গোপনে বোরখা পড়ে অফিস করছে জামালপুর ডিসি’র সাধনা !

নিজস্ব প্রতিবেদক সোমবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯

জামালপুরে জেলা প্রশাসকের খাস কামড়ায় সাবেক ডিসি আহমেদ কবির এর সাথে যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়া অফিস সহকারী সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা চাকুরি হারানোর ভয়ে অসুস্থতাজনিত ছুটি কাটিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।

প্রতিদিনই তিনি গোপনে বোরখা পড়ে মুখ ঢেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে হাজিরা দিচ্ছিন। তবে কখন আসছেন আবার কখন গোপনে চলে যাচ্ছেন তা জানেন না তার সহকর্মীরাও।

তাছাড়া চাকুরি বাচাতে নামে মাত্র দায়িত্ব পালন করা সাবেক ডিবি’র সাধনা জামালপুর জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে বদলি হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। সদ্য যোগদান করা নতুন জেলা প্রশাসক বরাবর এই আবেদনটি করেন তিনি। এত তার বদলির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানাগেছে, নিজ কার্যালয়ের গোপন কক্ষে জামালপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আহমেদ কবির এর সাথে অফিস সহকারী সানজিদা ইয়াসমিন সাধানার অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যা নিয়ে দেশ জুড়ে আলোচনার ঝড় শুরু হয়।

এ ঘটনার পর পরই হঠাৎ করে লাপত্তা হয়ে যায় সাবেক ডিসি’র সেই সাধনা। তাছাড়া বিতর্কিত ডিসিকে ওএসডি করা হলে রাতের আধারে পালিয়ে যান তিনি। এই ঘটনায় গত ২৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার ডিসি’র বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ৫ সদস্যের তদন্ত টিম। সে অনুযায়ী ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু তা না করে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৮ সেপ্টেম্বর তদন্তের মেয়াদ আরো ১০ দিন বাড়িয়ে দেয়া হয় মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে।

এদিকে অফিস সহকারী সাধনা অসুস্থতার কারন দেখিয়ে ৩ দিনের ছুটির আবেদন করে। ছুটি শেষে ১ সেপ্টেম্বর পুনরায় অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ৫ দিনের ছুটির আবেদন করে সাধনা। কিন্তু তার সেই আবেদন না মঞ্জুর করেন বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. এনামুল হক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ‘সাধনা ছুটি না পেয়ে প্রতিদিনই অফিস করছে। তবে সেটা খুবই গোপনীয়তার সাথে। প্রতিদিন সকাল পৌনে ৯টায় বোরখা পড়ে নেকাপে মুখ ঢেকে রিক্সা যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসছেন। সবার অগোচরে সিঁড়ি বেয়ে ডিসি অফিসের গোপনীয় শাখায় প্রটোকল অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিচ্ছেন তিনি। কিন্তু সেখানে পাঁচ মিনিটের মত অবস্থান করে আবার গোপনেই কর্মস্থাল ত্যাগ করছেন সাবেক ডিসি’র সাধনা।

জামালপুর জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক মো. এনামুল হক বলেন, ‘সাধনা এখন চাকুরি থেকে বাদ পড়েনি। তাই তার হাজিরা গ্রহন করা হচ্ছে। তাছাড়া তার বদলির আবেদন গ্রহন করা হয়েছে। এ বিষয়টিও তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত দিবে।