অবৈধ স্থাপনা রক্ষা করতে পরিস্থিতি ঘোলাটে করা হয়েছে– মেয়র সাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদক মঙ্গলবার, অক্টোবর ৮, ২০১৯

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা সিটি কর্পোরেশনের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বিসিসির সাবেক কাউন্সিলর এস.এম জাকিরের নির্মানাধীন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে নানা মহলে বিশেষ করে সাংবাদিকদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিষয়টি পরিস্কার হওয়া উচিত। মেয়র বলেন আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়।

আমরা নিয়ম মাফিক ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু অবৈধ স্থাপনাটি রক্ষা করতে বিষয়টি তিনি ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করে উদ্যত পরিবেশ সৃষ্টি করে বিরুপ আলোচনার জন্ম দেয়া হয়েছে। মূলত প্রভাবশালী হবার কারনে জাকির এই সুযোগটি ব্যবহার করেছেন। তার মূল উদ্দেশ্যে ছিল, সাংবাদিকদের সাথে মেয়র ও কাউন্সিলরদের সম্পর্ক নষ্ট করা। সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

এই নগরীতে অবৈধ কিছু করে কোন প্রভাবশালী তা বৈধ করতে পারবে না জানিয়ে মেয়র বলেন একটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে যেসব ধাপ বা কার্যক্রম করতে হয় কর্পোরেশন তা সবই করেছে। অবৈধ স্থাপনা ভাঙ্গতে গিয়ে কর্পোরেশনের কর্মীরা যে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তা একজন সাবেক কাউন্সিলরের কাছ থেকে আমিসহ আমরা কেউই আশা করিনি। কিন্তু জাকির নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছাই পূরন করতে চেয়েছেন।

মেয়র বলেন, জাকির মূলত পরিবেশ ঘোলাটে করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বন্ধ করার প্রয়াস চালিয়েছে। তার স্থাপনা যতোটুকু অবৈধ তাই নিয়ম অনুযায়ী উচ্ছেদ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে কর্পোরেশনের কাজে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সকল সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন। মেয়র বলেন, আমাকে সংশোধন করার জন্য যে কেউ নিউজ করতে পারে। কিন্তু মঙ্গলবারের প্রকাশিত কয়েকটি পত্রিকায় উদ্দেশ্যে প্রনোদিতভাবে সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের টার্গেট করেছে। এই সংবাদ ব্যক্তিগত আক্রোসের জেরে করা হয়ে বলে আমরা মনে করছি বলেন মেয়র।

রিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নগরীর কলেজ রো, এলাকার বাসিন্দা ও ২০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেনের নির্মাণাধীন অবৈধ ভবন উচ্ছেদের সার্বিক বিষয় নিয়ে সংবাদকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ উপরোক্ত কথা বলেন।

মঙ্গলবার বিকেলে এনেক্স ভবনের সভা কক্ষে সাংবাদিকদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্যানেল মেয়র-১ কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটু বলেন, সিটি কর্পোরেশন আইনগতভাবে যা যা করা দরকার, সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নিয়েছিল। কিন্তু অবৈধ উচ্ছেদ যাতে না হয়, সেই জন্য সু-পরিকল্পিতভাবে প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের কাছে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মতবিনিময় সভায় বিসিসির প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকনসহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের বেশীরভাগ ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ।

উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে নগরীর ২০নং ওয়ার্ডের কলেজ রো এলাকায় বিসিসির সাবেক কাউন্সিলর জাকিরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে অভিযানে যায় সিটি কর্পোরেশন। সেসময় জাকির ও পরিবারের বেশ কয়েকজনসহ তার অনুসারীরা বিসিসির কর্মীদের উপর অর্তকিত হামলা চালায়। ওই হামলায় উচ্ছেদ শাখার দুই কর্মী আহত হয়।

এখবর পেয়ে বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং দোষীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ওই স্থান ত্যাগ না করার ঘোষনা দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। একপর্যায়ে বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মী হামলা ও মারধরের নিন্দা জানিয়ে ঝাড়ু প্রদর্শন করে বিক্ষোভ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে যাওয়ার আশংকায় বিসিসির প্যানেল মেয়র-১ কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটু ও বিসিসির প্যানেল মেয়র-২ রফিকুল ইসলাম খোকনসহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা বিক্ষোভকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্ঠা করেন। সর্বশেষ মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করলে বিক্ষোভরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কাউন্সিলরদের সাথে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।