নাম দিয়ে যায়না চেনা, তবু নাম ধরেই বলি

নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

বেলায়েত বাবলুঃ জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস একটা গানে বলেছিল হায় বাঙালীর নামের কি বাহার। পথে পথে ভিক্ষা করে বাদশা মিয়া নাম তাহার। হ্যা আজ নাম নিয়াই এ লেখাটা লিখতে চাই। আমাদের প্রিয় বরিশাল নগরীতেও তাক লাগানো অনেক নাম আছে। বরিশাল নগরীর রায় রোডে রায় দেয়ার মতো কোন কর্তাব্যক্তি এখন আর খুজে পাওয়া যায়না। ফকিরবাড়ী রোডে কোন ওঝা ফকির আছে কিনা জানা নাই। নামটা থাকলেও কাঠের পুলটি কিন্তু এখন আর কাঠের না।

বছরের পর বছর কেটে গেলেও নতুন বাজারটি কখনো পুরানো হচ্ছেনা। কাউয়ার চর খেয়া ঘাটকে সহসা কেউ চরকাউয়া খেয়াঘাট বলেনা। কাটপট্টি রেডে কাঠের অস্বিস্ত পাওয়া না গেলেও সাম্প্রতিক সময় বি্এনপি ঘরানার এক নেতার বাসার ছাদে এডিস মশার লার্ভার অস্বিস্ত পাওয়ায় তাকে জরিমানা করা হয়েছ। তবে নগরীর ডেঙ্গু সরদার রোডে কয়টা সরদার বাড়ী আছে তা জানা না গেলেও সেখানে এখন পর্যন্ত কোন ডেঙ্গু রোগীর অস্বিস্ত পাওয়া যায়নি এটা পুরোপরি নিশ্চিত।

খোকার গ্রেজে আগের মতো গ্রেজ আসে কিনা তা সেখানকার মানুষেরা ভাল বলতে পারবে। নাজির মহল্লার গরুর খোয়াড়ের রাস্তাটিতে গরু আছে কিনা আমার জানা নাই। লাইন রোডে কিসের লাইন হয় সে রহস্য আজো অজানা রয়ে গেছে। নাজির মহল্লায় এখন কোন নাজিরের বসবাস নাই এটা পুরোপুরি নিশ্চিত। ঝাউতলা প্রথম গলি, দ্বিতীয় গলি ও তৃতীয় গলিতে ঝাউ গাছের অস্বিস্ত আছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সোনালী আইস ক্রীমের মোড় থাকলেও নেই সোনালী আইসক্রীম। কাকলীর মোড়, বিউটি রোড ও সোনালী হলের মোড়ে আর সিনেমা হলের অস্বিস্ত নেই।

গানে শুনেছিলাম আবার জমবে মেলা বটতলা, হাটখোলা। বটতলায় কখনো মেলা বসেনি একথা শুনেছি। আর হাটখোলার মেলাটি অনেক আগে বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা প্রায়শই দিন কাল নিয়ে অর্থাৎ সময় কাল নিয়ে কথা বলে থাকি। তবে আমাদের সময় (পত্রিকা) অথবা আমাদের নতুন সময় ( পত্রিকা) নিয়া কম বেশী আলোচনা চললেও জামায়াত সমর্থিত দিনকালের অবস্থা যে ভালনা এটাই এখন কম বেশী সবারই জানা।

এছাড়া জামায়াতের মুখপত্র সংগ্রাম পত্রিকাটি প্রানপন সংগ্রাম করেও বাজারে টিকে থাকতে পারছেনা। ইদানীংকালে আমাদের বরিশালের পত্রিকার মালিকেরা দখিনার প্রেমে পড়েছেন এতে কোন সন্দেহ নেই। দখিনা নাম নিয়া বরিশালে যে কতোটি পত্রিকা আছে তার কোন ইয়াত্তা নাই। আমার এক নানী আছিল। গায়ের রং কালো থাকলেও বাবা মা তারে ভালবাইসা লালবরু বলে ডাকতো। আরেকজন কে চিনতাম যার গায়ের রঙ যেমন কালো তেমনি দেখতে খুব একটা সুন্দর না।

কিন্তু তার বাবা মা তাকে সুন্দর আলী বলেই ডাকতো এবং পরবর্তীতে সবার কাছে সে ওই নামেই পরিচিত হয়ে ওঠে। অনেক ফর্সা মানুষ বাবা মায়ের দেয়া নামের কারনে কালা চাঁদ, কালু, কালা খাঁ নামেই অধিক পরিচিত। ছোটকালে টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনে বারবার খালি একটা নাম শুনতাম। সেটা হলো দেখো রোমানার বাহার, দেখো রোমানার বাহার। রংয়ের এই নামটিও আমার মনে রং ধরিয়ে দিয়েছিল।

তাইতো ভালবেসে ঢাকার রোমানাকেই জীবন সঙ্গিনী করে একসাথে দীর্ঘদিন একই ছাদের নীচে বসবাস করছি। আসলে নামের বিষয়ে লিখতে গিয়ে নিজের নামটা নিয়াও ভাবনায় পড়ি। কারন বাবা, মায় তার এই ছোট ছেলেটির নাম বাবলু রাখলেও অনেকেই আমাকে হাবলু বলে মনে করে তাচ্ছিল্য করার চেষ্ঠা করে। যাক কি আর বলবো। গানের ভাষায় একটা কথাই বলতে ইচ্ছে করে নামের বড়াই করোনা কেউ নাম দিয়ে কি হয়, নামের মাঝে পাবেনাতো সবার পরিচয়।

 

লেখকঃ

বেলায়েত বাবলু

সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়ন