পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ আবেদনের নামে ডিজিটাল প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৯

পরীক্ষার ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের নামে চলছে প্রতারনার মহোৎসব। কম্পিউটারের দোকান গুলোতে আবেদনকারীদের বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। অথচ ওই আবেদন পৌচাচ্ছে না বোর্ড পর্যন্ত। ফলে অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর পুনঃনিরীক্ষার বিষয়টি অজানাই থেকে যায়।

এমনই একটি ঘটনার প্রমান মিলেছে নগরীর ব্রজমোহান (বিএম) কলেজের সামনে। সদ্য এইচএসসি পাশ করা এক শিক্ষার্থী তার উত্তর পত্র পুনঃমুল্যায়নের জন্য আবেদন করলেও পৌছেনি বোর্ড কিংবা টেলিটক এর সার্ভারে। বরং ভূয়া এসএমএস দেখিয়ে ওই পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে আবেদন বাবদ হাতিয়ে নিয়েছে ৭০০ টাকা। এমনকি ভূয়ামি ধরা পড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত উত্তম মাধ্যমের শিকারও হয়েছে সাদ্দাম নামের ওই প্রতারক।

শিক্ষার্থীর বাবা নগরীর গোরস্থান রোডের বাসিন্দা ছগির হোসেন জানান, তার মেয়ে সিনথিয়া রহমান এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ৪ দশমিক ৮৩ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু এসএসসিতে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এজন্য এইচএসসি’র ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেন। তাদের বিশ্বাস ছিলো পুনঃনিরীক্ষায় সিনথিয়া’র জিপিএ-৫ এর নম্বর উঠে আসবে।

ছগির হোসেন জানান, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরে ১৮ জুলাই বিএম কলেজের সামনে বিএম স্টুডিও এন্ড কম্পিউটার নামক দোকান থেকে পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেন। বিষয় প্রতি ১৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণ থাকলেও ওই প্রতিষ্ঠানের অপারেটর সাদ্দাম বিষয় প্রতি ২শ টাকা করে দাবী করে। পরে ১৭০ টাকা চুক্তিতে ৭০০ টাকা দিয়ে চারটি বিষয়ে আবেদন করেন এবং নিয়ম অনুযায়ী ০১৫৩১-৮৩১২৬৯ টেলিক নম্বর থেকে এসএমএস এর মাধ্যমে আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশ হলেও সিনথিয়ার ফলাফল আসেনি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সন্দেহ হয়। পরে ফলাফল পুনঃনিরীক্ষার জন্য আবেদন করা সিনথিয়ার অপর এক বান্দবির কাছে আসা মোবাইল এসএমএস এর মাধ্যমে কম্পিউটার দোকানের অপারেটর সাগরের প্রতারনা ধরে ফলেন সিনথিয়ার পরিবার।

ছগির হোসেন বলেন, বিষয়টি বুঝতে পেরে টেলিটক কেয়ারে যোগাযোগ করি। তাদের মাধ্যমে জানতে পারি যে সিনথিয়ার কোন আবেদন তাদের সার্ভারে নেই। এমনকি বোর্ড থেকেই একই কথা জানান। পরে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসা বিএম কলেজের সামনের বিএম স্টুডিও এন্ড কম্পিউটার এর সাগরকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে প্রতারনার বিষয়টি স্বীকার করে। এসময় স্থানীয় উত্তেজিত জনতা সাগরকে গণধোলাই দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বোর্ড কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার কারণেই প্রতারনার সুযোগ পাচ্ছে আবেদন ফরনপুরনকারী বহিরাগত কম্পিউটারা দোকানগুলো। কেননা পুনঃনিরীক্ষার জন্য যারা আবেদন করেন তাদের সকলের ফলাফল প্রকাশ করে না বোর্ড কর্তৃপক্ষ। শুধুমাত্র যাদের ফলাফল পরিবর্তন হয় তাদেরটাই প্রকাশ করা হয়। সেই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে প্রতারকরা। ভূয়া এসএমএস দিয়ে আবেদন না পাঠিয়েই হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস মিয়া বলেন, এ ধরনের দুটি ঘটনা আমারাও জানা আছে। দু’দিন আগেই এমন ঘটনা শুনেছি। তবে যারা প্রতারনার শিকার হয়েছে তাদের পুনরায় সুযোগ দেয়ার বিষয়টি আইনে নেই। তাই তাদের পলাফল পুনঃনিরীক্ষাও আর হচ্ছে না।

তিনি বলেন, প্রথমত যারা প্রতারনা করেছে তাদের ধরতে হবে। এছাড়া ফরম পুরনের সময় অভিভাবক বা শিক্ষার্থী উভয়কেই সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে টেলিটক থেকে পাঠানো কনফারমেশন এসএমএসটি যাচাই করে নিতে হবে। আমরা পারি বোর্ডের নিজস্ব ওয়েব সাইটে প্রতারনা ও প্রতারকদের বিষয়ে সতর্ক করে নোটিশ প্রদান করতে। এর পর থেকে পুনঃনিরীক্ষার আবেদন গ্রহনের সাথে সাথে ওই নোটিশ দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন বোর্ড চেয়ারম্যান।