ্চ থেকে নেমে ভোলার লঞ্চ ছাড়ার জন্য পন্টুনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু পন্টুনে বসার কোন জায়গা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দাড়িয়ে সময় কাটাতে হয়। কেননা পন্টুনের যাত্রী ছাউনি দখল দিয়ে আছে ভ্রাম্যমান হকাররা।

‘শনিবার ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা উজিরপুরের বাসিন্দা আনিসুল হক ক্ষুব্ধ সুরে বলেন, ‘অযৌক্তিকভাবে নদী বন্দরে প্রবেশ ফি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু যাত্রীদের জন্য নূন্যতম সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়নি। নদী বন্দরে দীর্ঘ বছরেও বাড়ানো হয়নি পন্টুনের সংখ্যা। রাতে লঞ্চ থেকে নেমে যাত্রীরা পন্টুনে বসে অন্য লঞ্চের জন্য যে অপেক্ষা করবে তারও উপায় নেই। তার মধ্যে পন্টুন দখল করে ভ্রাম্যমান হকারদের বানিজ্য চললেও সে বিষয়ে খোঁজ রাখছে না বন্দর ও নৌ পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে নদী বন্দর ভবনে যাত্রীদের জন্য যে টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে তারও খুব খারাপ অবস্থা। নিয়মিত ধোয়া মোছা হচ্ছে না সৌচাগারগুলো। দূর্গন্ধে বাথরুমের পাশ থেকে হাটাও দুস্কর। বন্দর ভবনের নীচতলা এবং ব্রেস্ট ফিডিং রুমটিও দখল করে রাখছে ঘাটের শ্রমিকরা। পন্টুনের বাইরে গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা থাকলেও নেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে মোটরসাইকেল, রিক্সা-ভ্যান নিয়ে রাখা হচ্ছে পন্টুনের ওপরে।

এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় বরিশাল সদর নৌ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আল আমুনের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব শুধু আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে রাখা। আমরা সেটাই করছি। বন্দর কর্তৃপক্ষ যেভাবে বলেন আমরা সেভাবেই ব্যবস্থা নেই। পন্টুনে হকারদের বিষয়ে বন্দর কর্মকর্তা কখনো কিছু বলেন না, তাই আমরাও আগ বাড়িয়ে কিছু করতে যাই না। তবে পন্টুন দখলমুক্ত রাখার বিষয়টি আইন শৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে এ ব্যাপারে বন্দর কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন নৌ পুলিশের ওসি।

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ বন্দর কর্মকর্তা (যুগ্ম পরিচালক) ও নৌ-নিট্রার উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকারের কাছে পন্টুন বেদখলের বিষয়ে জানতে চাওয়া মাত্রই তিনি বলেন, ‘এখনই আমি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। নৌ পুলিশকে বলে ওদের উচ্ছেদ করছি। তবে এতো দিন কেউ উচ্ছেদ হলো না এমন প্রশ্ন করা হলে এড়িয়ে যান বন্দরের এই কর্মকর্তা।