ইতিহাসে প্রতিদিন (শনিবার) ০৫ অক্টোবর’২০১৯

বিএসএল নিউজ শনিবার, অক্টোবর ৫, ২০১৯

বিশ্ব শিক্ষক দিবস
১৯৯৪ সাল থেকে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষিত । ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনে ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। তারপূর্বে ১৯৬৬ সালের এই দিনে ইউনেস্কোর উদ্যোগে প্যারিসে জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদানের ব্যাপারে বেশ কিছু সুপারিশ সহকারে সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষা ও শিক্ষকদের অবস্থানের প্রকৃতি নিয়ে এই বিশ্ব সংস্থা বিরামহীনভাবে কাজ করছে বলে বিশ্বের শিক্ষক সমাজের কাছে ইউনেস্কো একটি অধিক মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা। ১৯৪৫ সালের ৬ নভেম্বর জাতিসংঘ পরিবারের অপরাপর করছে বলে বিশ্বের শিক্ষক সমাজের কাছে ইউনেস্কো একটি অধিক মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা। ১৯৪৫ সালের ৬ নভেম্বর জাতিসংঘ পরিবারের অপরাপর সংস্থার মতোই ইউনেস্কোর প্রতিষ্ঠা। ইউনেস্কোর দায়িত্ব হচ্ছে আন্তর্জাতিক বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগিতা সংস্থা হিসেবে কাজ করা। এই লক্ষ্যে উন্নয়ন ও শান্তির সংস্কৃতি চর্চা করে ইউনেস্কো শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে বহুমুখী ও জোরদার করে। প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরের প্রথম অধিবেশনেই ১৯৪৬ সালে ইউনেস্কো শিক্ষকদের নৈতিক, বৈষয়িক ও পেশাগত স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে একটি বিশ্ব ‘শিক্ষক সনদ’ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে । এই ঘটনার ধারাবাহিকতাই গৃহীত হয় শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সংক্রান্ত সুপারিশমালা। শিক্ষকতার মান উন্নয়নসহ শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগ যে আদৌ অনুৎপাদনশীল নয় এবং শিক্ষকতা পেশাকে অধিকতর মর্যাদা সম্পন্ন ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারলে যে জাতীয় প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে বাড়ানো সম্ভব তার একটি দৃষ্টান্তও দেয়া হয়েছে ইউনেস্কোর প্রতিবেদনে। তাতে বলা হয়েছে ১৯৬৯ সালে যেখানে পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার একই পর্যায়ে ছিলো সেখানে শিক্ষাক্ষেত্রে অধিকতর বিনিয়োগের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার আয় যে মাথাপিছু শুধু ৩% বেড়েছে তাই নয়, পাকিস্তান শিক্ষায় কম বিনিয়োগের কারণে সাক্ষরতার ক্ষেত্রেও তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে ছিলো। উল্লেখ্য যে, তখন পাকিস্তানে সাক্ষরতার হার ছিলো ৩% ও দক্ষিণ কোরিয়ার ৯৪% ।

(বিচারপতি সাত্তারের মৃত্যু)
রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মৃত্যুদিন আজ। ১৯৮৫ সালের এই দিনে বাধ্যক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিচারপতি সাত্তারের জন্ম ১৯০৬ সালে বীরভূমে। তিনি ১৯২৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ এবং ১৯২৯ সালে আইনে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার পর কলকাতা জজকোর্টে আইন ব্যবসায় জড়িত হন। সেইসঙ্গে শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত কৃষক-প্রজা পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৩৯-এ কলকাতা কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, ১৯৪০-৪২-এ কলকাতা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাইব্যুনালের এ্যাসেসার এবং ১৯৪৫ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের চিফএক্সিকিউটিভ অফিসার হন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৫০ সালে চলে আসেন ঢাকায়। ঢাকা হাইকোর্টে আইন ব্যবসায় অল্প সময়ে সুনাম অর্জন করেন। ৫৫ তে পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৭ সালে হন আই আই চুন্দ্রীগড়ের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষামন্ত্রী। পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন ১৯৬৮ সালে। পরের বছর হন পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার । ৭৩ সালে পাকিস্তান থেকে চলে আসেন ঢাকায় । আবার শুরু করেন সরকারি চাকরি। জীবনবীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, সাংবাদিকদের বেতন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন বেশ কিছুদিন । ৭৫’র ১০ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট আবু সাদত সায়েমের বিশেষ সহকারীর পাশাপাশি আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন । ৭৭ সালের ৩ জুন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত করেন। ৭৮ সালে তার নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)। কিছুদিন পর ৭৮’র ১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হলে বিচারপতি সাত্তার জাগদল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি হন নবগঠিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান । ৮১’র ৩০ মে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ৮১’র ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮২’র ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদের
সামরিক অভ্যুখানে ক্ষমতাচ্যুত হন রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি সাত্তার।

১৭১৩ খ্রীস্টাব্দের এই দিনে খ্যাতনামা ফরাসী লেখক ও দার্শনিক ড্যানিস ডিডেরোট জন্ম গ্রহণ করেন। তার তত্ত্বাবধানে বহু লেখকের সহায়তায় বিশ্বকোষ রচনা তার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এ বিশ্বকোষ রচনায় ২১ বছর সময় গেলেছিল। ড্যানিস ডিডেরোট অনেক উপন্যাস ও নাটক লিখে খ্যাতিমান হয়ে আছেন। ১৭৮৪ খ্রীস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।

