কক্সবাজারে মেঘ দেখলেই বন্ধ সড়ক সংস্কার কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

সোহেল মোহাম্মদ মুবিন চৌধুরী, উখিয়াঃ কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার ব্যস্ততম এলাকা কোটবাজার। যেখানে চলছে চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। দুদিন চলে, তো তিন দিন বন্ধ থাকে। তার মধ্যে আকাশে মেঘ দেখলেই বন্ধ হয়ে যায় সংস্কার কাজ। এমন করেই বছর পার করে দিয়েছে ঠিকাদার। এর ফলে রাস্তাটি জনসাধারণে ভোগান্তির অন্যতম কারন হয়ে দাড়িয়েছে।

সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটিতে রাস্তা জুড়ে জল কাদায় একাকার আবার শুস্ক হলে ধুলোবালিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। ফলে সেখান থেকে জনসাধারণের চলাচল দুস্কর হয়ে পড়েছে। গাড়ি কিংবা রিকশা নিয়ে যাতায়াত করা তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচলেরও উপায় নেই।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিকল্প পথ ধরে ধরে চলতে হচ্ছে পথচারীদের। কিন্তু বিকল্প সড়ক সেগুলোর অবস্থাও একই। উখিয়ার মরিচ্যা স্টেশন থেকে থাইংখালি স্টেশন পর্যন্ত হাজারো গর্ত থাকায় চালকেরা ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারছেন না।

এলাকাবাসীর ধারণা, ঠিকমতো কাজ করলে এই সড়কটি সম্পূর্ণ ঠিক হতে সময় লাগত ২০ দিন থেকে সর্বোচ্চ ১ মাস। সারা বছর জুড়ে কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান দেখতে পর্যটকদের ভীড় লেগেই থাকে। উখিয়ার রুপসী কন্যা ইনানী সমুদ্র সৈকত, কানা রাজার গুহা, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও টেকনাফের মাথিনের কুপ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ দেখতে আসা ভ্রমণ পিপাসু মানুষের রাস্তা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কটি এমন অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত যেমন আমাদের কক্সবাজারে, তেমনি বিশ্বের দীর্ঘতম শরণার্থী শিবিরও রয়েছে কক্সবাজারের উখিয়ায়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সেবা দিতে আসা শত শত এনজিওর হাজারো গাড়ি চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়া এবং দীর্ঘ যানজটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। তারা ঠিকমতো অফিস-আদালত, ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারছেন না।

উখিয়া সদর কাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা কক্সবাজার সিটি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তমিম দারি বলেন, সবসময় উখিয়া-কোটবাজার সড়ক দিয়ে সী লাইনে অথবা বাসে উঠে কলেজে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু রাস্তাটি খুঁড়ে রাখায় এই পথ দিয়ে চলাচল করা একে বারেই বন্ধ করে দিয়েছেন এই শিক্ষার্থীর। এখন ভিন্ন রাস্তা দিয়ে ছলাচল করেন তিনি।

তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, কোটবাজার স্টেশনে বড় বড় গর্তের কারণে পানি জমে থাকে। আবহাওয়া শুস্ক হলে ধুলোবালি আর বৃষ্টি হলে কাদামাটি। পরিস্কার কাপড়-চোপড় গাঁয়ে দিলে, খুব তাড়াতাড়ি নোংরা হয়ে যায়। তাই দু-তিন মাস ধরে এক বন্ধুর সাথে বাইকে করে বিকল্প রাস্তা উখিয়া বঙ্গমাতা মুজিব মহিলা কলেজ হয়ে পাতাবাড়ি মরিচ্যা বাজার রাস্তা দিয়ে কলেজে যাতায়াত করি।

তার অভিযোগ, একটি রাস্তার কাজ শেষ হতে এত সময় লাগার কথা নয়। সেটা কি দেখার কেউ নেই। একই অভিযোগ এলাকার বাসিন্দা আহসান সুমন, সরওয়ার আলম, কহিনুর আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, শফিউল ইসলাম আজাদ, রেহেনা বেগম, হানিফ আজাদসহ আরো বেশ কয়েকজনের।

এ প্রসঙ্গে সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, রাস্তার কাজ শুস্ক পরিবেশ এবং রোদের মধ্যে করতে হয়। বৃষ্টিতে কাজ করা হলে তা বেশিদিন টেকে না। বুটুমিন ও কার্পেটিং উঠে রাস্তা পূর্বের অস্থায় পরিনত হয়। তাই বৃষ্টির কারনে কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে। বর্তমান বর্ষা মৌসুম হওয়ায় যে কোন সময় বৃষ্টি নেমে বসে। তাই কাজও সেভাবে আগানো যাচ্ছেনা। খুব দ্রুতই সড়কটির নির্মান কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।