নিষেধাজ্ঞার খবরে বরিশালের বাজারে ইলিশ মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, অক্টোবর ৯, ২০১৯

আজ ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। তাই মা ইলিশ রক্ষায় আজ রাত ১২্টা ১ মিনিট থেকে ২২ দিন ইলিশ শিকার, আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয়ের  উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।

এমন খবরে বরিশালের বাজারগুলোতে ইলিশ কেনা বেচার ধুম পড়েছে। সন্ধ্যা থেকে শুরু করে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাজার গুলোতে ক্রেতাদের ভিরে দিশেহারা হয়ে পড়ে বিক্রেতারা। রাত বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতার ভিরও জেন বাড়তে থাকে। দেখে মনে হয় যেন বাজার গুলোতে বসেছে ইলিশের মেলা।

বিশেষ করে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের একমাত্র বেসরকারি মৎস্য অবতরন কেন্দ্রে অন্যান্য বাজারের তুলনায় ভির কয়েক গুন বেশি। শেষ দিন বিধায় পোর্ট রোড মোকামে ইলিশের আধিপত্যও বেশি। এমনকি যারা আসছেন কেউ ফিরছেন না খালি হাতে। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে নিকে নিচ্ছেন রূপাতলী ইলিশ।

সরেজমিনে পোর্ট রোড মোকাম ঘুরে দেখা যায়, পরো আড়ৎ জুরেই ইলিশের আধিপত্য। বিগত দিনের থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরুর প্রাক্কালে সাগর ও নদী থেকে দ্বিগুন ট্রলার এসেছে। ফলে ইলিশের আমদানিও বেশ ভরপুর।

পোর্ট রোডের কামাল ফিস নামক আড়তের মালিক কামাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা শুরুর কারনে মাছের আমদানি বেশি। কারন সাগর ও নদীতে থাকা ট্রলারগুলো মোকামে এসে পড়েছে। তবে বরিশালের মাছ বেশিরভাগ চাঁপুরে চলে যাওয়া ইলিশের আমদানি এখানে তুলনামুলক কম।

অপর মৎস্য আড়তদার ইয়ার উদ্দিন বলেন, ‘৯ অক্টোবর থেকে মাছ বিক্রি করা যাবে না। এজন্য সামান্য লাভ হলেই ইলিশ বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। তবে এতে ব্যবসায়ীদের বেশি একটা লাভ না হলেও কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি বড় সাইজের ইলিশ এখন ছয়শত টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। পারলে এর থেকে কম দামেও ছাড়া হয়েছে। তাছাড়া ৫/৭শ গ্রামের মাছ ৫শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর নীচের সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চারশত টাকার মধ্যে।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (হিলসা) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, মুলত রাত ১২টার পরে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়েরও সুযোগ নেই। কিন্তু ব্যবসায়ীদের লোকশানের কথা ভেবে যে মাছ মোকামে রয়েছে সেগুলো বিক্রি’র সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে এর পর আর ২২ দিনের মধ্যে ইলিশ কেনা-বেচা থেকে শুরু করে সকল কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

তিনি বলেন, সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার কারনে সাগর নদীতে ইলিশের আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বৃহৎ শার্তে সামান্য ত্যাগ করতেই হবে। তাছাড়া বরিশালের জেলে এবং মৎস্য ব্যবসায়ীদের আগের থেকে অনেক সচেতন। যে কারনে মৎস্য সম্পদও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবশ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নৌ পুলিশ এবং কোস্টগার্ড সহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।