১৮৬৪ খ্রীস্টাব্দের এই দিনে প্রখ্যাত ফরাসী রাসায়নবিদ ও শিল্পকর্মী লুইস লুমির জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৮৯৫ খ্রীস্টাব্দে তার ভায়ের সহযোগিতায় এমন একটি যন্ত্র আবিস্কার করেন যা দিনে অসংখ্যা ছবি তোলার পাশাপাশি চলচ্চিত্র ধারণ করা সম্ভব ছিল। ঐ বছরই তিনি ‘ষ্টেশনে ট্রেনের আগমণ’ শীর্ষক একটি চলচ্চিত নির্মান করেন এবং এটিই ছিল প্রথম পর্দায় প্রদর্শিত ছায়াছবি। তিনি ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

২০০০ সালের এই দিনে সাবেক ইউগোশ্লাভিয়ার এক নায়ক ও বলকানের কষাই বলে খ্যাত শ্লোভোদান মিলোশেভিচ কয়েক মাস ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। তিনি ১৯৯০ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সার্বিয়ার গভর্ণর ছিলেন এবং পরবর্তীতে ইউগোশ্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। বসনিয়া যুদ্ধের সময় মিলোশেভিচ সার্বদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় সে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল। মিলোশেভিচ কসোভো যুদ্ধের পর বিরোধীরা যাতে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে না পারে সেজন্য ব্যাপক চেষ্টা চালায়। এজন্য সে সংবিধান পরিবর্তনের পাশাপাশি সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। নির্বাচনে পরাজিত হয়েও মিলোশেভিচ ক্ষমতা না ছাড়ায় জনগণ তার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে শেষ পর্যন্ত সে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ইউগোশ্লাভিয়ার সাবেক এই স্বৈরশাসক পদত্যাগ করার পর আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে বিচারের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বহুদিন আত্মগোপন করে ছিল। কিন্তু গা ঢাকা দেয়ার নয় মাস পর তার স্থলাভিষিক্তরা দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পশ্চিমা সরকারগুলোর কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য লাভের জন্য মিলোশেভিচকে হেগের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে হস্তান্তর করে। যুদ্ধাপরাধি হিসাবে মিলোশেভিচ ছিল প্রথম ব্যক্তি যাকে হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করা হয়। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া বিলম্ব হওয়ার কারণে তার শাস্তি কার্যকর হওয়ার আগেই সে মৃত্যুবরণ করে ।

হিজরী ৬০ সালের এই দিনে ইরাকের কুফাবাসীদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্ম(সা:) এর দৌহিত্র ইমাম হোসেন(আ:) তার চাচাতো ভাই মুসলেম বিন আকিলকে ঐ এলাকায় প্রেরণ করেন। এর আগে কুফার জনগণ ইমাম হোসেন(আ:) এর কাছে লেখা অসংখ্য চিঠিতে ইমামকে কুফায় আসার আমন্ত্রণ জানায় এবং তারা ইমাম হোসেন(আ:)এর নেতৃত্বে উমাইয়াদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। মুসলেম বিন আকিল কুফায় পৌছেই ইমাম হোসেন(আ:) এর চিঠি পাঠ করে শোনান এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ ইমাম হোসেনের বায়াত গ্রহণ করে। এরপর তিনি এত বিপুল সংখ্যক জনতার বায়াত গ্রহেণর খবর ইমাম হোসেন(আ:)এর কাছে পৌছে দেন। কিন্তু এর কিছু দিন পর কুফার শাসক ইবনে যিয়াদের হুমকি ও প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে কুফার জনগণ ইমাম হোসেন(আ:)কে দেয়া বায়াত উপেক্ষা করে। এমন কি তাদের অনেকে কারবালায় ইমাম হোসেন(আ:) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ।

১৯৮৪ সালের ৫ই অক্টোবর বাংলাদেশে জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, অধুনালুপ্ত দৈনিক আজাদের সম্পাদকম-লীর সভাপতি, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মুজীবুর রহমান খাঁ ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মুজীবুর রহমান খাঁর জন্ম ১৯১০ সালের ২৩ অক্টোবর নেত্রকোনা জেলার উলুয়াটি গ্রামে। তিনি ১৯৩৬ সালের ৩১ অক্টোবর মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায় সহসম্পাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকাটিতে কর্মরত ছিলেন ।

ফরাসি বিপ্লবের সূচনা (১৭৮৯)
ব্রিটেনের বিরুদ্ধে স্পেনের যুদ্ধ ঘোষণা (১৭৯৬)
ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর লর্ড কর্নওয়ালিসের মৃত্যু (১৮০৫)
ঘূর্ণিঝড়ে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে ১৭ হাজার লোকের মৃত্যু (১৮৬৪)
পর্তুগালের রাজা মালোয়েলের ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পলায়ন (১৯১১)
তুরস্কের শাসন থেকে বুলগেরিয় স্বাধীনতা ঘোষণা। প্রথম ফার্দিনান্দ জার নির্বাচিত (১৯১০)
জার্মান ও ফরাসি বিমানের আক্রমণের মধ্য দিয়ে প্রথম আকাশ যুদ্ধ শুরু (১৯১৪)
প্রেসিডেন্টের এক অধ্যাদেশ বলে রক্ষীবাহিনীর সকল সদস্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত (১৯৭৫)
সাংবাদিক-সাহিত্যিক মুজিবুর রহমান খাঁর মৃত্যু (১৯৮৪)
কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ফতিমা বিবি ভারত সুপ্রিমকোর্টের প্রথম মহিলা বিচারপতি মনোনীত (১৯৮৯)
একীভূত জার্মানির প্রথম সংসদ অধিবেশন (১৯৯০)
ডেটন শান্তিচুক্তির পর বসনিয়ায় নিজস্ব তত্ত্বাবধানে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত (২০০২)