জাপার সাংসদকে হেনস্থা করতে আ’লীগ নেতার জালিয়াতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

বরিশালঃ মূলাদী উপজেলার চরবাড়ি লঞ্চঘাট এর ইজারাদার আ. মালেক ঢালী। সোমবার তিনি নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার নাম ব্যাবহার করে একজন সংসদ সদস্য’র বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে যা আদৌ সত্য নয়। বরিশাল-৩ আসনের সাংসদ গোলাম কিবরিয়া টিপুর বিরুদ্ধে যে সংবাদ সম্মেলন করা হয় তার প্রতিবেদনে মালেকের স্বাক্ষর থাকলেও তা জালিয়াতি করে নেয়া হয়েছে।

আর গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সরদার মনিরুজ্জামান সড়ক কার্পেটিং করার নাম করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তার স্বাক্ষর নিয়েছে বলে দাবি মালেক ঢালীর। তাই এর বিচার চেয়ে তিনি নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন।

একই অভিযোগ করেছেন পূর্ববার্নিমদন লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো. অলিউর রহমান। তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন সরদার মনিরুজ্জমান তার ঘাট এলাকায় সড়ক নির্মানের কথা বলে স্বাক্ষর নিয়েছেন। তখন সাদা কাগজ ছিলো। এরপর তিনি মেসার্স আগরপুর ও মেসার্স ফারহান লঞ্চে এ সময়সুচি বাতিল ও সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

কেবল অলিউর রহমান, মালেক ঢালীই নয় এরকম অভিযোগ করেছেন আরও অন্তত ১০জন ঘাট ইজারাদার। তাদের সকলের দাবি অন্য লঞ্চ কোম্পানীর কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে সরদার মনির তাদের কাছ থেকে প্রতারনা করে স্বাক্ষর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

গত ২৫ আগস্ট সরিকল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সরদার মনিরুজ্জামান বরিশাল রিপোটার্স ইফনিটিতে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন ঢাকা-বরিশাল ভায়া নন্দীর বাজার নৌপথে মেসার্স ফাহান ও মেসার্স আগরপুর নেভিগেশন কোম্পানীকে অবৈধভাবে সময়সুচি দেয়া হয়েছে।

এই সময়সুচি বাতিলের দাবিতে তিনি সেখানকার ১৮ জন ঘাট ইজারাদারের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি প্রতিবেদন সংবাদকর্মীদের সরবারহ করে। যা তিনি পাঠও করেছিলেন। তবে ওই প্রতিবেদনে যে ১৮ জনের স্বাক্ষর ছিলো তাদের মধ্যে ১০ জনের স্বাক্ষর নেয়া হয়েছিলো সড়ক কার্পেটিং এর কথা বলে জালিয়াতি করে। আর ৮ জনের মধ্যে ৫ জন কোন ঘাটের ইজারাদারই নয়। তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে ।তারা সংসদ সদস্যর কাছে এই মর্মে অঙ্গিকারও দিয়েছেন।

ওই প্রতিবেদনে স্বাক্ষর থাকা মো. সবুজ সরদার বলেন, আমি কোন লঞ্চঘাট ইজারাদার নই। তারপরও আমাকে সফিপুর ঘাট ইজারাদার দেখানো হয়েছে। একইসাথে ওই প্রতিবেদনে যে স্বাক্ষর রয়েছে তা আমার না। জাল করেছে মনির।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঘাট ইজারাদার বলেন, ঢাকা-বরিশাল ভায়া নন্দীর বাজার নৌপথে মেসার্স ফাহান ও মেসার্স আগরপুর নেভিগেশন কোম্পানীর লঞ্চ নামানোর জন্য এই মনিরই জোর চেস্টা করেন। তিনি এজন্য ইউপি সদস্য থেকে শুরু করে নৌ-মন্ত্রীকে দিয়ে এই দুই লঞ্চের সময়সুচি চেয়ে করা আবেদনে সুপারিশ করিয়েছেন। কিন্তু মনির ধুরন্দর প্রকৃতির লোক হওয়ায় লঞ্চ কোম্পানী তাকে প্রত্যাখান করেছে। এজন্য সে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেছে।

এ বিষয়ে জানার জন্য সরদার মনিরুজ্জামান মনিরকে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করে জালিয়াতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্যাস্ত আছি বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপরে ফোন রিসিভ করেননি।

তবে বরিশাল- ৩ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু বলেন, সময়সুচি নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয় দিবে। এখানে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। তবে যিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি যেসকল ঘাট ইজারাদারদের নাম ব্যাবহার করেছেন এবং স্বাক্ষর নিয়েছেন তারা অনেকেই এ ঘঁনাটি জানেন না। তাই উল্লেখ করে অঙ্গিকার নামা দিয়েছেন।