ফাঁস আর বাঁশ নিয়া হায়-হুতাশ

বেলায়েত বাবলু বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৯, ২০১৯

ফাঁস শব্দটি অতীব পুরাতন শব্দ হইলেও ইদানীং এর ব্যবহার বহুগুনে বেড়েছে। গলায় ফাঁস দিয়া অমুকে ঝুলিয়া পড়িয়াছে এটা হরহামেশা শোনা যায়। প্রশ্ন পত্র ফাঁসের কথাও সবাইর জানা। কিন্তু কয়েকদিন ধইরা একটি ফাঁসের ঘটনা সবাইকে লাড়াইয়া দিছে। প্রশাসনের এক কর্তা ব্যক্তির অন্য নারীর সাথের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের যে ভিডিও ফাঁস হইয়া গেলো তা নিয়া তো সবখানে ছি ছি আওয়াজ পইড়া গেলো।

ভিডিওটা কেডা ফাঁস করলো সেটা কড় কথা নয়, বড় কথা হইছে প্রশাসনের ওই কর্তা ব্যক্তি কাজটা মোডেও ঠিক করে নায়। তিনি না হয় ওএসডি হইছেন। তার পরিবারের কথা একটু ভাবুন। তার পরিবার বা পরিচিতজন ওই ঘটনা ফাঁস হইয়া যাওয়ার পর কি মোটেও শান্তিতে বা স্বস্তিতে আছে। আচ্ছা যেই কাজ ফাঁস হইয়া গেলে নিজের পাশাপাশি অন্যেরও ক্ষতি হইবে তা না করলে হয়না।

আর খালি প্রশাসনের ওই কর্তা ব্যক্তির দোষ দিয়া লাভ কি? মোরাও কি সাধু হইতে পারছি? আজ যারা ফাঁস হওয়া ভিডিও দেইকা মজা লইতাছি তারা যে কয়জন ভালো একমাত্র উপর আলায়ই ততা ভালো জানে। অনেকে ভাবতে পারেন মুই প্রশাসনের ওএসডি হওয়া ওই ব্যক্তির পক্ষে সাফাই গাইছি। আসলে তা না। আমি চাচ্ছি ওনার ওই অবস্থা দেখে মোরা মজা না নিয়া নিজেদের ভুল থাকলে তা থেকে যেন শুধরানোর চেষ্ঠা করি। মনে রাখতে হবে লোভ মানুষকে জামালপুরের ডিসির মতো পরিনতি ঘটায়।

এবার আসি বাঁশ নিয়া দুচার কথায়। বাঁশ। অতীব প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। আমার গিন্নি প্রায়ই আমাকে বলে থাকে টুনি থাকতে জাইততা ধরো বাঁশ হইলে ব্যাড় পাইবানা। মাঝে মাঝে দেখি ওর কথাটি অতীব গুরুত্বপূর্ন। অনেকরে লাই দিয়া মাথায় তুইললা দেখছি হয় মাথায় উপর ডুগডুগি বাজায় নচেৎ সুযোগ পাইলে মুইত্তা দেয়। কেউ কেউ আবার গোয়ার পিছনে বাঁশ দেয়ার জন্য তৈলাক্ত বাঁশ নিয়া তৈরী থাকে। সুযোগ পেলেই তার সদ্বব্যবহার করবে আর আইক্কা গোনবে।

কিন্তু তারা একবারের জন্যও ভাবেনা মারা গেলে কিন্তু এই বাঁশই হইবে তাদের সম্বল। তাদের অহংকারের দেহখানা যাতে শেয়াল, কুত্তায় টানাটানি কইরা নিয়া যাইতে না পারে তার জন্য বাঁশ দিয়া ওই মরদেহ চাপা দিয়া রাখা হয়। কিন্তু চোরে না শোন ধর্মের কাহিনী। আজ একটা গল্পের কথা মনে পড়লো।

‘এক গ্রামে এক বৃদ্ধ নাকি সবাইরে জ্বালাইতো। একদিন ওই বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়লো। গ্রামের লোকজন তারে দেখতে গেলো। তখন সকলকে ধরে সে বিনয়ের সহিত বললো আমিতো হারা বছর তোগো জ্বালাইছি। এবার আমার একটা শেষ ইচছা আছে তোরা এক কাজ কর। আমি মইরা গেলে তোরা আমার লাশের পাছায় বাঁশ দিয়া চৌরাস্তার মাথায় খাড়া কইরা রাখিস।’

যথারিতী বৃদ্ধ মারা যাওয়ার পর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী লাশের পাছায় বাঁশ দিয়া চৌরাস্তায় খাড়া করে রাখা হলো। এ খবর পেয়ে পুলিশ ছুটে এলো এবং যারা এ কাজের সাথ জড়িত তাদের গ্রেপ্তার করলো। তখন কেউ কেউ বইলা উঠলো বুইড়ায় মইরাও গেলো, মাইরাও গেলো। এ থেকে আমরা কি শিখতে পেলাম? আমরা বুঝতে পারলাম না বুঝে শুনে যেখানে সেখানে বাঁশ দিতে নেই,,,,,,

 

লেখক

বেলায়েত বাবলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়ন।