Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
Youtube google+ twitter facebook Bangla Font Help




ঈদের আনন্দ নেই নিহত রিফাতের পরিবারে

বিএসএল ডেস্ক ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৯

ঈদ-উল-আজহা যখন আনন্দের বার্তা নিয়ে মানুষের দ্বারে কড়া নাড়ছে, শোকে নিভৃতে কাঁদছে তখন রিফাতের গোটা বাড়ি। আনন্দের পরিবর্তে চারদিকটায় যেন ছড়িয়ে দিচ্ছে বিষাদের সূর। যে ছেলেটি খুশিতে গোটা বাড়িটা মাতিয়ে রাখতেন, সেই ছেলে নেই। একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর সেই যে বিছানায় পড়েছেন মা ডেইজী, আর উঠতেই পারেননি তিনি। দেড় মাসের বেশি সময় কেটেছে, কিন্তু ছেলে হারানোর শোকটা তিনি কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছেন না।

কোরবানিতে ছেলের বিশেষ পছন্দ ছিল রুটি আর কলিজা ভুনা। রান্না করে নিজের হাতে খাওয়াতেন ছেলেকে। ছেলেও নিজ হাতে খাইয়ে দিতেন মা’কে। মায়ের কাছে সেসব এখন কেবলই স্মৃতি। কিছুতেই মানতে পারছেন না, রিফাত নেই। তিনি বলেন, আমি অপেক্ষায় থাকি, রিফাতের মোটরসাইকেলের শব্দ এই বুঝি কানে ভেসে এলো, মনের অজান্তেই বলে ফেলি, ‘মৌ (নিহত রিফাতের ছোটো বোন), মা; দরজা খোল, রিফাত আসছে’।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেরে যারা কুপিয়ে মেরেছে, তাদের কেউ যেন রেহাই না পায়, প্রত্যেককে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক। ‘আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার দেখে মরতে চাই, খুনীদের ফাঁসি চাই’, বলতে বলতে ফের কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

রিফাতের বোন ইসরাত জাহান মৌ। তিনি বরগুনা সরকারি কলেজে এবছর উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। কলেজের সেই গেট মাড়িয়েই তাঁকে ক্লাসে যেতে হয়, যে গেটের সামনে দেড় মাস আগে তাঁর ভাই রিফাতকে কুপিয়ে জখম করেছিল একদল দুর্বৃত্ত। মৌ বলেন, প্রত্যেকবার কোরবানির দিন সকালে ভাইয়া আমার হাতের নুডুলস খেয়ে নামাজ পড়তে যেত, সকালে উঠেই বলত, ‘মৌ নুডুলস রান্না কর, আমি রান্না করে দিতাম। নুডুলস খেয়ে নামাজ পড়তে যেত।

নামাজ পড়া শেষে বাবা কাকাদের সাথে গরু জবাই করে মাংস নিয়ে ফিরে বলত, ‘মৌ কাবাব বানা, তোর হাতের রান্না করা নুডলস আর কাবাব আমার খুব পছন্দ। আমি জানতাম আমার ভাইয়া আমার হাতের নুডলস আর কাবাব পছন্দ করত। খুব যত্নে বানিয়ে যখন ওর সামনে দিতাম। ভাইয়া নিজের হাতে মা ও আমাকে খাইয়ে দিত। ভাইয়া মারা যাওয়ার পর আমি আম ও নুডলস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। কারণ, ভাইয়ার এ দুটো খাবার খুব পছন্দ ছিল। ভাইয়ার পছন্দের খাবার আমার সামনে এলে আমি খেতে পারি না। কথাগুলো বলতে বলতে কান্না ভেঙে পড়েন মৌ।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দুই ভাইবোন আর মা, এই চারজনের সংসারটা ছিল এক টুকরো সুখের ছবি। চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন, আমার মা অসুস্থ, তবুও প্রতিদিনই ভাইয়ার কবরের পাশে গিয়ে কমপক্ষে তিন-চার ঘণ্টা কান্না করেন। বিছানায় হঠাৎই কখনো ডুকরে, আবার কখনো হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তকে কী শান্তনা দেবো, কে শান্তনা দেবে বলুন। শান্তনা শুধু এতটুকুই ‘আমার ভাইকে যারা মেরেছে, আমি দ্রুত তাদের গলায় ফাঁসির দড়ি দেখতে চাই’।

রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ পুত্র শোকে অনেকটা পাথর হয়েই আছেন। একদিকে ছেলে হারানোর শোক বইছেন নিজে, অপরদিকে রিফাতের মৃত্যুতে শোকে বিহবল গোটা পরিবারকেও দেখতে হয় তাঁর। তাই চাইলেও কাঁদতে পারেন না তিনি। তবু চোখের জল কার কথা শোনে! রিফাতের প্রসঙ্গে জানতে চাইতেই তিনি কেঁদে ওঠেন। বলেন, ঈদে আমার পা ছুঁয়ে সালাম করত রিফাত। আমি ওরে সেলামি দিতাম। ওর সখ ছিল পাঞ্জাবি ও এক জোড়া জুতো, এর বেশি কিছু কখনোই চাইতো না।

বাবা-ছেলে মিলে একসঙ্গে ঈদের নামাজে যেতাম, ফিরে একসঙ্গে সবাই খেতে বসতাম। ও নেই, আমার তো আসলে অবশিষ্ট আর কিছুই নেই। কারণ রিফাত ছিল আমার একমাত্র ছেলে। দুচোখের পাতা ভারি হয়ে ওঠে দুলাল শরীফের। দু’ফোঁটা জল চোখের কোন গড়িয়ে মাটিতে পড়ে। কথা বলতে পারেন না তিনি। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। প্রাণপণ কান্না চাপিয়ে বলেন, ছেলেকে তো আর ফেরত পাবো না, হত্যাকারীদের বিচার দেখতে পারলে কেবল আত্মার শান্তি।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে তখন কেবল রাত নেমেছে। বরগুনার বড় লবণগোলা এলাকায় রিফাতের বাড়িতে প্রবেশপথে ঠিক বাঁ পাশের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে রিফাতের মরদেহ। পরিবারেরই কেউ একজন যত্ন করে আনারশের চারা রোপণ করেছে। চারাগুলো বাড়ছে প্রতিদিন, সতেজ হয়ে উঠছে একটু একটু। আর ঈদকে কেন্দ্র করে নিহত রিফাতের পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ফেরার পথেও কানে ভেসে আসে রিফাতের মায়ের আহাজারি, ‘আরে আমার বাবা, আমার বাবায় কই হারাইয়া গ্যালো, তোমরা আমার বাবারে আইন্যা দেও’। রিফাতের মা জানেন, তাঁর ছেলে কোনোদিনই আর ফিরবে না, কেননা, সে যেখানে চলে গেছে, সেখান থেকে আর কেউ ফেরেনি কোনোদিনই। তবুও তো ‘পরানের ব্যথা মরে না’ক সে যে কেঁদে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে’।

পাঠকের মন্তব্য







rss goolge-plus twitter facebook
Design & Developed By:

Editor-In-Chief: Al Amin Rubel
Editor: Mashiur Rahaman
Address: 4nd Floor, Habib Bhaban, Sadar Road, Barishal-8200
Phone: 01711-993140, 01712-847708

Email: [email protected],

Executive Editor: Arifin Tusar
Joint Editor: MR Sourav
Managing Editor: Shakil Mahmood Bachchu
 Co-Editor: Shahidul Islam Titu

টপ
  বরিশাল নগরের ১৪ পয়েন্টে অটোরিক্সার বিট বানিজ্য : প্রশাসন নিরুপায়   স্বেচ্ছাসেবক দলের জন্মদিনে বরিশালে নানা আয়োজন   পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ আবেদনের নামে ডিজিটাল প্রতারণা   বিএমপিতে ই-ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মত বিনিময় সভা   আ’লীগের সংঘর্ষে শ্যামনগরে রণক্ষেত্র: গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩০   এক রাত মসজিদে রেখেও বাঁচানো গেল না রুবেলকে   বিএমপি’র হাবিবুর রহমান সহ পদোন্নতী পেলেন ২০ পুলিশ কর্মকর্তা   গৌরনদীতে দুর্ঘটনায় আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু   রাণীশংকৈলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু   ধর্ষিতাকে স্ত্রী ও জন্ম নেয়া সন্তানের মর্জাদা না দেয়া ধর্ষকের যাবজ্জীবন   নিজ ঘরে ছাত্রীকে ধর্ষণের পর বেপাত্তা মাদ্রাসা অধ্যক্ষ   হাইকোর্টে মিন্নির জামিন শুনানি কাল   বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ   প্রবীনরা দেশের সন্মানিত ব্যক্তি, তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে : মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ   উজিরপুর-বানারীপাড়ার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে ডিজিটালাইজড… শাহে আলশ   নতুন ছবিতে ঝড় তুলেছেন সুচিত্রার নাতনি রিয়া সেন   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ১৪৩ পদে জনবল নিয়োগ   আইসক্রিম না দেওয়ায় প্রেমিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা   ইলিশের প্রভাবে কমেছে অন্য মাছের দাম   ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা