বৃষ্টির অভাবে কৃষি ও জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব

অতিথি প্রতিবেদক সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯

বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আষাঢ়-শ্রাবন দুমাস বর্ষাকাল। সে হিসেবে ভাদ্রের প্রথম দিন থেকে শরতের শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চল সহ দেশের উপক’লভাগ জুড়ে ভাদ্র ছাড়িয়ে আশ্বিনের মধ্যভাগ পর্যন্তই হালকা থেকে মাঝারী বর্ষন অব্যাহত থাকে। এবার তার ব্যতিক্রম যথেষ্ঠ। চলতি মৌসুমে শুধুমাত্র জুলাই মাসেই বরিশাল অঞ্চলে ৫১৯ মিলিমিটারের স্থালে ৫৬০ মিলি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। যা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৮%বেশী।

এর আগের মাসগুলোতেই বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল স্বাভাবিকের নিচে। কিন্তু শ্রাবন শেষ হতেই দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়ায় এখন শরতের উপস্থিতি লক্ষনীয়। এমনকি মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় থাকলেও দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ থেকে সোমবার সকালের মধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভবনার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু রবিবার দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে ছিল শরতের প্রতিচ্ছবি।

এমনকি দক্ষিণাঞ্চলে বর্ষার দানাদার খাদ্য ফসল আমন-এর আবাদ চলে পুরো ভাদ্র জুড়েই। এবার সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলেই ভাদ্র ছাড়িয়ে আশ্বিনেও রোপা আমনের আবাদ হবে বলে আশা করছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। কারন আষাঢ়ের শুরু থেকে বৃষ্টি কম হওয়ায় আমন বীজতলাই তৈরী হয়নি দক্ষিণাঞ্চলের বেশীরভাগ স্থানে।

যদিও বোরো’র আধিক্যে দেশের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসলের স্থান থেকে আমন এখন দ্বিতীয়স্থানে। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলে এখনো আমন প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল। চলতি মৌসুমেও দক্ষিনাঞ্চলের ৬টি জেলায় ৭ লাখ ৮ হাজার হেক্টরে আমন আবাদের মাধ্যমে সোয়া ১৬ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ স্থির রয়েছে। আর আমনে ভর করেই এক সময়ের ‘বাংলার শষ্য ভান্ডার’ বরিশাল অঞ্চল এখনো খাদ্য উদ্বৃত্ত এলাকা।

কিন্তু কাঙ্খিত বৃষ্টির অভাবে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে এবার আমন আবাদ অনেক পিছিয়ে। ১৭ আগষ্ট পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার ৭২৫ হেক্টরের মত আবাদ সম্পন্ন করতে পেরেছেন দক্ষিণের কৃষকগন। যা মূল লক্ষমাত্রার মাত্র ১৭%-এর মত। ফলে ভাদ্রের বাকি দিনগুলোতে অবশিষ্ট ৮৩% জমির রেপন সম্পন্ন করা নিয়ে সংশয় রয়েছে কৃষিবীদদের মধ্যে। কারন আশ্বিনের রোপনে ভাল ফলন হয়না।

আবহাওয়া বিভাগ থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত পূর্বাভাসে বরিশাল সহ দক্ষিণ-পশ্চিমের অধিকাংশ স্থানে দমকা হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়ে রাখা হয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরবর্তি ৭২ ঘন্টায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভবনা নেই বলেও জানান হয়েছে।

অপরদিকে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজস্থান ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দূর্বল হয়ে মৌসুমী বায়ুর অক্ষের সাথে মিলিত হয়েছে। মৌসুমী বায়ুর বর্ধিতাংশ রাজস্থান, হরিয়ানা উত্তরপ্রদেশ বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।