অপকর্ম ঢাকতে মিডিয়া ম্যানেজ মিশনে ওসি শিশির পাল !

আলা-আমিন রুবেল রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

নানা কারনে বির্তকিত বরিশালের উজিরপুরের ওসি শিশির পাল নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে এখন মিডিয়া পারায় দোড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।সংবাদকর্মীদের করুনায় নিজের পক্ষে সাফাই লিখতে মিশন নিয়ে মাঠে রয়েছেন তিনি। এমনকি একটি চক্র শিশির পালের সেই মিশনে নিজেদের সামিল করেছেন। তাদেরও মিশন এখন উজিরপুরের ওসি হিসাবে শিশির পালকেই বহাল রাখতে। তিনি কর্মরত থাকলে তাদেরও আয় রোজগার ভাল হবে এমনটাই ধরে নিয়েছেন চক্রটি।

এদিকে উজিরপুরের আলোচিত ওসি শিশির পালের অজানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে। বেরিয়ে আসা তথ্যে শিশির পালের পুলিশে চাকুরি জীবনের দায়িত্ব পালনে ব্যার্থতার পাল্লাই ভারি বেশি। প্রভাবশালী এই ওসি পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ থেকে পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বরিশাল কোতয়ালী থানায় এসআই হিসাবে চাকুরি করা অবস্থায়ও তিনি (শিশির পাল) নানা বির্তকিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। তবে কোন ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি বিভাগীয় কোন ব্যবস্থা। সর্বশেষে ১১ সেপ্টেম্বর এক নারীকে মারধর করার ঘটনায় উজিরপুর থানার ওসি শিশির পাল’র বিরুদ্বে ৩ সদেস্যর তদন্ত কমিটি গঠন হয়। আর এই কমিটির সুষ্ঠু তদন্তে শিশির পালের সকল গোমড় ফাঁস হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আর তাই তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন প্রকাশের আগে নিজেকে নির্দেশ করতে মিডিয়ায় নিজের পক্ষে সাফাই লিখতে উজিরপুরের কিছু সংবাদকর্মীদের কৌশলে ব্যবহার করছেন চতুর এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি ওই সংবাদকর্মীদের ব্যবহারকরে থানার অফিসকক্ষে প্রকাশ্যে বিধবা বৃদ্ধাকে নির্যাতনের ঘটনা ঢাকার অপ তৎপরতা চালাচ্ছেন।

থানার গোপন সূত্র জানায়, শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা কয়েকজন সাংবাদিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে তার (ওসি) পক্ষে নিউজ করানোর জন্য কথিত নেতাদের ঠিকাদারী দেন ওসি শিশির কুমার পাল। এ ছাড়া অভিযোগকারী নির্যাতীতা নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারের চেষ্টা করে ব্যার্থ হন তারা। পরে কৌশল পরিবর্তন করে ওই নারীকে লাখ টাকা দেয়ার প্রস্থাব দেন তিনি। বিনিময়ে বরিশাল পুলিশ সুপার ও বরিশালের ডিআইজির কাছে গিয়ে ওসি নির্দোষ কথাটি বলতে হবে। এর আগে নির্যাতিতা নারী বরিশাল পুলিশ সুপারের কাছে ওসির বিরুদ্ধে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন।

নির্যাতিতা বৃদ্ধা রাশিদা বেগম রোববার দুপুর ২টার দিকে এই প্রতিবেদককে জানান, বর্তমানে গড়িয়ার পাড় এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে রয়েছে তিনি। রোববার ওসি শিশির ও কনস্টেবল জাহিদ লোক নিয়ে তাকে গড়িয়ারপাড় বাসস্ট্যান্ডের একটি ক্লাবে ডেকে নেয়। এ সময় ওসির সঙ্গে এক কাউন্সিলর ও এক সাংবাদিক নেতাসহ সরকার দলীয় ৪/৫ জন নেতা-কর্মী ছিলো।

তিনি বলেন, ‘ওসি আমাকে অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন। আমি তার প্রস্তবা প্রত্যাখান করলে ভয়ভীতি দেখায়। আমি আমার অবস্থানে অনড় থাকলে ওসি কৌশল পাল্টিয়ে এক পর্যায়ে আমাকে লাখ টাকা দেয়ার প্রলোভন দেখান। বিনিময়ে ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে ওসি নির্দোষ এবং “পুলিশ নয়, জনগন মারধর করেছে” বলতে শিখিয়ে দেয়। এতে রাজি না হলে ওসি দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।

তিনি আরো বলেন, ওসি নিজের অপকর্ম ঢাকতে উজিরপুরে তার অনুগত সাংবাদিকদের নিয়ে গোপন বৈঠক করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার চালিয়েছে। দু-একটি গণমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে আমার নামে মিথ্যাচার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওসি মনগড়া বক্তব্য দিয়ে আমার চরিত্র হনন করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উজিরপুরের এক সাংবাদিক জানান, শনিবার ওসি উজিরপুরের কতিপয় মিডিয়াকর্মীদের নিয়ে গোপন বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে ওসি তার পক্ষে নিউজ করার জন্য একাধিক সাংবাদিক নেতাকে ঠিকাদারি দিয়ে আর্থিক লেনদেন করে বলেও ওই সংবাদ কর্মী জানিয়েছেন।